Job Digest for all kinds of job Part-01

Raisul Islam Hridoy 0

 

সকল চাকরির পরীক্ষার জন্য বাছাই করা ৫০০০ প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যা সহ) সমাধান

পিএসসির নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক প্রতিটি টপিক থেকে প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছে।

২০০০+ গণিতের ব্যাখ্যাসহ শর্টকাট যুক্ত করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ ইবুকের দাম-

১ম খন্ড-১০০/-

২য় খন্ড-৫০-

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশ

১. ‘আনারস’ ও ‘চাবি’ শব্দ দুটি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে—

ক) পর্তুগিজ ভাষা হতে

খ) আরবি ভাষা হতে

গ) দেশি ভাষা হতে

ঘ) ওলন্দাজ ভাষা হতে তথ্য

ব্যাখ্যাঃ-পর্তুগিজ : আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।

*    পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ গীর্জার পাদ্রি গুদামের বড় কামারার আলমারীর চাবি খুলে বালতি ভর্তি পাউরুটি, আনারস আতা, আচার, কাবাব এবং কেরাণিকে দিয়ে ইস্পাতের অন্য বাসনে আলকাতরা,আলপিন, ফিতা নিয়ে বেরিয়ে এসে সাবান মার্কা তোয়ালে পেতে বসলেন।
ব্যাখ্যা: গীর্জা, কামরা, পাদ্রি, গুদাম, আলমারী, চাবি, বালতি, পাউরুটি, আনারস, আতা, আচার, কাবাব, কেরানী, ইস্পাত, বাসন, আলকাতরা, আলপিন, ফিতা, সাবান, মার্কা এবং তোয়ালে পর্তুগীজ শব্দ।

*    স্পেশাল টেকনিকঃ

আতা, আচার, আয়া, আলকাতরা, ইস্পাত, ইস্ত্রি, কামিজ, কাতান, কেদারা, গামলা, কাবাব, পিরিচ, কেরানি, কামরা, ক্রুশ, জানালা, গরাদ, তোয়ালে, নিলাম, পাচার, পেয়ারা, পেরেক, পিস্তল, ফালতু, ফিরিঙ্গি, ফিতা, বারান্দা, তামাক, বোতাম, বাসন, বোমা, বেহালা, বর্গা, মার্কা, মিস্ত্রি, মাস্তুল, মস্করা, মাইরি, যীশু, সাবান, টুপি, সালসা, সাগু, কপি, পেঁপে।

*    এবার সিনেমা হবে, সিনেমা:-

"আতা" এবং "আচার", চুরি করে খেল "আয়া"। গেল মেজাজ গরম হয়ে। ঢেলে দিলাম মুখে "আলকাতরা"। তাতেও রাগ কমল না। দিলাম "ইস্পাতের" "ইস্ত্রি" দিয়ে এক ছ্যাঁকা।

এমা এমা এমা! পুড়ে গেল, পুড়ে গেল! এখন কি করা? তার পোড়া "কামিজ" খুলে তাকে "কাতান" শাড়ি পড়ালাম। এরপর "কেদারায়" বসালাম।

"গামলা" ভর্তি "কাবাব" এনে "পিরিচ" এ পরিবেশন করলাম। এই দৃশ্য খেয়াল করছিল এক "কেরানি", "কামরায়" বসে। তার গলায় ছিল "ক্রুশ"। সে "জানালা"র "গরাদ" দিয়ে এসব দেখছিল। এবং "তোয়ালে" দিয়ে তার ঘাম মুছছিল। এখন তো আয়া আর কাজকর্ম করতে পারবে না। কি উপায়?

 "নিলাম" এ উঠাও

কেউ কিনল নাতো

"পাচার" করে দাও

যদি পুলিশ ধরে ফেলে?

আয়াকে "পেয়ারা"র বাক্সে ভরে, "পেরেক" দিয়ে ঠুকে, পাচার করে দেয়া হল।

[এখন ছবির শ্যুটিং হবে বিদেশে। কোত্থাও যাবেন না]

বিদেশে নামার পরই "পিস্তল" ঠেকাল এক "ফালতু" "ফিরিঙ্গি"। যে "ফিতা" দিয়ে বেঁধে আয়াকে অপহরণ করে নিয়ে গেল। আয়াকে ফেলে রাখল "বারান্দায়"। ফিরিঙ্গিটা হুকুম করতে লাগল:-

- এই আমার জন্য "তামাক" নিয়ে আয়

- জামার "বোতাম" টা লাগিয়ে দে

 - "বাসন" গুলো মেজে দে

আয়া এসব হুকুম সহ্য করতে পারল না। Boom! "বোমা" মেরে উড়িয়ে দিল ব্যাটা ফিরিঙ্গিকে। এরপর সে মনের সুখে "বেহালা" বাজাতে লাগল।

এইসব খেয়াল করছিল এক "বর্গা" চাষী "মার্কা" মারা "মিস্ত্রি"। সে জাহাজের "মাস্তুল" ঠিক করছিল। এসব "মস্করা" দেখে সে বলেই উঠল, "মাইরি" বলছি, সবই "যীশু"র ইচ্ছা

মিস্ত্রিকে আয়ার মনে ধরল। মিস্ত্রির হাল দেখে আয়া তাকে "সাবান" দিয়ে গোসল করিয়ে দিল। তার "টুপি" তে করে "সালসা" & "সাগু" এনে তাকে খাওয়াল।

এরপর- দুজনে খুশি খুশি দিন যাপন করতে লাগল, "কপি" আর "পেঁপে" চাষ করে।

গল্প আর সিনেমাটা মনে রাখবেন আর শব্দ গুলো নোট খাতায় লিখে রাখবেন। এরপর গল্প বা সিনেমাটা না দেখে নিজে নিজে শব্দগুলো দেখে গল্পটা মনে করার চেষ্টা করবেন।

আশা করি, যে এই সিনেমা ও গল্পটা মনে রাখতে পারবে, পর্তুগিজ শব্দ তার কাছে কিচ্ছুনা।

২. শুদ্ধ বানান কোনটি?

ক) মূমুষু

খ) মুমূর্ষু

গ) মুমূর্ষ

ঘ) মূমূর্ষ

ব্যাখ্যাঃ-মুমূর্ষুঠিক বানান

৩. গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?

ক) শব পোড়া

খ) মড়া দাহ

গ) শবদাহ

ঘ) শব মড়া

ব্যাখ্যাঃ-শবদাহ শব্দটি গুরুচন্ডালী দোষ মুক্ত। কারণ শব ও দাহ দুটি শব্দই তৎসম শব্দ

৪. ‘কবর’ নাটকটির লেখক—

ক) জসীমউদ্দীন।

খ) কাজী নজরুল ইসলাম

গ) মুনীর চৌধুরী

ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

ব্যাখ্যাঃ-কবর নাটকটি মুনীর চৌধুরীর লেখা। ১৯৫৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় এই নাটকটি মুনীর চৌধুরী রচনা করেন।

৫. উভয় কূল রক্ষা’ অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন কোনটি?

ক) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ

খ) চাল না চুলো, চেঁকি না কুলো

গ) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে

ঘ) বোঝার উপর শাকের আঁটি

ব্যাখ্যাঃ-উভয় কূল রক্ষার্থে ব্যবহৃত হয় সাপও মারে লাঠিও না ভাঙে

৬. রত্নাকর’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ—

ক) রত্না + কার

খ) রত্ন + কর

গ) রত্না + আকার

ঘ) রত্ন + আকর

ব্যাখ্যাঃ-অ + আ = আ (রত্ন+আকার = রত্নাকার)

৭. শুদ্ধ বাক্য কোনটি?

ক) দুর্বলবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল

খ) দুর্বলতাবশত অনাথিনী বসে পড়ল

গ) দুর্বলতাবশত অনাথ বসে পড়ল

ঘ) দুর্বলবশতঃ অনাথ বসে পড়ল

ব্যাখ্যাঃ-দুর্বলতাবশত অনাথ বসে পড়ল” শুদ্ধ বাক্য

৮. ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয়—

ক) বিভক্তি

খ) ধাতু

গ)প্রত্যয়

ঘ) কৃৎ

ব্যাখ্যাঃ-ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু

৯. কোন দ্বিরুক্ত শব্দ জুটি বহুবচন সংকেত করে?

ক) পাকা পাকা আম

খ) ছি ছি, কি করছ।

গ) নরম নরম হাত

ঘ) উড়ু উড়ু মন

ব্যাখ্যাঃ-পাকা পাকা বলতে আধিক্য বোঝানো হয়েছে। দ্বিরুক্ত শব্দ বলতে বোঝায় ঐ সকল শব্দ যা বাক্যের মধ্যে পরপর দুবার উচ্চারিত হয়েছে।

১০. কোন প্রবচন বাক্য ব্যবহারিক দিক হতে সঠিক?

