উপসর্গ: সংজ্ঞা ও মনে রাখার সহজ কৌশল
উপসর্গ: অর্থহীন অথচ অর্থ-দ্যোতক যে সকল অব্যয়সূচক শব্দাংশ কৃদন্ত বা নাম শব্দের পূর্বে বসে শব্দগুলোর অর্থের সংকোচন, প্রসারণ কিংবা অন্য কোন পরিবর্তন সাধন করে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে উপসর্গ বলে।
উদাহরণ: 'দেশ' একটি শব্দ। এর পূর্বে বিভিন্ন উপসর্গ যোগ করলে নতুন শব্দ গঠিত হয়। যেমন: আদেশ, বিদেশ, প্রদেশ, উপদেশ, নির্দেশ ইত্যাদি।
উপসর্গের প্রকারভেদ
উপসর্গ প্রধানত তিন প্রকার:
- সংস্কৃত উপসর্গ: ২০টি।
- বাংলা উপসর্গ: ২১টি।
- বিদেশি উপসর্গ: ফারসি, আরবি, ইংরেজি ইত্যাদি।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ (২১টি) মনে রাখার কৌশল
পদ্ধতি ১: গল্পের মাধ্যমে
"প্রিয় সুহাস (সু, হা, স), আদর (আ) নিবি (নি, বি)। তুই আমাদের অজপাড়া (অজ) গাঁয়ের আশা ভরসা (ভর, সা)। রাম ছাগলদের অনাচার (অনা), কুকথা (কু), আড়চোখে (আড়) তাকানোকে পাত্তা দিবি না। তোর জন্য আবডালের (আব) ঊনপঞ্চাশটি (ঊন) পাতিলেবু (পাতি) ও কদবেল (কদ) পাঠালাম। অচেনা (অ) জায়গায় মন আনচান (আন) করলে খাবি। ইতি (ইতি) অঘারাম (অঘা, রাম)।"
পদ্ধতি ২: ছন্দের মাধ্যমে
পারিভাষিক শব্দ: পর্তুগিজ শব্দ মনে রাখার ম্যাজিক কৌশল
পারিভাষিক শব্দ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতকগুলো বিদেশি শব্দের সরাসরি কোনো প্রতিশব্দ না থাকায় ওই শব্দগুলোকে বোঝানোর জন্য যেসব বাংলা শব্দ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে পারিভাষিক শব্দ বলে।
🎬 টেকনিক ১: পাদরির গল্প
পাদরি, বালতি, আনারস, গীর্জা, গুদাম, আলমারি, চাবি, আলপিন, পাউরুটি।
গল্প: পাদরি বালতি ভর্তি আনারস নিয়ে গীর্জায় গেল। গীর্জার গুদামে ছিল এক আলমারি। চাবি দিয়ে আলমারি খুলে ভেতর থেকে এক আলপিন পাওয়া গেল। ব্যাস, পাদরিটি মনের সুখে আলপিন দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পাউরুটি আর আনারস খেতে লাগল।
🎥 টেকনিক ২: পর্তুগিজ ব্লকব্লাস্টার সিনেমা!
(নিচের বোল্ড করা শব্দগুলো পর্তুগিজ শব্দ)
তার পোড়া "কামিজ" খুলে তাকে "কাতান" শাড়ি পরালাম। এরপর "কেদারায়" বসালাম। "গামলা" ভর্তি "কাবাব" এনে "পিরিচ" এ পরিবেশন করলাম।
এই দৃশ্য খেয়াল করছিল এক "কেরানি", "কামরায়" বসে। তার গলায় ছিল "ক্রুশ"। সে "জানালা"র "গরাদ" দিয়ে এসব দেখছিল এবং "তোয়ালে" দিয়ে তার ঘাম মুছছিল। এখন তো আয়া আর কাজকর্ম করতে পারবে না। কি উপায়? "নিলাম" এ উঠাও, কেউ কিনল না তো "পাচার" করে দাও।
আয়াকে "পেয়ারা"র বাক্সে ভরে, "পেরেক" দিয়ে ঠুকে পাচার করে দেয়া হলো বিদেশে। নামার পরই "পিস্তল" ঠেকাল এক "ফালতু" "ফিরিঙ্গি"। যে "ফিতা" দিয়ে বেঁধে আয়াকে অপহরণ করে নিয়ে গেল "বারান্দায়"।
ফিরিঙ্গিটা হুকুম করতে লাগল— "আমার জন্য "তামাক" নিয়ে আয়, জামার "বোতাম" টা লাগিয়ে দে। "বাসন" গুলো মেজে দে।" আয়া এসব সহ্য করতে না পেরে "বোমা" মেরে উড়িয়ে দিল ব্যাটাকে! এরপর সে মনের সুখে "বেহালা" বাজাতে লাগল।
এইসব খেয়াল করছিল এক "বর্গা" চাষী "মার্কা" মারা "মিস্ত্রি"। সে জাহাজের "মাস্তুল" ঠিক করছিল। এসব "মস্করা" দেখে সে বলেই উঠল, "মাইরি" বলছি, সবই "যীশু"র ইচ্ছা। আয়া মিস্ত্রিকে "সাবান" দিয়ে গোসল করিয়ে দিল। তার "টুপি" তে করে "সালসা" ও "সাগু" এনে তাকে খাওয়াল। অবশেষে দুজনে "কপি" আর "পেঁপে" চাষ করে সুখে থাকতে লাগল।



Thank You