বাংলা সাহিত্য কবি-সাহিত্যিক

Raisul Islam Hridoy 0
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় - বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী

বাংলা সাহিত্য: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি

  1. জন্ম: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার অন্তর্গত দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  2. রচনা পরিচয়: তাঁর পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায়। শরৎচন্দ্রের পরিবার ছিল অত্যন্ত দরিদ্র।
  3. শিক্ষা জীবন: দারিদ্র্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় শরৎচন্দ্রকে ভাগলপুরে মাতুলালয়ে থেকে ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়েছিল। সেখানে তিনি ছাত্র-বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু পরে পিতার সঙ্গে বেনারসপুরে ফিরে এসে হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুলে পড়তে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পিএইচই টাকা আবার ভাগলপুরেই ফিরে যেতে হয়েছিল। তেজনারায়ণ জুবিলি কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এ কলেজেই এফ.এ. পড়তে থাকেন। কিন্তু অর্থাভাবে কলেজের লেখাপড়া তিনি শেষ করতে পারেননি।
  4. কর্মজীবন: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিছুকাল জমিদারি মেয়েস্তায় চাকরি করেছিলেন। ১৯০৩ সালে পিতার মৃত্যুর পর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রেঙ্গুনে গিয়ে একাউন্ট জেনারেল অফিসে চাকরি গ্রহণ করেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে স্থায়ী ভাবে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে অস্থায়ী কার্যে কলকাতায় ফিরে আসেন।
  5. স্মৃতিশী জীবন: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পিতার সাথে ভাগলপুরে হওয়ায় কিছুদিনের জন্য স্মৃতিশী হয়ে গৃহত্যাগ করে চলে যান। স্মৃতিশী দলের সঙ্গে বহুস্থান ভ্রমণ করেন এবং সমাজ জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
  6. সাহিত্য সাধনা: ‘যুমুনা’ নামক মাসিক পত্রিকাকে কেন্দ্র করে শরৎচন্দ্রের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। প্রথমে ‘অনিলা দেবী’ ছদ্মনামে তিনি সমালোচনা ও প্রবন্ধ লিখতেন। বেনামীতে ‘মন্দির’ গল্পটা লেখার জন্য ১৯০৯ সালে শরৎচন্দ্র ‘কুন্তলীন’ পুরস্কার লাভ করেন। শরৎচন্দ্রের ‘বড়দিদি’ গল্পটা ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লেখক হিসেবে পরিচিতি ও সুনাম অর্জনের পর রেঙ্গুন থেকে কলকাতা ফিরে এসে লেখালেখি একমাত্র পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। শরৎচন্দ্র মূলত ঔপন্যাসিক। তিনি বাংলা উপন্যাস সাহিত্যকে গতি দিয়েছেন, প্রাণ সঞ্চার করেছেন। শরৎচন্দ্রের লেখার ধরণ এবং রচনারীতির মাধুর্য রবীন্দ্রোত্তর গৌরবতম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ করে তার গোপন কথাকে সকলের সামনে উপস্থাপন করেছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সত্য, সরল, শান্ত ভাষায় তারা গভীর মহানুভূতির সাথে সমাজ হৃদয়ের কথা বলতে পেরেছেন। তাইতো তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখক।
  7. প্রাপ্ত সম্মান: বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণ পদক’ লাভ করেন। বর্ধমান সাহিত্য পরিষদ ১৯৩৪ সালে তাঁকে বিশেষ সদস্যপদ এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডি. লিট’ ডিগ্রি প্রদান করে।
  8. মৃত্যু: বাংলা সাহিত্যের এই অপরাজেয় কথাশিল্পী ও জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার পার্ক নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রচনাবলী

বিভাগ রচনাসমূহ
উপন্যাস বড়দিদি, মেজদিদি, বিরাজ বৌ, পল্লী সমাজ, চন্দ্রনাথ, পরিণীতা, শ্রীকান্ত (১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ পর্ব), পথের দাবী, শিক্ষক, অন্ধকার, বৈকুণ্ঠের উইল, চরিত্রহীন, দত্তা, দেবদাস, গৃহদাহ, বামুনের মেয়ে, পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন, দেনাপাওনা, নববিধান, বিপদাস, শুভদা, শেষের পরিচয় ইত্যাদি।
ছোট গল্প বিরাজী, মহেশ, বৈরাগী, মন্দির, ছবি ইত্যাদি।
প্রবন্ধ বিষবৃক্ষ হইল, স্বামী, কালীনাথ, অনুরাধা, সতী ও পর্দা, হেমলেখার গল্প ইত্যাদি।
প্রকাশ নারীর মূল্য, সম্পাদকী, তরুণের বিদ্রোহ, স্বদেশ ও সাহিত্য, শরৎচন্দ্র ও ছাত্র সমাজ ইত্যাদি।
নাটক বিজয়া, যেড়েশী, রমা ইত্যাদি।
বাল্যসাহিত্য বাল্যসাহিত্য উপন্যাস (১১ ও ১২ অধ্যায়), রসচন্দ্র (পূর্ণা), ভালমন্দ (পূর্ণা) ইত্যাদি।
পত্রাবলি শরৎচন্দ্রের পত্রাবলি।
অন্যান্য শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ, শরৎচন্দ্রের অপ্রকাশিত রচনা ইত্যাদি।

ছন্দে ছন্দে শরৎ রচনাবলী

কিছু ছন্দে হতে চায় দেবদাস
গতিশক্তি বলে, পড়ে বেঁচে বিদ্যাস
শ্রীমশান্ত চায় রামের সুমতি
চরিত্রহীন এর কড় নাড়ি হবে গতি ॥

শ্রীকান্ত পথে চায় বৈকুণ্ঠের উইল
দেনাপাওনা না পেয়েনার আছে গুড়ডেল।
বড়দিদি চায় মেজদিদি ছবি
বিরাজ বউ পরিণীতা স্বামী তার কবি।

গৃহদাহ – তে মন আটকায় বিপদ
জীবন পথের দাবী পূর্ণ
হয় যেন শেষ প্রশ্ন।

উপন্যাস সারাংশ

১.