ক) যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না

খ) অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট

গ) নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা

ঘ) যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়

ব্যাখ্যাঃ-অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট” প্রবচন বাক্য ব্যবহারিক দিক হতে সঠিক।বাকি গুলো হবে- যত গর্জে তত বর্ষে না, নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা এবং যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়

১১. ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ রচিত –

ক) কবিতার নাম

খ) গল্প সংকলনের নাম

গ) উপন্যাসের নাম

ঘ) কাব্য সংকলনের নাম

ব্যাখ্যাঃ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে গোরা, চতুরঙ্গ, ঘরে বাইরে চোখের বালি, চার অধ্যায় ইত্যাদি।উপন্যাসের চরিত্র। অমিত লাবন্য

১২. বাংলায় টি. এস. এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদক—

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ) বিষ্ণু দে

গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

ঘ) বুদ্ধদেব বসু

ব্যাখ্যাঃ-প্রথম বাংলায় টিএস ইলিয়টের কবিতা অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। টি এস এলিয়ট এর The Journey of the Magi কবিতার অনুবাদ করা হয়েছিলো। রবীন্দ্রনাথ তার পুনশ্চ কাব্যে “তীর্থযাত্রী” কবিতা নামে এটি সংকলন করেছিলেন।

১৩. অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের সংকলিত প্রথম কবিতা-

ক) অগ্রপথিক

খ) বিদ্রোহী বিনতা।

গ) প্রলয়োল্লাস

ঘ) ধূমকেতু

ব্যাখ্যাঃ-অগ্নিবীণা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (অক্টোবর ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ) প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা আছে। কবিতাগুলি হচ্ছে – প্রলয়োল্লাস (কবিতা) ‘বিদ্রোহী, রক্তাম্বর-ধারিণী মা, আগমণী, ধূমকেতু, কামাল পাশা, আনোয়ার রণভেরী, শাত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী কোরবানী ও মোহররম। এছাড়া গ্রন্থটির সর্বাগ্রে বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কে উৎসর্গ করে লেখা একটি উৎসর্গ কবিতাও আছে। অগ্নি-বীণা প্রচ্ছদপটের পরিকল্পনা ছিল অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং এঁকেছিলেন তরুণ চিত্রশিল্পী বীরেশ্বর সেন। বইটির তৎকালীন মূলা ছিল ৩ টাকা। ৭ নং প্রতাপ চ্যাটার্জি লেন থেকে গ্রন্থকার কর্তৃক গ্রন্থটি মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। প্রাপ্তিস্থান হিসেবে গ্রন্থে লেখা ছিল আর্য পাবলিশিং হাউস, কলেজ স্ট্রিট মার্কেট (দোতলায়)। গ্রন্থটি ছাপা হয় মেটকাফ প্রেস, ৭৯ নং বলরাম দে স্ট্রিট, কলিকাতা থেকে। দাম এক টাকা। গ্রন্থটির উৎসর্গ হচ্ছে- বাঙলার অগ্নিযুগের আদি পুরোহিত সাপ্নিক বীর শ্রীবারীন্দ্রকুমার ঘোষ শ্রীশ্রীচরণারবিন্দেষু। নিচে লেখা আছে তোমার অগ্নি-পূজারী-হে.. মহিমান্বিত শিষ্য-কাজী নজরুল ইসলাম। অরবিন্দ ঘোষের ভ্রাতা বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, বাংলা তথা ভারতের বিপ্লববাদী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন। বিপ্লবে বিশ্বাসী নজরুল তাই নিজেকে বারীন্দ্রকুমারের হে-মহিমান্বিত শিষ্য বলে উল্লেখ করে তাকেই তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন

১৪. কোন বাক্যে মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?

ক) তিনিই সমাজের মাথা

খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে

গ) লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল

ঘ) যে মাথা নেই আবার মাথা ব্যথা

ব্যাখ্যাঃ-বাক্যে মাথা বলতে বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে কাজ করার কথা বুঝানো হয়েছে।

১৫. কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?

ক) নিখুঁত

খ) আনমনা

গ) অবহেলা

ঘ) নিমরাজি

ব্যাখ্যাঃ-বিদেশি উপসর্গ মোট ২০ টি আরবি উপসর্গ —> কিরে (লা) লু এই (গর) মে (বাজে) (আম) (খাস)  ইংরেজি উপসর্গ —> (হেড) (সাব) বাড়িতে (হাফ) এবং স্কুলে (ফুল) হাতা শার্ট পরেন। হিন্দি উপসর্গ —> (হর) (হরেক) ফারসি উপসর্গ —> (নিম) বাবু (বে) আদব (বদ) মাশ (না) লায়েক (কম) (ব) খত (ফি) রোজকে (কার)চুপি করে (দর)বার থেকে (বর) খাস্ত করে দেন।

১৬. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা-

ক) শামসুর রাহমান।

খ) আলতাফ মাহমুদ

গ) হাসান হাফিজুর রহমান

ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী

ব্যাখ্যাঃ-গানটির বর্তমান সুরকার-আলতাফ মাহমুদ।

১৭. কোনটি তদ্ভব শব্দ?

ক) চাঁদ

খ) সূর্য

গ) নক্ষত্র

ঘ) গগন

ব্যাখ্যাঃ-চন্দ্ৰ >চন্দ> চাঁদ তৎসম অর্ধ তৎসম তদ্ভব

১৮. বাংলায় কুরআন শরীফের প্রথম অনুবাদক কে?

ক) কেশব চন্দ্র সেন

খ) ভাই গিরীশচন্দ্র সেন

গ) মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী

ঘ) মওলানা আকরম খাঁ

ব্যাখ্যাঃ-গিরিশচন্দ্র সেন বাংলায় কোরআন শরীফের প্রথম অনুবাদক। তিনি মিশকাত শরীফের অধিকাংশ হাদিস, তাজকেরাতুল আউলিয়া সহ আরো কয়েকটি ইসলামি গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন।

১৯. বৈরাগ্য সাধনে ___ সে আমার নয়। শূন্যস্থান পূরণ করুন।

A.   আনন্দ

B.   মুক্তি

C.   বিশ্বাস

D.   আশ্বাস

ব্যাখ্যাঃ-নৈবেদ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি সে আমার নয়। অসংখ্যবন্ধন মাঝে মহানন্দময় লভিব মুক্তির স্বাদ। এই বসুধার মৃত্তিকার পাত্রখানি ভরি বারম্বার তোমার অমৃত ঢালি দিবে অবিরত নানাবর্ণগন্ধময়। প্রদীপের মতো সমস্ত সংসার মোর লক্ষ বর্তিকায় জ্বালায়ে তুলিবে আলো তোমারি শিখায় তোমার মন্দির মাঝে। ইন্দ্রিয়ের দ্বার রুদ্ধ করি যোগাসন সে নহে আমার। যে কিছু আনন্দ আছে দৃশ্যে গন্ধে গানে তোমার আনন্দ রবে তার মাঝখানে। মোহ মোর মুক্তিরূপে উঠিবে জ্বলিয়া প্রেম মোর ভক্তিরূপে রহিবে ফলিয়া রবীন্দ্রনাথের পাতা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত লাইনটা।

২০. সমাস ভাষাকে ___

A.   সংক্ষিপ্ত করে

B.   বিস্তৃত করে

C.   ভাষারূপ ক্ষুন্ন করে

D.   অর্থবোধক করে

ব্যাখ্যাঃ-বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একটি পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। বাংলা ভাষায় যে সকল প্রক্রিয়ায় নতুন পদ বা শব্দ তৈরি হয় সমাস তার একটি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। যেমন: দোয়াত ও কলম দোয়াতকলম, পীত অম্বর যার = পীতাম্বর (শ্রীকৃষ্ণ)। সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটিকে বলে সমস্ত পদ। যেমন: এখানে দোয়াতকলম, পীতাম্বর হলো সমস্ত পদ। সমস্ত পদ কতগুলো পদের মিলিত রূপ, এই প্রতিটি পদকে বলে সমস্যমান পদ। সমস্ত পদকে বিস্তৃত করে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায় তাকে বলে সমাসবাক্য ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য। সমাস শব্দের ব্যুৎপত্তি হলো সম-অস(ধাতু) অ সমাসের উদ্দেশ্য অল্পকথায় অধিক ভাব প্রকাশ করা একটা বিরাট শব্দগুচ্ছকে সমাসের মাধ্যমে সংক্ষেপণ করা যায়। তবে সাহিত্যিক প্রয়োজনেই সংস্কৃত ভাষায় সমাসের আবির্ভাব হয়েছিল বলে মনে করা হয়। কারণ সাহিতামূলক কর্মে সমাসের ব্যবহার একে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে

২১. ‘সূর্য’ এর প্রতিশব্দ

A.   সুধাংশু

B.   শশাঙ্ক

C.   বিধু

D.   আদিত্য

ব্যাখ্যাঃ-সূর্যের সমার্থক শব্দ গুলি হলো রবি, আদিত্য, অর্ক, ভানু, প্রভাবকর মিহির, তপন, পুষা, সবিতা, অরুণ, চিত্রাভানু অর্থমা, ভাস্কর দিবাকর, বিবস্বান তপন, দিনমণি, হরিদশ্ব, দিননাথ, কিরণমালী, বিভাবসু, ময়ূখমালী, বিভাবসু বিভাকর মার্তণ্ড, বালার্ক, অংশুমালী, হরিদশ্ব, দিনেশ ঊষাপতি, দিবাবসু

২২. ‘অর্ধচন্দ্র’-এর অর্থ

A.   গলাধাক্কা দেয়া

B.   অমাবস্যা

C.   দ্বিতীয়ত

D.   কাস্তে

ব্যাখ্যাঃ-অর্ধচন্দ্র= অর্ধেক চন্দ্ৰ বা চাঁদ। বাগধারাটার অর্থ গলা ধাক্কা”। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। আমরা যখন কাউকে গলা ধাক্কা দেই তখন আমাদের হাতটা তখন অর্ধেক চাঁদের মত দেখায়। সেখান থেকেই অর্ধচন্দ্র শব্দের উৎপত্তি

২৩. কোনটি শুদ্ধ?

A.   সৌজন্নতা

B.   সৌজন্যতা

C.   সৌজনতা

D.   সৌজন্য

ব্যাখ্যাঃ-সৌজন্য- [বিশেষ্য পদ] ভদ্রতা, অমায়িকতা শিষ্ট ব্যবহার।

২৪. বেগম রোকেয়ার রচনা কোনটি?

