Basic Computer & S hort Notes

Raisul Islam Hridoy 0

 

Author:- Raisul Islam Hridoy


কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা

কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা

⬇️ Download PDF

আধুনিক বিশ্বে জ্ঞান বিজ্ঞানের একটি অবিস্মরণীয় উদ্ভাবন হলো কম্পিউটার। বর্তমান সভ্যতার এমন কোন কার্য পরিসর নেই, যেখানে সার্থকভাবে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয় না। প্রগতিশীল মানব জীবনের প্রত্যেকটি ধাপের সাথেই কম্পিউটার জড়িত। মানব সভ্যতার এক বিশেষ আর্শীবাদ হলো কম্পিউটার।

কম্পিউটারঃ

মানব সভ্যতার চূড়ান্ত পর্বে কম্পিউটার হলো একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র বিশেষ। অর্থাৎ কম্পিউটার হলো বহুমুখী কাজের ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যার মাধ্যমে উপাত্ত গ্রহণ, বিন্যাস ও বিশেষণ করার পর ঐ উপাত্তকে ডিস্কে বা স্মৃতিতে জমা রাখা হয় প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় এবং ই-মেইল, ইন্টারনেট কার্য সম্পন্ন হবে।

কম্পিউটার একটি ইংরেজি শব্দ। এটি গ্রীক শব্দ Compute থেকে Computer রূপে উদ্ভব হয়েছে। গ্রীক Compute অর্থ হলো গণনাকারী ইলেকট্রিক যন্ত্র। সুতরাং অর্থগতভাবে বলা যায়- সুশৃঙ্খল এবং সুসংবদ্ধ তথ্য সমন্বিত হিসেব নিকাশের ইলেকট্রিক যন্ত্র হলো Computer

মূলতঃ কম্পিউটার হলো বিদ্যুৎ চালিত একটি বহুমুখী ক্ষমতা সম্পন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র যার মাধ্যমে বিশাল তথ্য ভান্ডার সংগ্রহ করে তার বিন্যাস, বিশেষণ, ব্যাখ্যা, সংযোজন, বিয়োজন করে প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করা হয়।

ইংরেজিতে বলা যায়- Computer is an automatic problem solving machine whose main purpose is data processing or processing information and which is represented electrically.

বর্তমান বিশ্বের সিভিলাইন সমাজে এর সাহায্যে কম্পোজ করা, গানশোনা, হিসাব-নিকাশ করা, ডাটা সংগ্রহ, বিন্যাস করা, প্রোগ্রাম তৈরি করা, টিভি দেখা, সময় দেখা, ভিডিও গেইম করা, ই-মেইল এবং ইন্টারনেট ইত্যাদি কার্যক্রম যথার্থভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

কম্পিউটারের মৌলিক ক্ষমতা

কম্পিউটারের নিজে থেকে কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই। এটি একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র বিধায় স্বয়ংক্রিয় ভাবে কতিপয় কাজ করতে পারে। তবে কম্পিউটার মানুষের মতো নয় এবং মানুষের বিকল্পও নয়। মানুষ তথা ব্যবহারকারী যেভাবে কম্পিউটারকে নির্দেশ দান করবেন সেভাবে কম্পিউটার কাজ করে থাকে।

এখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তাই হলো বড় কম্পিউটার। মানুষের সৃষ্টি হলো কম্পিউটার। ব্যবহারকারীর নির্দেশনায় কম্পিউটার কাজ করে থাকে। তথ্য ও ফলাফল স্মৃতিতে ধরে রাখে, উপাত্তের ব্যাখ্যা বিশেষণ করে এবং প্রয়োজনে পুনরায় ব্যক্ত করে।

তথাপি অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের চাইতে কম্পিউটারের কিছু আলাদা বিশেষত্ব আছে যাদেরকে কম্পিউটারের মৌলিক ক্ষমতা হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ কম্পিউটারের মৌলিক ক্ষমতা হিসেবে নিচের দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকেই বিবেচনা করা যায়। যেমন-

  1. কাজের গতির দ্রুততা;
  2. নির্ভুল কাজ করার ক্ষমতা;
  3. দ্রুত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা;
  4. ক্লান্তিহীনতা ও প্রেরণ ক্ষমতা;
  5. বিশাল স্মৃতির ভাণ্ডার সংরক্ষণ;
  6. অনুভূতিহীন এবং নির্বোধ ইলেকট্রনিক যন্ত্র;
  7. বিশ্বায়ন প্রবণতা;
  8. তথ্যের দ্রুত বিশেষণ ও উপস্থাপন ক্ষমতা।

কম্পিউটারের ব্যবহারিক গুরুত্ব

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার একটি বিস্ময়কর ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সিভিলাইজ সমাজে জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। কাজেই আমাদের মানব সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে কম্পিউটারের ব্যবহারিক গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানব সমাজে কম্পিউটার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বা এর ব্যবহারিক গুরুত্বের কয়েকটি দিক নিম্নে আলোচনা করা হলো-

