সাধারণ বিজ্ঞান সিলেবাস
| ভৌত বিজ্ঞান | জীব বিজ্ঞান | আধুনিক বিজ্ঞান |
| ০৫ | ০৫ | ০৫ |
পদার্থ কাকে বলে?
যার ভর আছে, স্থান দখল করে, বল প্রয়োগ করলে বাধাঁ সৃষ্টি করে এবং যা পাঁচটি ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করা যায়, তাকে পদার্থ বলে। অন্যভাবে বলা যায় চিরায়ত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যা কিছু কোনও স্থান বা আয়তন দখল করে এবং জড়তা (বা ভর) ও মহাকর্ষ ধর্ম প্রদর্শন করে, তাকে পদার্থ বলে।
পদার্থের অবস্থা ও পরিবর্তন
যার ভর আছে, যা কোন স্থান দখল করে এবং অবস্থান আছে তাকে পদার্থ বলে।
| বৈশিষ্ট্য | পদার্থ | শক্তি |
|---|---|---|
| ভর | ভর আছে | ভর নাই |
| স্থান দখল | করে। | করে না |
| উদাহরণ | বায়ু, পানি | তাপ, বিদ্যুৎ, আলোক বা আলো |
পদার্থের অবস্থা
পদার্থ সাধারণত ৩টি অবস্থায় থাকতে পারে। যথা: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। তবে পদার্থের আরও একটি অবস্থা আছে। যার নাম প্লাজমা।
- কঠিন পদার্থ: কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন, আকার এবং দৃঢ়তা রয়েছে। এর অণুসমূহ পরস্পরের সন্নিকটে অবস্থান করে। যেমন: বালু, পাথর, লবন ইত্যাদি।
- তরল পদার্থ: তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই। তরল পদার্থের অণুসমূহ পরস্পরের সন্নিকটে থাকলেও তাদের মধ্যকার আকর্ষণ কঠিন পদার্থের মত প্রবল নয়। যেমন: পেট্রোল, কেরেসিন, ভোজ্য তেল, পানি।
- গ্যাসীয় পদার্থ: গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও নির্দিষ্ট আকার নেই। গ্যাসীয় পদার্থের অণুসমূহের দূরত্ব অনেক বেশি তাই আকর্ষণ শক্তি অনেক কম। ফলে তারা প্রায় সম্পূর্ণ মুক্তভাবে চলাচল করে। যেমন: অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, মিথেন।
পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের প্রধান কারণ তাপ। পানি একমাত্র পদার্থ যা প্রকৃতিতে কঠিন (বরফ), তরল (পানি), ও বায়বীয় (জলীয় বাষ্প) এই তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়।
গলনাংক: যে তাপমাত্রায় কঠিন হতে তরল পদার্থের সৃষ্টি হয় তাকে পদার্থের গলনাংক বলে। পানির গলনাংক ০° সেন্টিগ্রেড।
স্ফুটনাংক: যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ ফুটতে থাকে তাকে স্ফুটনাংক বলে।
ঊর্ধ্বপাতন: কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থ উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয়ে বাষ্পে সরাসরি রূপান্তরিত হয় তখন তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। উদাহরণ: কর্পুর, গন্ধক, আয়োডিন, ন্যাপথালিন, এমোনিয়াম ক্লোরাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্সেনিক, বেনজোয়িক এসিড প্রভৃতি।
পদার্থের শ্রেণিবিভাগ:
পদার্থের শ্রেণিবিভাগকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- ১. মিশ্রণ
- ২. খাঁটি বস্তু (খাঁটি বস্তু আবার দুই প্রকার। যথা: মৌল ও যৌগ)
মিশ্রণ: দুই বা ততোধিক পদার্থেকে যে কোন অনুপাতে একত্রে মিশালে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়। বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ। কারণ বায়ুতে উপাদান মৌল সমূহ যেমন: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে।
খাঁটি বস্তু
মৌল বা মৌলিক পদার্থ: যে বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোন সহজ বস্তুতে রূপান্তরিত করা যায় না, তাকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলা হয়। যেমন: হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সোনা, তামা, লোহা ইত্যাদি। পৃথিবীতে বর্তমানে মৌলিক পদার্ত ১১৮টি। এদের মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। কৃত্রিম উপায়ে প্রাপ্ত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ২০।
| সবচেয়ে হালকা মৌল | হাইড্রোজেন (H) |
| সবচেয়ে হালকা মৌলিক গ্যাস | হাইড্রোজেন (H) |
| সবচেয়ে ভারী মৌলিক গ্যাস | রেডন (RN) |
যৌগ বা যৌগিক পদার্থ: যে বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলা হয়। যেমন: হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এ দুইটি মৌল নির্দিষ্ট ভর অনুপাতে পরস্পর যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। অতএব পানি একটি যৌগিক পদার্থ।
পদার্থের পরিবর্তন
পদার্থের পরিবর্তন দুই ধরনের। যথা: ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন হয় এবং রাসায়নিক পরিবর্তন হয়।
ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন: যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের শুধু বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় কিন্তু নতুন কোনো পদার্থের পরিণত হয় না, তাকে ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন বলে।
উদাহরণ:
- পানিকে ঠাণ্ডা করে বরফে এবং তাপ দিয়ে জলীয়বাষ্পে পরিণত করা।
- একটি লোহর টুকরোকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করে চুম্বকে পরিণত করা।
- তাপ দিয়ে মোম গলানো।
রাসায়নিক পরিবর্তন: যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।
উদাহরণ:
- লোহায় মরিচা ধরা। মরিচা হলো আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড (Fe₂O₃·nH₂O)। লোহায় মরিচা ধরার জন্য পানি ও অক্সিজেন দরকার।
- দুধকে চানায় পরিণত করা।
- চাল সিদ্ধ করে ভাতে পরিণত হয়।
- দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো।
| আবিষ্কার | আবিষ্কারক | দেশ | সময়কাল |
|---|---|---|---|
| হাইড্রোজেন | হেরি ক্যাভেন্ডিস | যুক্তরাজ্য | ১৭৬৬ |
| অক্সিজেন | জে বি প্রিস্টলি | যুক্তরাজ্য | ১৭৭৪ |
| বৈদ্যুতিক কোষ | আলেকসাড্রো ভোল্টা | ইতালি | ১৮০০ |
| পারমানবিক ভর | জন ডাল্টন | যুক্তরাষ্ট্র | ১৮০৩ |
| তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র | ফ্যারাডে | যুক্তরাজ্য | ১৮৩৪ |
| শুষ্ক কোষ | জর্জেস লেকল্যান্স | ফ্রান্স | ১৮৬৪ |
| প্লাস্টিক | আলেকজান্ডার পার্কস | যুক্তরাজ্য | ১৮৬২ |
নোটঃ আমাদের ইবুকগুলো অন্য কোন সাইটে শেয়ার করা নিষেধ। শুধু মাত্র আপনি পড়ার জন্য ডাউনলোড করতে পারেন।


Thank You