A.   ভাষা ও সাহিত্য

B.   আয়না

C.   লালসালু

D.   অবরোধবাসিনী

ব্যাখ্যাঃ-অবরোধ বাসিনী ভারতবর্ষের অগ্রণী নারীবাদী লেখিকা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি গ্রন্থ। বেগম রোকেয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি হিসেবে বিবেচিত গ্রন্থটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। এতে তৎকালীন ভারতবর্ষীয় নারীদের বিশেষ করে মুসলমান ঘরের নারীদের সমাজের অবরোধপ্রথার জন্য যে অসুবিধায় পড়তে হত তা বর্ণিত হয়েছে মতিচুর – “সুলতানার স্বপ্ন – Sultana’s dream’ তার রচনা। প্রথম প্রকাশিত ছোট গল্প পিপাসা

২৫. বাংলা গীতিকবিতায় ‘ভোরের পাখি’ কে?

A.   বিহারীলাল চক্রবর্তী

B.   প্যারীচাঁদ মিত্র

C.   ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

D.   শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ব্যাখ্যাঃ-বিহারীলাল চক্রবর্তী (২১ মে, ১৮৩৫ (২৪ মে, ১৮৯৪) বাংলা ভাষার কবি। বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য ধারার ভোরের পাখি’ বলে আখ্যায়িত করেন। তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। মনোবীণার নিভৃত ঝংকারে তার কাব্যের সৃষ্টি। বাঙালি কবি মানসের বহির্মুখী দৃষ্টিকে অন্তর্মুখী করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। অতি অল্পকালের ভিতরে তিনি বাংলা কবিতার প্রচলিত ধারার পরিবর্তন ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার ধারা চালু করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্যের মাধ্যমে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। বিহারীলাল তার কবিতায় ভাবের আধিক্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রকৃতি ও প্রেম, সংগীতের উপস্থিতি সহজ-সরল ভাষা বিহারীলালের কবিতাকে দিয়েছে আলাদাধারার বৈশিষ্ট্য।

২৬. কোনটি শুদ্ধ বাক্য?

A.   একটা গোপনীয় কথা বলি

B.   একটি গোপন কথা বলি

C.   একটা গোপন কথা বলি

D.   একটি গুপ্ত কথা বলি

ব্যাখ্যাঃ-শুদ্ধ বাক্য”একটা গোপনীয় কথা বলি”

২৭. ‘সংশয়’-এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?

A.   নির্ভয়

B.   বিস্ময়

C.   প্রত্যয়

D.   দ্বিধা

ব্যাখ্যাঃ-প্রত্যয় – [বিশেষ্য পদ| নিশ্চয়তা, প্রতীতি, বিশ্বাস (ব্যকরণ) শব্দ বা ধাতুর উত্তর জায়মান বিভক্তি; ধাতু বা প্রাতিপদিকের উত্তর যা বিহিত হয় (কৃৎ ও তদ্ধিত প্রত্যয়)

২৮. ‘শিষ্টাচার’ এর সমার্থক শব্দ কোনটি?

A.   নিষ্ঠা

B.   সদাচার

C.   সততা

D.   সংযম

ব্যাখ্যাঃ-শিষ্টাচার এর সমার্থক শব্দ সদাচার সংযম এর সমার্থক শব্দগুলো হলো নিয়ম নিয়ন্ত্রণ, নিগ্রহ দমন, নিয়মন, রোধ নিরোধ, ব্রত।শিষ্টাচার/আদর/ভদ্রতা/সৌজন্য– যে নামেই ডাকি এটি একজন মানুষের বড় গুণ। সামাজিক জীবনে এই গুণের চর্চা অন্য প্রাণী হতে মানুষের স্বাতন্ত্র্য নির্দেশ করে। একটি দেশ কতটা সভ্য সেটির পরিমাপক হিসেবে সেই দেশের মানুষের সৌজন্যবোধ-কে বিবেচনা করা হয়। ভদ্র ব্যবহারে অন্যের হৃদয় জয় করা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঝগড়া এড়ানো যায় এবং পারিপার্শ্বিক সবার সাথে সম্পর্ক সৌহার্দপূর্ণ হয়ে উঠে।

২৯. ‘ক্ষমার যোগ্য’-এর বাক্য সংকোচন

A.   ক্ষমার্হ

B.   ক্ষমাপ্রার্থীকে

C.   ক্ষমা

D.   ক্ষমাপ্রদ

ব্যাখ্যাঃ-বাক্য সংকোচন: যার অনুরাগ দূর হয়েছে – বীতরাগ। যার পূর্ব জন্মের কথা স্মরণ থাকে- জাতিস্মর। যে নারী নিজে বর বরণ করে নেয় – স্বয়ংবরা। যে ব্যক্তি দ্বার রক্ষার জন্য নিযুক্ত দারোয়ান। যে সন্তান পিতার মৃত্যুর পরে জন্মে মরণোত্তরজাতক। যে আলোতে কুমুদ ফোটে – কৌমুদী। ক্ষমার যোগ্য ক্ষমাই। বাঘের চামড়া-কৃত্তি।

৩০. _ সেপ্টেম্বর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস। শূন্যস্থান পূরণ করুন।

A.  

B.  

C.   ১০

D.  

ব্যাখ্যাঃ-৮সেপ্টেম্বর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস।

৩১. ‘মোস্তফা চরিত’ গ্রন্থের রচয়িতা

A.   মুহম্মদ আবদুল হাই

B.   মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ

C.   ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

D.   মওলানা আকরম খাঁ

ব্যাখ্যাঃ-১৯৩৬ সালের অক্টোবর মাসে মওলানা আকরম দৈনিক আজাদ পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। সেই সময় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। মুসলিম লীগের সমর্থন যোগাতে এই বাংলা পত্রিকাটি সেই সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে পত্রিকার বহু পুরনো সংখ্যা সংরক্ষিত আছে। সাহিত্য কর্ম সমস্যা ও সমাধান [এই গ্রন্থে লেখকের ইসলামে নারীর মর্যাদা, সুদ সমস্যা চিত্র (ছবি তোলা) সমস্যা, সঙ্গীত সমস্যা এই চারটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়) আমপারার বাংলা অনুবাদ মোস্তফা চরিত (বর্তমানে খোশরোজ কিতাব মহল হতে প্রকাশিত) মোস্তফা-চরিতের বৈশিষ্ট্য বাইবেলের নির্দেশ ও প্রচলিত খ্রীষ্টান ধর্ম মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস (ঐতিহ্য হতে প্রকাশিত) তাফসীরুল কোরআন (১-৫ খণ্ড) (খোশরোজ কিতাব মহল হতে প্রকাশিত) মুক্তি ও ইসলাম

৩২. ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ গ্রন্থটির রচয়িতা

A.   মুহম্মদ আবদুল হাই

B.   ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

C.   আবুল মনসুর আহমদ

D.   আতাউর রহমান

ব্যাখ্যাঃ-আবুল মনসুর আহমেদ একজন শক্তিমান লেখক ছিলেন। তিনি ব্যঙ্গাত্মক রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আয়না ও ফুড কনফারেন্স গল্পগ্রন্থদ্বয়ে তিনি মুসলিম সমাজের গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, ভণ্ডামিসহ নানা কুসংস্কারের ব্যঙ্গ করেছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। গ্রন্থসমূহ ব্যঙ্গরচনা আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) গালিভারের সফরনামা স্মৃতিকথা আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী) আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯) শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) অন্যান্য রচনা সত্য মিথ্যা (১৯৫৩) জীবনক্ষুধা (১৯৫৫) আবে হায়াত (১৯৬৪) হুযুর কেবলা (১৯৩৫) বাংলাদেশের কালচার (১৯৬৬) বাংলা একাডেমি সম্প্রতি আবুল মনসুর আহমদ রচনাসমগ্র নিয়ে তিন খণ্ড প্রকাশনা করেছে। আরও তিন খণ্ড প্রকাশিতব্য রয়েছে (জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সম্পাদনায় ও কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজের সহযোগিতায়।

৩৩. পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক

A.   ভারতচন্দ্র রায়

B.   কাজী দৌলত

C.   সৈয়দ হামজা

D.   আবদুল হাকিম

ব্যাখ্যাঃ-ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) এদেশের অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন সাহিত্যিক। ফকির গরীবুল্লাহ হুগলি জেলার (তখনকার বর্ধমান এর অংশ) বালিয়া পরগনার হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী। গরীবুল্লাহ সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। তাঁর পিতার নাম শাহ্ দুন্দীর (সাহা দুন্দি)। তথ্যের অভাবে গরীবুল্লাহ এর সময় নির্ধারন করা দুরূহ। সাহিত্যকর্ম তাঁর রচনা কোনগুলো তা নিয়েও মতবিরোধ আছে। তবে আমির হামজা প্রথম পর্ব তাঁর রচনা। ফকির গরীবুল্লাহ-এর ইউসুফ-জোলেখা নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন কাব্যটি ১৭৬৫ সালের পর রচিত। ঐতিহাসিকরা বলেন আঠারো শতকের মধ্যভাগে ফকির গরীবুল্লাহ কয়েকটি পুঁথি রচনা করেন। সেগুলো হচ্ছে ইউসুফ জোলেখা, আমির হামজা, সোনাভান ও সতয়পীরের পুথি। মৃত্যু: তাঁর মৃত্যুর কোনো সঠিক সাল বা তারিখ পাওয়া যায় না।