  1. শিক্ষাদানের ক্ষেত্রেঃ বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষকরে শিক্ষা গবেষণা, শিক্ষাদান, তথ্য পরিবেশন, তথ্যাদির সংযোজন, সংরক্ষণ, প্রশড়বপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, গোপনীয়তা রক্ষা, ই- মেইল ইন্টারনেট এ তথ্যাদির প্রেরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।
  2. চিকিৎসা ক্ষেত্রেঃ চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার আরেক বিস্ময় সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রোগের লক্ষণ সংরক্ষণ সনাক্তকরণ, রোগ নির্ণয়, রোগের প্রতিকার, ঔষধপত্র সনাক্তকরণ ইত্যাদি কার্যে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।
  3. যোগাযোগের ক্ষেত্রেঃ বর্তমান বিশ্বে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কম্পিউটার। এর মাধ্যমে ই-মেল, ইন্টারনেট করে মূহুর্তের মধ্যেই বিশ্বের এক প্রান্তের খবর অন্য প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
  4. অফিস ব্যবস্থাপনায়ঃ বিভিন্ন শিল্প কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিংবা প্রশাসনিক অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস ব্যবস্থাপনায় কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
  5. দৈনন্দিন হিসাব নিকাশঃ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন হিসেব নিকাশ তথা গাণিতিক সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।
  6. তথ্য ব্যবস্থাপনাঃ বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য প্রযুক্তির যুগ। এ যুগে কম্পিউটারের মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথ্যের ব্যবস্থাপনা হয়ে থাকে।
  7. প্রকাশনা শিল্পেঃ বর্তমানে প্রকাশনা শিল্পকে কম্পিউটার অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে। পাণ্ডুলিপি কম্পোজ, ডাটা প্রসেসিং, কাটিং, পেস্টিং, নতুনত্ব আনয়ন, কালার প্রসেসিং এবং প্রিন্টিং ইত্যাদি যাবতীয় কার্যে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
  8. প্রোগ্রাম তৈরিতেঃ মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিনড়ব প্রোগ্রাম তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
  9. ফলাফল প্রকাশ ও সনদ প্রদানেঃ বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং দ্রুত সনদ প্রদানে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হচ্ছে।
  10. ফাইল সংরক্ষণঃ বিভিন্ন অফিস আদালতের জরুরি কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষণে কম্পিউটারের অবদান অনস্বীকার্য।

মানব সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে আমাদের জীবন হয়েছে প্রগতিশীল। বিশ্বটা হয়েছে গোবাল ভিলেজ। এক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার মানব জীবনকে আরো বেশি প্রগতিশীল করেছে।

কম্পিউটারের ক্রমবিকাশের ইতিহাস (সংক্ষিপ্তরূপে)

কম্পিউটারের ক্রমবিকাশের ইতিহাস অনেক পুরানো। কম্পিউটারের উদ্ভব এবং বিস্তারের পেছনে মানুষের শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত প্রচেষ্টা অব্যহত ছিল।

  • প্রাচীনকাল: নুড়ি, ঝিনুক, দড়ির গিট, ছড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার।
  • অ্যাবাকাস: খ্রীষ্ট পূর্ব ৫০০ অব্দে মিশর/চীনে উদ্ভাবিত।
  • ১৬১৪: নেপিয়ারের হাড় (Napiers Bone)।
  • ১৬৪২: প্যাস্কালের গণনা যন্ত্র।
  • ১৬৭০: লিবমিজের গণনা যন্ত্র।
  • ১৭৮৬: ডিফারেন্স ইঞ্জিন।
  • ১৮১২: চালর্স ব্যাবেজের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন।
  • ১৯৪৬: ENIAC (জন মর্ডসলি ও প্রেসপার একার্ট)।
  • ১৯৫১: UNIVAC – প্রথম বাণিজ্যিক কম্পিউটার।

চালর্স ব্যাবেজ – কম্পিউটারের জনক

চালর্স ব্যাবেজ (১৭৯২-১৮৭১) ছিলেন ইংরেজ গণিতবিদ। তিনি ডিফারেন্সিয়াল ইঞ্জিনঅ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিন উদ্ভাবন করেন। তাঁর পরিকল্পনায় ছিল:

  • নিয়ন্ত্রণ অংশ
  • গাণিতিক অংশ
  • স্মৃতি অংশ
  • গ্রহণমুখ
  • নির্গমনমুখ

বিভিন্ন ধরনের সফ্টওয়্যার

  1. সিস্টেম সফ্টওয়্যার: অপারেটিং সিস্টেম, ড্রাইভার ইত্যাদি।
  2. প্যাকেজ সফ্টওয়্যার: ওয়ার্ড, এক্সেল, লোটাস ১-২-৩ ইত্যাদি।

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়াবলী

তথ্য প্রযুক্তি: কম্পিউটার ও টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিনিময়।

ইন্টারনেট: বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের সমন্বয়।

ই-মেইল: বৈদ্যুতিক ডাক ব্যবস্থা।

বিশ্বগ্রাম: তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীকে একটি গ্রামে পরিণত করা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

New Posts

বাংলা সাহিত্য বহুনির্বাচনী প্রশ্নোত্তর

বাংলা সাহিত্য বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর সকল চাকরীর পরীক্ষার জন্য বাছাই করা ৩০০০ প্রশ্নোত্তর জিরো টু ইনফিনিটি টীম ...