সূচ ৪- বামুনের মেয়ে প্রকাশকীয়া পরিচিতা দশক দ্বারেক বিরাজ বৌ করে ঘরে নিয়ে আসে দেবদাস। ঘরে নিয়ে আসলে শ্রীকান্তের সাথে দত্তার দেনাপাওনা নিয়ে ঝগড়া হয়। তাই বড় দিদি পল্লী সমাজের পথিতে স্মাইল এর কাছে বিপদ নেয় সে চরিত্রহীন। বিচারে দুটি অপরাধীকে প্রশ্ন করা হয় (১) তাদের পেশের পরিচয় কোথায় হয় (২) শেষ প্রশ্ন কি ছিল কথা শেষ হবার পূর্বেই বিপদাস পথের দাবী নিয়ে আসে। তখন পথিতে স্মাইল বলেন বৈকুণ্ঠের উইল সই করলে এই গৃহদাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

২.

উপন্যাসঃ বড়দিদি ও মেজদিদি অন্ধকারে নিয়ে বিরাজ বৌয়ের কাছে গেল। সেখানে দেবদাস, বিপদাস ও শ্রীকান্ত ছিল। তারা সবাই এই পরিণীতা বামুনের মহেশ চরিত্রহীন স্বামীকে পল্লী সমাজের সামনে শেষ প্রশ্ন করতে চাইলো। কিন্তু কিছু হলে এই রামের সুমতি হলো না, সে শেষের পরিচয়ে ও গৃহদাহ বললো।

৩.

উপন্যাস ::- বৈকুণ্ঠের উইল চরিত্রহীন চন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত, দেবদাস, বিপদাস ও শুভদার সঙ্গে শেষের পরিচয়ে বিরাজ বৌ-এর দেনাপাওনার শেষ প্রশ্ন পল্লীসমাজের নববিধানে পথের দাবীতে দত্তা নিষ্কৃতি পেল।

৪.

চরিত্রহীন দেবদাস ও বিপদাসের সাথে চন্দ্রনাথের বড়দিদি ও মেজদিদি অন্য রকম দেনাপাওনার সম্পর্ক থাকায় পল্লীসমাজ তাদের গৃহদাহ করলো। শ্রীকান্ত ও শুভদা তাদের শেষের পরিচয় পেয়ে পথের দাবী তুলে শেষ প্রশ্ন করলো। ফলে নব বিধানে নিষ্কৃতি মিললো। এর দত্তা বৈকুণ্ঠের উইল করিয়া বিরাজ বৌকে পরিণীতা হিসেবে গ্রহণ করল।

উপন্যাস – শরৎচন্দ্র ও বামুনের মেয়ে, অন্ধকারীয়া, পরিণীতা, দত্তা, চরিত্রহীন, দেবদাস, দেনা-পাওনা, শ্রীকান্ত, বড় দিদি, পল্লীসমাজ পথিতে স্মাইল, শেষের পরিচয়, শেষ প্রশ্ন, গৃহদাহ।

গল্প সারাংশ

১.

সূচ ৪ কিছুর ছেলের নাম ছবি এবং স্বামীর নাম কালীনাথ। তারা মেজদিদির কাছে রামের সুমতির গল্প শোনে।

২.

প্রশ্ন: বিরাজীর মেজদিদি কিছু দুই ছেলে মহেশ ও পর্দায় আর এক বেয়ে সতী, মন্দিরের জমি নিয়ে মামলার ফলে তারা আজ বর্ষদের মূল্য

৩.

ছোটগল্প :- বাইরে স্মৃতি ছবিতে একশনী বৈরাগী সতী বিরাগী মহেশকে নিয়ে স্বামী পর্দামে সঙ্গে মামলার ফল পেয়ে বড়দিদি মেজদিদি ও পথিতে সন্ন্যাসের অনুরাধায় ভ্রাতৃবির সঙ্গে কাশীনাথ মন্দিরে গেল।

৪.

প্রবন্ধ: অনুরাধা বিদ্রোহ করলো স্বদেশ ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে নারীর মূল্য বোঝাতে।

বিরাজবৌ কিছুর ছেলে শুভদাকে শেষের পরিচয়ে দত্তা দিল। বড় দিদি, মেজদিদি- শেষ প্রশ্ন দেবদাসকে চরিত্রহীন বলে পল্লীসমাজ থেকে বের করে দিল। পতিতশক্তি, গৃহদাহ করে পথের দাবী দেনাপাওনা থেকে নিষ্কৃতি নিয়ে শ্রীকান্তকে বৈকুণ্ঠের উইল দিল।

গল্প ছবি, বিরাগী, পর্দায়, সতী, মহেশ, মন্দির, মামলার ফল, কিছুর ছেলে, মেজদিদি গল্পঃ-শরৎচন্দ্র ও বিদ্বেষ ছেলে, ছবি, কাশীনাথ, মেজদিদি, রামের সুমতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

New Posts

SSC English 1st Paper Model Test

The Path to Becoming a Good Citizen To be a good citizen, you have to prepare yourself to do good work in society. B...