৩৪. ‘চাচা কাহিনীর’ লেখক

A.   সৈয়দ শামসুল হক

B.   সৈয়দ মুজতবা আলী

C.   শওকত ওসমান

D.   ফররুখ আহমদ

ব্যাখ্যাঃ-শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় সেখানের বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত ম্যাগাজিনে মুজতবা আলী লিখতেন। পরবর্তীতে তিনি সত্যপীর, ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন: দেশ আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতিতে কলাম লিখেন। তাঁর বহু দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন ভ্রমণলিপি। এছাড়াও লিখেছেন ছোটগল্প উপন্যাস, রম্যরচনা।তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা ৩০। প্রকাশনা উপন্যাস অবিশ্বাস্য (১৯৫৪) শবনম (১৯৬০) শহর ইয়ার (১৯৬৯) ভ্রমণকাহিনী দেশে বিদেশে (১৯৪৯) (কাবুল শহরের কাহিনী নিয়ে। লেখা।। জলে ডাঙ্গায় (১৯৬০) ছোটগল্প চাচা কাহিনী (১৯৫২) চুনি মেম(১৯৬৪) পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২) ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫৭)
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস লালসালু (১৯৪৮) শওকত ওসমানের উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি ১৯৬২

৩৫. শব্দ ও ধাতুকে বলে—

A.   শব্দ

B.   কারক

C.   পদ

D.   ক্রিয়াপদ

ব্যাখ্যাঃ-বিভক্তিযুক্ত শব্দকেই পদ বলে। পদের প্রকারভেদ। পদ প্রধানত ২ প্রকার সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ। সবায় পদ আবার ৪ প্রকার- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও ক্রিয়া।

৩৬. ‘রাজলক্ষ্মী’ চরিত্রের স্রষ্টা ঔপন্যাসিক

A.   বঙ্কিমচন্দ্র

B.   শরৎচন্দ্র

C.   তারাশংকর

D.   নজরুল ইসলাম

ব্যাখ্যাঃ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক ঔপন্যাসিক ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে। বড়দিদি (১৯১৩) পল্লীসমাজ (১৯১৬), দেবদাস (১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), শ্রীকান্ত (চারখণ্ডে ১৯১৭-১৯৩৩), দ্যু (১৯১৮), গৃহদাহ (১৯২০) পথের দারী (১৯২৬), পরিণীতা (১৯১৪), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) ইত্যাদি শরৎচন্দ্র রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার দরুন তিনি অপরাজেয় কথাশিল্পী নামে খাতে

৩৭. ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয়____

A.   বিভক্তি

B.   ধাতু

C.   প্রত্যয়

D.   কৃৎ

ব্যাখ্যাঃ-যা থেকে ক্রিয়াপদের জন্ম সেটাই ধাতু। যেমন, করি, একটি ক্রিয়াপদ। একে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় কর-ই। কর ক্রিয়াপদের মূল অংশ, এটিই ধাতু। সংজ্ঞা ক্রিয়াপদের মূল অংশকেই ধাতু বলে। অর্থাৎ ক্রিয়ার মূল অর্থ যার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় তাকেই ধাতু বলে। যেমন- ক, চল, পড় এগুলো ধাতুর উদাহরণ।

৩৮. “স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়”– চরণটি কার রচনা?

A.   ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

B.   মধুসূদন দত্ত

C.   হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

D.   রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যাখ্যাঃ-স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় চরণটি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়র রচনা জন্ম ও পরিবারঃ- ১৮২৭ সালে মাতুলালয়, বাকুলিয়া বর্ধমানে জন্ম। তার আদি নিবাস বর্তমান হুগলি জেলার বাকুলিয়া। তার পিতার নাম রামনারায়ণ।

৩৯. শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন—

A.   বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রের শিকার হন

B.   বিদ্যান ব্যক্তিগণ দারিদ্রতার শিকার হন

C.   বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন

D.   বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রতার শিকার হন

ব্যাখ্যাঃ-শুদ্ধ বাক্যটি -বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যোর শিকার হন

৪০. কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?

A.   নিখুঁত

B.   আনমনা

C.   অবহেলা

D.   নিমরাজি

ব্যাখ্যাঃ-নিমরাজী শব্দে ফারসি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে। ফারসি উপসর্গ মনে রাখার সহজ উপায়: “”না”” “”ফি”” “”র “”বর”” “”বদ”” মায়েশ। “”বে”” আদব, “”কম”” “”জোর, ও “”ব”” কলম। কিন্তু “”কার”” “”বার ও “”দর”” দালানে তিনি “”নিমরাজি। দ্রষ্টব্য শুধুমাত্র এর মধ্যে যা দেওয়া আছে ওটাই উপসর্গ। আন- বাংলা উপসর্গ অব- সংস্কৃত উপসর্গ”

৪১. কোন বানানটি শুদ্ধ?

A.   পাষাণ

B.   পাষান

C.   পাসান

D.   পাশান

ব্যাখ্যাঃ-পাষাণ বানানটি শুদ্ধ। পাষাণ (১) (বিশেষ্য পদ পাথর তুলাদন্ডের দুই পাল্লা সমান করবার পাথর বা বাটখারা। (২) (বিশেষণ পদ প্রস্তরবং নিঠুর কঠিন (পাষাণ হৃদয়)

৪২. “মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’ রচয়িতা?

A.   রামনিধি গুপ্ত

B.   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

C.   অতুলপ্রসাদ সেন

D.   সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

ব্যাখ্যাঃ-মোদের গরব, মোদের আশা/আ-মরি বাংলা ভাষা রচিয়তা অতুল প্রসাদ সেন। বাংলা ভাষা সাহিত্যে ও সঙ্গীতের এক অতি পরিচিত নাম অতুল প্রসাদ সেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার ও গায়ক। বাংলাভাষীদের নিকট অতুল প্রসাদ সেন প্রধানত একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও সুরকার হিসেবেই পরিচিত। তার গানগুলি মূলত স্বদেশি সঙ্গীত, ভক্তিগীতি ও প্রেমের গান; এই তিন ধারায় বিভক্ত।

৪৩. মধুসূদন দত্ত রচিত বীরাঙ্গনা’—

A.   মহাকাব্য

B.   পত্রকাব্য

C.   গীতিকাব্য

D.   আখ্যানকাব্য

ব্যাখ্যাঃ-বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য বীরঙ্গনাবীরাঙ্গনা কাব্যের আঙ্গিক ও নামকরণের দিক থেকে মধুসূদন পাশ্চাত্য কবিদের কাছে ঋণী। ইতালীর কবি ওভিদের হিরোয়দস কাব্যের পত্ররীতি অবলম্বন করে বীরঙ্গনা কাব্য রচিত। বিভিন্ন কারণে পরিত্যক্ত নারীর মনোবেদনা পত্রগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মধুসূদনের নায়িকারা দৈহিক বীরত্ব ও মৌখিক আস্ফালনের জন্য বীরঙ্গনা আখ্যা পাননি, তাদের বীরত্ব চিরাচরিত সামাজিক রীতিনীতির শৃঙ্খল ও জড়তার আচরণ ঘুরিয়ে দিয়ে হৃদয়ের সত্য প্রকাশে। বনবাসিনী শকুনতলার পক্ষে হৃদয়ের অনুভূতি কথা প্রকাশ্যে দুষ্মন্তকে বলা অথবা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করা এ চিরাচরিত ভারতীয় নীতিবিরুদ্ধ। এরা পতির কাজের সমালোচনা শোনা পর্যন্ত পাপ মনে করে। সে সময়ে বাংলার সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের এমন অবস্থা ছিল যে তারা পতিনিন্দা করা তো দূরে থাক কেউ যদি পতির নিন্দা করতো তাহলে তারা সে স্থান ত্যাগ করতো”

৪৪. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলমান কৰি

A.   শাহ মুহম্মদ সগীর

B.   সাবিরিদ খান

C.   শেখ ফয়জুল্লাহ

D.   মুহাম্মদ কবীর

ব্যাখ্যাঃ-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাচীনতম মুসলমান কবি শাহ মুহাম্মদসগীর। তিনি আনুমানিক ১৩-১৪ শতকের কবি। বাঙালি মুসলিম কবিদের মধ্যে তিনিই প্রাচীনতম। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ এর রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দে) ইউসুফ জোলেখা কাব্য রচনা করেন

৪৫. রোহিনী’ কোন উপন্যাসের নায়িকা?

A.   কৃষ্ণকান্তের উইল

B.   চোখের বালি

C.   গৃহদাহ

D.   পথের পাঁচালী

ব্যাখ্যাঃ-কৃষ্ণকান্তের উইল বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে। সামাজিক উপন্যাস। ১৮৮২ ও ১৮৮৪ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

৪৬. নিম্নরেখ কোন শব্দে করণ কারকে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?

A.   ঘোড়াকে চাবুক মার

B.   ডাক্তার ডাক

C.   গাড়ি স্টেশন ছেড়েছে

D.   মুষলধারে বৃষ্টি পড়েছে

ব্যাখ্যাঃ-করণ শব্দের অর্থ যন্ত্র সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে কিসের দ্বারা বা ‘কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। যেমন- নীরা কলম দিয়ে লেখে। উপকরণ-কলম) ‘জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। (উপায় সাধনা)

৪৭. রূপসী বাংলার কবি-

A.   জসীমউদ্দীন

B.   জীবনানন্দ দাশ

C.   কালিদাস রায়

D.   সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

ব্যাখ্যাঃ-রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮ ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪, ৬ ফাল্গুন, ১৩০৫ ৫ কার্তিক, ১৩৬১ বঙ্গাব্দ । তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি বাংলা কারো আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম।

৪৮. বটতলার পুঁথি বলতে কী বুঝায়?

A.   মধ্যযুগীয় কাব্যের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি

B.   বটতলা নামক স্থানে রচিত কাব্য

C.   দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য

D.   অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় রচিত লোকসাহিত্য

ব্যাখ্যাঃ-পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। পুঁথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি পুস্তিকা শব্দ থেকে। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনী অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য। মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ কাব্যে ৩২% বিদেশি শব্দের পরিসংখ্যান দিয়েছেন। হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, ২৪ পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের মুসলমানদের কথ্যভাষা এর উৎস ছিল বলে মনে করা হয়। গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন। এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক। পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন মুসলমানী বাংলা, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন মুসলমানী বাংলা সাহিত্য। কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়। গবেষকগণ ভাষা বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে মিশ্র ভাষারীতির কাব্য বলে অভিহিত করেন। দোভাষী পুথিকারদের সাধারণভাবে শায়ের বলা হয়।

৪৯. মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য?

A.   ইউসুফ জুলেখা

B.   রসুল বিজয়

C.   নূরনামা

D.   শবে মেরাজ

ব্যাখ্যাঃ-মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য ইউসুফ-জোলেখা।এটি মধ্যযুগের পুঁথি লেখকদের রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি প্রণয় কাব্য। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর, গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৯৩-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন। শাহ মুহম্মদ সগীর ছাড়াও মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেন।

৫০. কবিগান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত?

A.   রাম বসু এবং ভোলা ময়রা

B.   এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়

C.   সাবিরিদ খান এবং দশরথী রায়

D.   আলাওল এবং ভারতচন্দ্র

ব্যাখ্যাঃ-কবিগানের প্রথম কবি গোঁজলা গুই কবি গান রচয়িতা এবং গায়ক হিসাবে পরিচিত এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায় কবিওয়ালা ও শায়ের-এর উদ্ভব ঘটে আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উশি শতকের প্রথমার্ধে কবিওয়ালা বলতে বোঝায় কবিতাকে জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসাবে গ্রহণকারীকে

৫১. কোন শব্দে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?

A.   ঠগী

B.   পানসে

C.   পাঠক

D.   সেলামী

ব্যাখ্যাঃ-পাঠক শব্দে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। প্রত্যয় শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে শব্দ বা নাম প্রকৃতির এবং ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে। কয়েকটি শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় বিশ্লেষণ করে দেখানো হলো নাম প্রকৃতি প্রত্যয় প্রত্যয়ান্ত শব্দ হাত+ল = হাতল ফুল+এল = ফুলেল মুখ+র = মুখর ক্রিয়া প্রকৃতি প্রতায় প্রত্যয়ান্ত শব্দ চল্‌+অন্ত = চলন্ত

৫২. বাগধারা যুগলদের মধ্যে কোন জোড়া সর্বাধিক সমার্থবাচক?

A.   অমাবস্যার চাঁদ, আকাশ কুসুম

B.   বকধার্মিক, বিড়াল তপস্বী

C.   রুইকাতলা, কেউকেটা

D.   বকধার্মিক, ভিজে বেড়াল

ব্যাখ্যাঃ-বাগধারা যুগলদের মধ্যে জোড়া সর্বাধিক সমার্থবাচক বক ধার্মিক, বিড়াল তপস্বী।এই দুটো বাগধারা অর্থ কপটতা /প্রতারক /মুখোশ ধারী

৫৩. বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা?

A.   নাটক

B.   ছোট গল্প

C.   প্রবন্ধ

D.   গীতিকবিতা

ব্যাখ্যাঃ-বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা–গীতি কাব্য। গীতি কাব্য একজন কবির একান্ত ব্যক্তি অনুভূতির সহজ, সাবলীল গতি ও ভঙ্গীমায় সঙ্গীত মুখর জীবনের আত্ম প্রতিফলন। এটি গীতি কবিতা নামেই সাহিত্যামোদী ব্যক্তিবর্গের কাছে সমধিক পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, বক্তার ভাবোচ্ছ্বাসের পরিস্ফুটন মাত্র যাহার উদ্দেশ্য, সেই কাবাই গীতিকাব্য। ভিত্তি মূল: গীতি কাব্য অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ বলে সাধারণতঃ দীর্ঘকায় হয় না। কারণ কোন অনুভূতিই দীর্ঘকাল স্থায়ী নয়। কিন্তু কোন কবি যদি গীতি কবিতায় তার ব্যক্তি-অনুভূতিকে একান্ত আন্তরিকতার সাথে অনায়াসে দীর্ঘকারে বর্ণনা করতে পারেন, তবে তার মূল রস ক্ষুণ্ন হয় না। কবির আন্তরিকতাই শ্রেষ্ঠ গীতি কবিতা বা গীতি কাব্যের একমাত্র কষ্টি পাথর। ইংরেজি সাহিত্যে গীতি কাব্য লিরিক নামে অভিহিত হয়ে থাকে। বীণাযন্ত্র সহযোগে এই শ্রেণীর সঙ্গীত-কবিতা গীত হতো বলে এটি লিরিক বা গীতকবিতা নামে চিহ্নিত।

৫৪. এক কথায় প্রকাশ করুন- ‘যা বলা হয়নি’-

A.   অউক্ত

B.   অব্যক্ত

C.   অনুক্ত

D.   অভিব্যক্ত

ব্যাখ্যাঃ-এক কথায় প্রকাশ করুন যা বলা হয়নি অনুক্তযা প্রকাশিত হয়নি অব্যক্ত

একাধিক পদ বা উপবাক্যকে একটি শব্দে প্রকাশ করা হলে, তাকে বাক্য সংক্ষেপণ বলে। এটি বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশেরই নামান্তর

৫৫. বাংলা ভাষা এ শব্দ দুটি গ্রহণ করেছে চীনা ভাষা হতে-

A.   চাকু, চাকর

B.   খদ্দর, হরতাল

C.   চা, চিনি

D.   রিক্সা, রেস্তোরা

ব্যাখ্যাঃ-চীনা শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ চা, চিনি, লিচু ও লুচি চীনাদের প্রিয় খাবার। ব্যাখ্যা: চা, চিনি, লিচু ও লুচি চীনা শব্দ।

৫৬. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন প্রধানত-

A.   ভাষাতত্ত্ববিদ

B.   সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা

C.   ইসলাম প্রচারক

D.   সমাজসংস্কারক

ব্যাখ্যাঃ-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রধানত ভাষাতত্ত্ববিদ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১০ জুলাই ১৮৮৫ – ১৩ জুলাই ১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব বহুভাষাবিদ বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অবিভক্ত চব্বিশ পরগণা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

৫৭. “‘এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে/রমনার উর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে/সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি’ এর রচয়িতা- “

A.   জহির রায়হান

B.   আবদুল গাফফার চৌধুরী

C.   শামসুর রাহমান

D.   মাহবুবুল আলম চৌধুরী

ব্যাখ্যাঃ-এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে/রমনার উর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে/সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি’এর রচয়িতা- মাহবুবুল আলম চৌধুরী

৫৮. ‘গোঁফ-খেজুরে’- এই বাগধারাটির অর্থ কী?

A.   আরামপ্রিয়

B.   উদাসীন

C.   নিতান্ত অলস

D.   পরমুখাপেক্ষী

ব্যাখ্যাঃ-গোঁফ খেজুরে শব্দের অর্থ নিতান্ত অলস। কিন্তু ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের গোঁফে খেজুর যার ব্যাসবাক্যে কি নিতান্ত অলসের সাথে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়? প্রকৃতপক্ষে ‘গোঁফ খেজুরে শব্দটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস এবং এর ব্যাসবাক্য হলো গোঁফে খেজুর পরে থাকলেও খায় না যে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি এ ব্যাসবাক্যটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের সকল শর্ত পূরণ করছে এবং এর অর্থ নিতান্ত অলসকেও যথার্থতা দান করেছে।

৫৯. কোন দুটি অঘােষ ধ্বনি?

A.   চ ছ

B.   ড ঢ

C.   ভ ব

D.   দ ধ

ব্যাখ্যাঃ-অঘোষ কানি কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণরে সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণতি হয় না। তখন মনটিরি উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন ও মৃদু হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি/ Unvoiced ঘুমেন। কয ইত্যাদি। ঘোষ ধ্বনি ধ্বনি উচ্চারণরে সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণতি হলে ঘোষ ধ্বনি/ Voiced হয়। যমেন গ ঘ ইত্যাদি।

৬০. কোন বাক্যে ‘ঢাক গুড়গুড়’ প্রবাদটির বিশেষ অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?

A.   ঢাল্টা গুড়গুড় করে কী লাভ, কাজে লেগে যাও

B.   ঢাক গুড়গুড় করে কী লাভ, আসল কথাটি বল

C.   ঢাঢ়া গুড়গুড় করে কী লাভ, কী খাবে বল

D.   ঢাল্টা গুড়গুড় করে কী লাভ, নিজের পায়ে দাঁড়াও

ব্যাখ্যাঃ-ঢাক গুড়গুড় করে কী লাভ, আসল কথাটি বল” বাক্যেঢাক গুড়গুড়’ প্রবাদটির বিশেষ অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।

৬১.” বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্রের নাম–“

A.   নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী

B.   মধুসূদন ও কুমুদিনী

C.   গােবিন্দলাল ও রােহিনী

D.   সুরেশ ও অচলা

ব্যাখ্যাঃ-কৃষ্ণকান্তের উইল বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে। সামাজিক উপন্যাস। ১৮৮২ ও ১৮৮৪ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

৬২. কোন বাক্যে সমুচ্চয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?

A.   ধন অপেক্ষা মান বড়

B.   তােমাকে দিয়ে কিছু হবে নারায়ণ

C.   ঢং ঢং ঘণ্টা বাজে

D.   লেখাপড়া করাে, নতুবা ফেল করবে

ব্যাখ্যাঃ-লেখাপড়া করাে, নতুবা ফেল করবে বাক্যে সমুচ্চয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অবায় বা সম্বন্ধসূচক অব্যয় বলে। যেমন এবং ও কিংবা তবু প্রভৃতি।

৬৩. কোন সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হয়?

A.   ১৯৫১ সালে

B.   ১৯৬১ সালে

C.   ১৯৭১ সালে

D.   ১৯৮১ সালে

ব্যাখ্যাঃ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালে। কোন সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হয় ১৯৬১ সালে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন ১৮৮০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম- বৌঠাকুরানির হাট। ভানুসিংহ কার ছদ্মনাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৬৪. ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কোন কাব্যের উপজীব্য?

A.   জিঞ্জীর- কাজী নজরুল ইসলাম

B.   সাত সাগরের মাঝি- ফররুখ আহমদ

C.   দিলরুবা – আবদুল কাদির

D.   নূরনামা- আবদুল হাকিম

ব্যাখ্যাঃ-সাত সাগরের মাঝি কবি ফররুখ আহমদের একটি কাব্যগ্রন্থ। এতে স্থান পাওয়া একটি কবিতার নামও সাত সাগরের মাঝি। ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের ১১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পাঞ্জেরী সিন্দবাদ আকাশ নাবিক, ডাহুক, এই সব রাত্রি ইত্যাদি। বইটি উৎসর্গ করা হয় কবি আল্লামা ইকবালের প্রতি। বইটিতে পুনর্জাগরণের বাণী উচ্চারিত হয়েছে

৬৫. যা পূর্বে ছিল এখন নেই’—এক কথায় কী হবে?

A.   অপূর্ব

B.   অদৃষ্টপূর্ব

C.   গ অভূতপূর্ব

D.   ভূতপূর্ব

ব্যাখ্যাঃ-অভিধানমতে ভূতপূর্ব শব্দের অর্থ আগেকার পূর্বে ছিল কিন্তু এখন নেই এমন। সুতরাং বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত প্রাক্তন শব্দের অর্থ ভূতপূর্ব বা প্রাক্তন শিক্ষার্থী নয়, এর অর্থ আগে ছিল কিন্তু এখন নেই এমন। যে কেউ প্রান্ত হতে পারে এবং কে প্রাজন তা প্রাক্তন শব্দের সঙ্গে উল্লেখ করতে হয়।

৬৬. ‘অনল প্রবাহ’ রচনা করেন

A.   সৈয়দ ইসমাইল হােসেন সিরাজী

B.   মােজাম্মেল হক

C.   এয়াকুব আলী চৌধুরী

D.   মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী

ব্যাখ্যাঃ-অনল প্রবাহ রচনা করেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১)।তিনি ছিলেন একজন বাঙালি লেখক ও কবি। তিনি ১৯৪২০ শতকে বাঙালি মুসলিম পুনর্জাগরণের প্রবক্তাদের একজন। তিনি মুসলিমদের জন্যে বিজ্ঞানসাধনা মাতৃভাষাচর্চা নারীদের শিক্ষা এসবের পক্ষে লেখালেখি করেন। তার অনল, প্রবাহ কাব্যগ্রন্থটি সরকার রাজেয়াপ্ত করে এবং তিনি কারাবন্দী হন।”

৬৭. কোন বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A.   আমি ভাত খাচ্ছি

B.   আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব

C.   আমি দুপুরে ভাত খাই

D.   তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে ওঠো

ব্যাখ্যাঃ-সমাপিকা ক্রিয়া যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের (মনোভাব সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন ছেলেরা বন খেলছে। এ বাকো ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পেয়েছে। অসমাপিকা ক্রিয়া যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না। বক্তার আরো কিছু বেলার থাকে তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন প্রভাতে সূর্য উঠলে। আমরা হাতমুখ ধুয়ে। এখানে উঠনে এবং দুয়ে ক্রিয়াপদগুলো দ্বারা। কথা শেষ হয়নি। সুতরাং উঠলে এবং দুয়ে পদ দুটোকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

৬৮. জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ

A.   ধূসর পাণ্ডুলিপি

B.   নাম রেখেছি কোমল গান্ধার

C.   একক সন্ধ্যায় বসন্ত

D.   অন্ধকারে একা

ব্যাখ্যাঃ-ধূসর পান্ডুলিপি কবি জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ) ভারতে প্রকাশিত হয়। জীবনানন্দ এই বইটি কবি বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন

৬৯.” ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে–“

A.   আদিবাসী মানুষ অরণ্য জনপদে বাস করে

B.   বনের পশু বনে থাকতেই ভালবাসে

C.   জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর

D.   প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য আদি ও অকৃত্রিম

ব্যাখ্যাঃ-বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’ এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে — জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর। বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

৭০. কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে?

A.   ওরা কী করে?

B.   আপনি আসবেন

C.   আমরা যাচ্ছি

D.   তোরা খাসনে

ব্যাখ্যাঃ-ওরা কী করে?” বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে। নামপুরুষ : বাক্যে বক্তা অনুপস্থিত যেসব ব্যক্তি, বস্তৃত বা প্রাণীর উল্লেখ করেন, তাদের নামপুরুষ বলে। অর্থাৎ, বক্তার সামনে নেই এমন যা কিছুর কথা বক্তা বাক্যে বলেন, সবগুলোই নামপুরুষ। নাম পুরুষের সর্বনামের রূপ হলো সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি তাঁকে তাঁরা, তাঁদের ইত্যাদি।

৭১. মধ্যপদলােপী কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?

A.   ঘর থেকে ছাড়া – ঘরছাড়া

B.   অরুণের মত রাঙ্গা – অরুণরাঙা

C.   হাসিমাখা মুখ – হাসিমুখ

D.   ক্ষণ ব্যাপিয়া স্থায়ী – ক্ষণস্থায়ী

ব্যাখ্যাঃ-মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, সাহিত্য বিষয়ক সভা সাহিত্যসভা, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ, ব্রাহ্মণ ধর্মীয় প্রধান পুরোহিত = ব্রাহ্মণ পুরোহিত, জগতের রক্ষাকারী ঈশ্বর = জগদীশ্বর, সূর্য উদয়কালীন মন্ত্র= সূর্যযন্ত্র, মৌ ভর্তি চাক = মৌচাক, গাছকদম = গাছে ফুটিত কদম, সন্ধিগীত= সন্ধি যোগঘটানো গীত কাঁচা অবস্থায় কলা  = কাঁচকলা।চিকিৎসাশাস্ত্র=চিকিৎসা বিষয়ক শাস্ত্র

৭২. “শৈবাল দীঘিরে বলে উচ্চ করি শির,
লিখে রেখ, এক ফোঁটা দিলেম শিশির
এ অংশটুকুর মূল প্রতিপাদ্য”

A.   প্রতিদান

B.   প্রত্যুৎপকার

C.   অকৃতজ্ঞতা

D.   অসহিষ্ণুতা

ব্যাখ্যাঃ-শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির, লিখে রেখ, এক বিন্দু দিলেম শিশির।- এ অংশটুকুর মূল প্রতিপাদ্য অকৃতজ্ঞতা

৭৩. কোনটি ঐতিহাসিক নাটক?

A.   শর্মিষ্ঠা

B.   রাজসিংহ

C.   পলাশীর যুদ্ধ

D.   রক্তাক্ত প্রান্তর

ব্যাখ্যাঃ-রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২); পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য। এতে তিনি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।

৭৪. মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশ প্রেমের প্রবল প্রকাশ ঘটেছে

A.   মহাকাব্যে

B.   নাটকে

C.   পত্রকাব্যে

D.   সনেটে

ব্যাখ্যাঃ-মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশপ্রেম প্রবল প্রকাশ ঘটেছে সনেটে। বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনার কৃতিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেটকে বাংলায় চতুর্দশপদী নাম মহাকবি মাইকেল মধুসূদন’ই দিয়েছিলেন। বাংলা সনেট (চতুর্দশপদী) এর সার্থক স্রষ্টা কবি মধুসূদন দত্ত ১৮৬৫ খ্রীষ্টাব্দে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে অবস্থানকালেই ইতালির কবি পেত্রার্কের সনেট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম বাংলা সনেটের দিগন্ত উন্মোচন করেন। ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দে কবির চতুর্দশপদী কবিতাগুলি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই কবিতাগুলিতে কবি চিত্তের বাকুলতা স্বদেশ প্রেমিকতা ও আবেগ ধ্বনিত হয়েছে।

৭৫. ‘মোসলেম ভারত’ নামক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?

A.   মীর মশাররফ হােসেন

B.   মুন্সী রেয়াজদ্দীন আহমদ

C.   মোজাম্মেল হক

D.   রেয়াজুদ্দীন আহমদ মাশহাদী

ব্যাখ্যাঃ-মোজাম্মেল হক – ‘মোসলেম ভারত’ নামক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। মোসলেম ভারত একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ছিল। ১৯২০ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনামলের সময় এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পত্রিকার নামে মুসলিম শব্দ থাকলেও এতে অন্যান্য ধর্মের লেখকদের রচনাও প্রকাশিত হত। পত্রিকার প্রচ্ছদে ইসলামি শিল্পকলা তুলে ধরা হত। এছাড়াও প্রচ্ছদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিম্নোক্ত বাণী উৎকীর্ণ ছিল: মানব সংসারে জ্ঞানালোকের দিয়ালি উৎসব চলিতেছে। প্রত্যেক জাতি আপনার আলোটিকে বড় করিয়া জ্বালাইলে তবে সকলে মিলিয়া এই উৎসব সমাধা হইবে।”

৭৬. বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী একই শব্দের কোন দুটি বানানই শুদ্ধ?

A.   হাতি/ হাতী

B.   নারি/নারী

C.   জাতি/ জাতী

D.   দাদি/দাদী

ব্যাখ্যাঃ-বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী একই শব্দের দুটি বানানই শুদ্ধ: হাতি, হাতী [বিশেষ্য পদ] হস্তী, বারণ, কুঞ্জর, (ব্যঙ্গে) অতিশয় স্থূলকায় ব্যক্তি।

৭৭. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ নামক উপন্যাসের উপজীব্য

A.   মাঝি-মাল্লার সংগ্রামশীল জীবন

B.   জেলে-জীবনের বিচিত্র সুখ-দুঃখ

C.   চাষী-জীবনের করুণ চিত্র

D.   চরবাসীদের দুঃখী জীবন

ব্যাখ্যাঃ-চরবাসীদের দুঃখী-জীবন ‘পদ্মানদীর মাঝি নামক উপন্যাসের উপজীব্য।পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশের বিক্রমপুর ফরিদপুর অঞ্চল। এই উপন্যাসের দেবীগঞ্জ ও আমিনবাড়ি পদ্মার তীরবর্তী গ্রাম। উপন্যাসে পদ্মার তীর সংলগ্ন কেতুপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের পদ্মার মাঝি ও জেলেদের বিশ্বস্ত জীবনালেখ্য চিত্রিত হয়েছে। পদ্মা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। এর ভাঙন প্রবণতা ও প্রলয়ংকরী স্বভাবের কারণে একে বলা হয় ‘কীর্তিনাশা’ বা রাক্ষুসী পদ্মা। এ নদীর তীরের নির্দিষ্ট কোন সীমারেখা নেই। শহর থেকে দূরে এ নদী এলাকার কয়েকটি গ্রামের দীন-দরিদ্র জেলে ও মাঝিদের জীবনচিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে। জেলেপাড়ারর মাঝি ও জেলেদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না অভাব-অভিযোগ যা কিনা প্রকৃতিগতভাবে সেই জীবনধারায় অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ তা এখানে বিশ্বস্ততার সাথে চিত্রিত হয়েছে। তাদের প্রতিটি দিন কাটে দীনহীন অসহায় আর ক্ষুধা-দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই যেন তাদের জীবনের পরম আরাধ্য। এটুকু পেলেই তারা খুশি।

৭৮. কবি জসীমউদ্দীনের জীবনকাল কোনটি?

A.   ১৯০৩-১৯৭৬ ইং

B.   ১৮৮৯-১৯৬৬ ইং

C.   ১৮৯৯-১৯৯৭ ইং

D.   ১৯১০-১৯৮৭ ইং

ব্যাখ্যাঃ-জসীমউদ্দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ – ১৪ মার্চ ১৯৭৬) একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক। পল্লীকবি’ উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগরসভায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব জসীম উদ্দীনের। তার নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম। তার কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে

৭৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নিঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতায় কবির উপলব্ধি হচ্ছে—

A.   ভবিষ্যৎ বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময়

B.   বাধা-বিপত্তি প্রতিভাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে

C.   প্রকৃতি বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী

D.   ভাঙার পরেই গড়ার কাজ শুরু হয়

ব্যাখ্যাঃ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ কবিতায় কবির উপলব্ধি হচ্ছে—ভবিষ্যৎ বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময়। ১৮৮৩ সালে প্রভাতসংগীত কাব্যটির প্রকাশ। এ কাব্যগ্রন্থের কবিতায় হচ্ছে নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ। শৈশব থেকে কবি হওয়ার বাসনা ধরে সংশোধিত হতে হতে তিনি প্রভাতসংগীতের কাছে পৌঁছে যান। এ কাব্যগ্রন্থের কবিতা নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ কবিতাটি তার কাব্যচর্চার সার্থক সৃষ্টি বলেই তিনি মতামত ব্যক্ত করে গেছেন। কবিতাটিতে বাইরের জিনিসকে অন্তরে এবং তার রসায়নই যে এই কবিতার মূল নির্যাস তা তার চিত্তের উচ্ছ্বাস থেকেই বোঝা যায়। এ কবিতায় কবি যেন গ্রহীতা আর প্রকৃতি হচ্ছে দাতা। প্রকৃতির অকৃপণ দান কবি আনন্দচিত্তে গ্রহণ করেছেন। ১৮৮৩ সাল কবির জীবনে দুটি কারণে স্মরণীয় একটি নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ কবিতার গ্রন্থভুক্তি এবং প্রকাশ অপরটি তার বিয়ে। ১৮৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বাইশ বছর আট মাস বয়সে কবি রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হয়।

৮০. জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত?

A.   সমাজকল্যর নজির

B.   পানি

C.   মিছিল সারা

D.   নদী

ব্যাখ্যাঃ-জাতিবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদের সাহায্যে কোনো প্রাণী বা বস্তুর জাতি বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন মানুষ, মুসলিম, হিন্দু ইত্যাদি।

৮১. বাংলা ভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল কোনটি?

A.   দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী

B.   একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী

C.   দ্বাদশ থেকে ষােড়শ শতাব্দী

D.   ত্রয়ােদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী

ব্যাখ্যাঃ-বাংলা ভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী,

৮২. যৌগিক বাক্যের অন্যতম গুণ কী?

A.   একটি জটিল ও একটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন

B.   একটি সংযুক্ত ও একটি বিযুক্ত বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন

C.   দুটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন

D.   দুটি মিশ্র বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন

ব্যাখ্যাঃ-যৌগিক বাক্য: একাধিক সরল বাক্য কোন অব্যয় দ্বারা সংযুক্ত হয়ে একটি বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি। (সরল বাক্য দুটি তার বয়স হয়েছে তার বুদ্ধি হয়নি) সে খুব শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান। (সরল বাক্য দুটি- সে খুব শক্তিশালী, সে খুব বুদ্ধিমান) যৌগিক বাক্যে এবং, , আর, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি এই অব্যয়গুলো দিয়ে দুটি সরল বাক্য যুক্ত হয়। এগুলো দেখে সহজেই যৌগিক বাক্যকে চেনা যেতে পারে। তবে কোন অব্যয় ছাড়াও দুটি সরল বাক্য একসঙ্গে হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করতে পারে।

৮৩. কোনটি ইব্রাহিম খাঁর গ্রন্থ নয়?

A.   নোয়ার পাশা

B.   ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র

C.   কুচবরণ কন্যা

D.   সোনার শিকল

ব্যাখ্যাঃ-কুচবরণ কন্যা। লেখক-ড. আশরাফ সিদ্দিকী

৮৪. কোন প্রবচনটি ‘হতভাগ্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়?

A.   আট কপালে

B.   উড়নচণ্ডী

C.   ছা-পোষা

D.   ভূষণ্ডির কাকন

ব্যাখ্যাঃ-আট কপালে- হতভাগ্য, দুধের মাছি- সুসময়ের বন্ধু, কুল কাঠের আগুন– তীব্র জ্বালা, একাদশে বৃহস্পতি- সুসময়।

৮৫. রাবণের চিতা’ বাগধারাটির অর্থ কি

A.   অনিষ্টের ইষ্ট লাভ

B.   চির অশান্তি

C.   অরাজক দেশ

D.   সামান্য জিনিস নিয়ে ঝগড়া লাগানো

ব্যাখ্যাঃ-রাবণের চিতা’ বাগধারাটির অর্থ- চির অশান্তি

৮৬. কার সম্পাদনায় ‘সংবাদ প্রভাকর’ প্রথম প্রকাশিত হয়?

A.   প্রমথ চৌধুরী

B.   ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

C.   প্যারীচাঁদ মিত্র

D.   দীনবন্ধু মিত্র

ব্যাখ্যাঃ-সংবাদ প্রভাকর ছিল ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি দৈনিক বাংলা সংবাদপত্র। ১৮৩১ সালে একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্র হিসেবে এটি চালু হয় এবং আট বছর পর ১৮৩৯ সালে এটি একটি দৈনিক সংবাদপত্রে রূপান্তরিত হয়। এটিই বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।

৮৭. “বউ কথা কও, বউ কথা কও কও কথা অভিমানিনী সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে যত যামিনী’- এই কবিতাংশটুকুর কবি কে?

A.   বেনজীর আহমেদ

B.   কাজী নজরুল ইসলাম

C.   জীবনানন্দ দাশ .

D.   শামসুর রাহমান

ব্যাখ্যাঃ-বউ কথা কও, বউ কথা কও কও কথা অভিমানিনী সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী”- এই কবিতাংশটুকুর কবি কাজী নজরুল ইসলাম (২৫ মে ১৮৯৯ ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) । তিনি বাঙালি কবি এবং পরবর্তী কালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য এবং তিনি ছিলেন বাঙালি মনীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তার কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তার কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।

৮৮. বাংলা সাহিত্যে ‘ভােরের পাখী’ বলা হয় কাকে?

A.   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

B.   রাজশেখর বসু

C.   ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

D.   বিহারীলাল চক্রবর্তী

ব্যাখ্যাঃ-বিহারীলাল চক্রবর্তী (২১ মে, ১৮৩৫- ২৪ মে, ১৮৯৪) বাংলা ভাষার কবি। বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য ধারার ভোরের পাখি বলে আখ্যায়িত করেন। তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। মনোবীণার নিভৃত ঝংকারে তার কাব্যের সৃষ্টি।

৮৯. বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম নাট্যকার রচিত নাট্যগ্রন্থ কোনটি?

A.   জগৎ মোহিনী

B.   বসন্তকুমারী

C.   আয়না

D.   মোহনী প্রেমদাস

ব্যাখ্যাঃ-মীর মশাররফ হোসেন বসন্ত কুমারী নাটকটি রচনা করেছেন। কল্পনাকে আশ্রয় করে কিন্তু বাস্তবতার চিত্র এতে প্রস্ফুটিত। হিংসা, দ্বেষ লোলুপতার জন্য যে ভয়াবহতা সৃষ্টি হয় জীবনে তারই চিত্র তুলে ধরেছেন মীর মশাররফ হোসেন।

৯০. কোন বানানটি শুদ্ধ?

A.   বিভিষীকা

B.   বিভীষিকা

C.   বীভিষিকা

D.   বীভিষীকা

ব্যাখ্যাঃ-বিভীষিকা বানানটি শুদ্ধ। বিভীষিকা [বিশেষ্য পদ] ভয়জনক দৃশ্য, ভয়প্রদর্শন, ভীষণ ভয়,আতঙ্ক।

৯১. কোন খ্যাতিমান লেখক ‘বীরবল’ ছদ্মনামে লিখতেন?

A.   প্রমথ নাথ

B.   প্রমথ চৌধুরী

C.   প্রেমেন্দ্র মিত্র

D.   প্রমথ নাথ বসু

ব্যাখ্যাঃ-প্রমথ চৌধুরী “বীরবল” ছদ্মনামে লিখতেন। প্রমথ চৌধুরী কিছুদিন কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা করেন। কিছুকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কলেজে পড়ান। তিনি ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন। এছাড়াও তিনি মাসিক সবুজপত্র ও বিশ্বভারতী সম্পাদনা করেন। রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৪২-১৯২৩) কন্যা ইন্দিরা দেবীর (১৮৭৩-১৯৬০) সহিত তাহার বিবাহ হয়। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভাইঝি জামাই। লেখক আশুতোষ চৌধুরী (১৮৮৮-১৯৪৪) সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরীর অগ্রজ। রবীন্দ্রনাথের ভগিনী প্রতিভা দেবীর সহিত আশুতোষ চৌধুরী বিবাহ হয়। তার সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল। তার সম্পাদিত সবুজ পত্র বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষারীতি প্রবর্তনে আগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তার প্রবর্তিত গদ্যরীতিতে সবুজ পত্র নামে বিখ্যাত সাহিত্যপত্র ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তারই নেতৃত্বে বাংলা সাহিত্যে নতুন গদ্যধারা সূচিত হয়। তিনি বাংলা সাহিত্যে ইতালিয় সনেট এর প্রবর্তক।

৯২. মৌলিক শব্দ কোনটি?

A.   গোলাপ

B.   শীতল

C.   নেয়েও

D.   গৌরব

ব্যাখ্যাঃ-মৌলিক শব্দ: যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে আর কোন শব্দ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, যে সব শব্দকে ভাঙলে আর কোন অর্থসঙ্গতিপূর্ণ শব্দ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ইত্যাদি। এই শব্দগুলোকে আর ভাঙা যায় না, বা বিশ্লেষণ করা যায় না। আর যদি ভেঙে নতুন শব্দ পাওয়াও যায়, তার সঙ্গে শব্দটির কোন অর্থসঙ্গতি থাকে না। যেমন, উদাহরণের গোলাপ শব্দটি ভাঙলে গোল শব্দটি পাওয়া যায়। কিন্তু গোলাপ শব্দটি গোল শব্দ থেকে গঠিত হয়নি। এই দুটি শব্দের মাঝে কোন অর্থসংগতি নেই। তেমনি নাক ভেঙে না বানানো গেলেও নাক না থেকে আসেনি। অর্থাৎ, এই শব্দগুলোই মৌলিক শব্দ। ‘গোলাপ’ শব্দটির সঙ্গে প্রত্যয় যোগ করে আমরা গোলাপী শব্দটি বানাতে পারি। তেমনি নাক-র সঙ্গে ফুল শব্দটি যোগ করে আমরা নাকফুল’ শব্দটি গঠন করতে পারি।

৯৩. যার কোন মূল্য নেই’ তাকে বাগধারা দিয়ে প্রকাশ করলে কোনটা হয়?

A.   ডাকাবুকা

B.   তুলসী বনের বাঘ

C.   তামার বিষ

D.   ঢাকের বাঁয়া

ব্যাখ্যাঃ-ঢাকের বাঁয়া অকেজো অপ্রয়োজনীয়।

৯৪. আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন কে?

A.   আলাওল

B.   ফকির গরীবুল্লাহ

C.   সৈয়দ হাজমা

D.   রেজাউদ্দৌলা

ব্যাখ্যাঃ-আমীর হামজা মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্য। এতে বীর যোদ্ধা আমীর হামজার যুদ্ধজয়ের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। ফারসি দস্তান-ই-আমীর হামজা-র অনুসরণে বাংলা ভাষায় প্রথম (১৬৮৪) আমীর হামজা কাব্য রচনা করেন চট্টগ্রামের কবি আবদুন নবী। এরপর ফকির গরিবুল্লাহ ও সৈয়দ হামজা যৌথভাবে একই বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেন। মোট ৭০টি পর্বে এ বিশাল কাব্য সমাপ্ত হয়। এর প্রথম অংশ গরিবুল্লাহ রচনা করেন আঠারো শতকের মধ্যভাগে, বাকি অংশ তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা ১৭৯৪ সালে সমাপ্ত করেন। বটতলার ছাপাখানায় এটি মুদ্রিত হয়ে প্রচারের সুযোগ পায় বলে অধিক জনপ্রিয় হয় কিন্তু আবদুন নবীর কাব্য হস্তলিখিত পান্ডুলিপির আকারে একটি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

৯৫. বাংলা লিপির উৎস কী?

A.   সংস্কৃত লিপি

B.   চীনা লিপি

C.   আরবি লিপি

D.   ব্রাহ্মী লিপি

ব্যাখ্যাঃ-বাংলালিপির বিবর্তনের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। প্রাচীন ভারতে দু’টি লিপির ইতিহাস পাওয়া যায়। একটি হলো ব্রাহ্মী, অপরটির নাম রোষ্টি। ব্রাহ্মী লেখা হতো বাম থেকে ডানদিকে আর খরোষ্টি লেখা হতো ডান থেকে বামে। খরোষ্টি ভারতীয়দের নিজস্ব লিপি নয়। এ লিপি গৃহীত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরামিক লিপি থেকে। তবে এ লিপির ব্যবহার বিশেষ করে ভারতের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ। কুষাণযুগে খরোধি ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায় প্রাপ্ত কৃষাণমুদ্রায়, পশ্চিমবঙ্গের বেড়াচাঁপা ও চন্দ্রকেতুগড়ে প্রাপ্ত পোড়ামাটির সীল ও মৃৎমাত্রের ভগ্নাবশেষে খরোষ্টি বিপি পাওয়া গিয়েছে। তবে বাংলার লিপিতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্রাহ্মীলিপি থেকেই বিকশিত হয়েছে বাংলালিপি। ব্রাহ্মী ভারতবর্ষের প্রাচীনতম ও বহুল প্রচলিত লিপি

৯৬. কোনটি বিশেষণ জাতীয় শব্দ?

A.   জীবন

B.   জীবনী

C.   জীবিকা

D.   জীবাণু

ব্যাখ্যাঃ-জীবনী (১) (বিশেষ্য পদ| জীবনচরিত (২) (বিশেষণ পদ প্রাণদায়িনী জীবনসঞ্চারিণী।)

৯৭. বর্ণ হচ্ছে

A.   শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ

B.   একসঙ্গে উচ্চারিত ধ্বনিগুচ্ছ

C.   ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক

D.   ধ্বনির গ্রাহ্য রূপ

ব্যাখ্যাঃ-মনের কথা নিয়ে প্রকাশ করার জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে বর্ণ বলে

৯৮. “সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন”। — চরণ দুইটি কার লেখা?

A.   কাজী নজরুল ইসলাম

B.   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

C.   গোলাম মোস্তফা

D.   শেখ ফজলুল করিম

ব্যাখ্যাঃ-শেখ ফজলল করিম ৯ এপ্রিল ১৮৮/বাংলা ৩০শে চৈত্র ১২৮৯ ২৮ সেপ্টেম্বর, (১৯৩৬) একজন স্বনামধন্য বাঙালি সাহিত্যিক

৯৯. যে ভূমিতে ফসল জন্মায় না—

A.   পতিত

B.   অনুর্বর

C.   ঊষর

D.   বন্ধ্যা

ব্যাখ্যাঃ-যে জমিতে আবাদ করা হয়নি = পতিত। যে নির্ভরযোগ্য নয় = অনির্ভর। যে নারীর কোনো সন্তান হয়নি = বন্ধ্যা। যে ভূমিতে ফসল জন্মায় না = ঊষর। সুতরাং সঠিক উত্তর (গ) ঊষর – [বিশেষণ পদ যাহার মাটি লোণা: অনুর্বর মরুময়।]

১০০. অপমান’ শব্দের ‘অপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?

A.   বিপরীত

B.   নিকৃষ্ট

C.   বিকৃত

D.   অভাব

ব্যাখ্যাঃ-উপসর্গ কথাটির মূল অর্থ উপসৃষ্ট। এর কাজ হলো নতুন শব্দ গঠন করা। উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই তবে এগুলো অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে থাকে। মনে রাখতে হবে, উপসর্গ সব সময় মূল শব্দ বা ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

New Posts

নৈতিকতা, সুশাসন ও মূল্যবোধ ১

🎉 বিশেষ অফার 🎉 আমরা দিচ্ছি স্বল্পমূল্যে একাডেমিক Editable Word File যা আপনি আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে এডিট করতে পারবেন। ...