মানব
সমাজের বিবর্তন
পৃথিবীর আনুমানিক বয়স ৪৫০ কোটি বছর। পৃথিবীতে মানুষ এসেছে প্রায় দুই মিলিয়ন
বা বিশ লক্ষ বছর আগে। প্রায় বিশ হাজার বছর পূর্ব থেকে আধুনিক মানুষের যুগ শুরু
হয়েছে। মানব সমাজের বিবর্তন ধারাকে কয়েকটি ধারাকে কয়েকটি যুগে ভাগ করা হয়েছে।
প্রস্তর যুগ (Poleolithic Age)
বিশ্বের ইতিহাসে প্রস্তর যুগ বলতে মানব ও তার সমাজের বিবর্তনের একটা
পর্যায়কে বোঝান হয় যখন মানুষের ব্যবহার্য হাতিয়ার তৈরির মূল উপকরণ ছিল পাথর।
প্রস্তর যুগের শুরু হয় এখন থেকে প্রায় দশ লক্ষ বছর আগে। এর স্থায়িত্বকাল ছিল
খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ৫৫০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত।
ইতিহাসবেত্তার বিশ্লেয়ণে এ যুগকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায় যথা: প্রাচীন প্রস্তর
যুগ,মধ্য প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগ।
ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ: প্রাচীন প্রস্তর যুগের স্থায়িত্বকাল
ছিল দীর্ঘ। মধ্য প্রস্তর যুগ শুরু হওযার পূর্ব পর্যন্ত ছিল প্রস্তর যুগ। প্রাচীন
প্রস্তর যুগের মানুষের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ছিল আগুন।
|
প্রাগৈতিহাসিক মাসবের জীবাশ্ম আবিষ্কার |
||
|
পিকিং মানব (Peking Man) |
=== |
১৯২৯ সালে পিকিংয়ের (আধুনিক বেইজিং) নিকট পাওয়া যায়
প্রাগৈতিহাসিক মানুষের মাথার খুলি, চোয়ালের হাড় আবিষ্কৃত হয়। |
|
জাভা মানব (Java Man) |
=== |
১৮৯১ সালে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্গত পূর্ব জাভার সোলো
নদীর তীরে প্রাগৈতিহাসিক মানুষের মাথার খুলি, দাঁত আবিষ্কৃত হয়। |
|
হেইডেলবার্গ মানব (Heidelberg Man) |
=== |
১৯০৭ সালে জার্মানির হেইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক অধ্যাপক প্রাগৈতিহাসিক মানুষের চোয়ালের হাড়
আবিষ্কার করেন। |
খ) মধ্য প্রস্তর যুগ: প্রাচীন প্রস্তর যুগের ২০ হাজার বছর পর্যন্ত ছিল মধ্য প্রস্তর যুগ।
খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার বছর পর্যন্ত এ যুগ স্থায়ী ছিল। এ যুগে মানুষ পাথরের দক্ষতা
অর্জন করে।
গ) নব্য প্রস্তর যুগ: মধ্য প্রস্তর যুগের পরবর্তী ৭ হাজার
বছরকে বলা হয় নব্য প্রস্তর যুগ। এ যুগেও মানুষকে একান্তভাবে পাথরের সরঞ্জাম ও
হাতিয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়।
নব্য প্রস্তর যুগের পর আসে ধাতু ব্যবহারের যুগ। তামা, দস্তা, ব্রোঞ্জ, লোহা
ইত্যাদি হল ধাতু। নব্য প্রস্তর যুগের মাত্র কয়েক শত বছর তামার যুগ কাটে। তামা
আবিষ্কারের পথ ধরে মানুষ আবিষ্কার করে ব্রোঞ্জ। খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে প্রাচ্যে
ব্রোঞ্জ তৈরি হয়। লোহা আবিষ্কার হয় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।
সভ্যতার
উত্তরণ
|
সংস্কৃতি ও সভ্যতা- সংস্কৃতি বলতে কোনো সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার প্রণালী বোঝায়। মানুষের
জীবনপ্রণালী উন্নতির পথে এগিয়ে চলে। বিজ্ঞান ও কলাকৌশলগত (প্রযুক্তিগত) নতুন নতুন
আবিষ্কার ঘটে। সংস্কৃতির এ উন্নতির অবস্থাকে বলে সভ্যতা। আগুন ও হাতিয়ার ব্যবহারের
ফলে মানুষের সভ্যতার সূচনা হয়। প্রাচীন সভ্যতার অভ্যুদয় ঘটে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে।
কয়েকটি নদীর অববাহিকা ছিল প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান।
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা মেসোপটেমিয়া। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে
ইরাকে (অন্য নাম দজলা) ও ইউফ্রেটিস (অন্য নাম ফোরাত) নদীর উর্বর তীরাঞ্চলে
মেসোপটেমিয়া সভ্যতার বিকাশ ঘটে। এদের ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও একই ভূ-খন্ডে গড়ে
উঠায় একত্রিতভাবে এ সভ্যতাসমূহকে বলা হয় মেসোপটেমিয়া সভ্যতা। মেসোপটেমিয়া একটি
গ্রিক শব্দ। এর অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি। আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান
রাষ্ট্রগুলো প্রাচীন এই সভ্যতার অংশ ছিল। তবে বেশির ভাগ বর্তমানে ইরাকে অবস্থিত।
মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবলনীয় সভ্যতা, আসেরীয়
সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা।
সুমেরীয় সভ্যতা
মেসোপটেমিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে তুলেছিল সুমেরীয়গণ। সুমেরীয়দের
আদিবাস ছিল এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা
মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে। সুমেরীয়দের আয়ের মূল উৎস ছিল কৃষি। তারা
উন্নত সেচব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সুমেরীয়গণ কিউনিফর্ম (Cuneiform) নামে একটি নতুন
লিপির উদ্ভাবন করে। কিউনিফর্মকে বলা হয় অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি (Letter Based
alphabet)। সুমেরীয়দের বর্ণমালার কোন কোনটি দেখতে ইংরেজি বর্ণমালার V এর মত। জলঘড়ি
ও চন্দ্রপঞ্জিকার (Lunar Calender) আবিষ্কার সুমেরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
সভ্যতায় সুমেরীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান চাকা (Wheel) আবিষ্কার। আইনের ক্ষেত্রে
সুমেরয়ি শাসক উর-নামুর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সর্বপ্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে লিখিত
আইনের প্রবর্তন করেন যা ‘Code Of Ur-Nammu’ নামে পরিচিত।
ব্যাবলনীয় সভ্যতা
সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলের অ্যামোরাইট জাতি আনুমানিক ২০৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে একটি নগর সভ্যতা গড়ে তোলে। ব্যাবলনীয় সভ্যতার স্থপতি ছিলেন বিখ্যাত
আমোরাইট নেতা হাম্বুরাবি। হাম্বুরাবি লিখিত আইন প্রণয়ন করেন – যা হাম্বুরাবি কোড
(Code Of Hammurabi) নামে পরিচিত। সুমেরীয় অনুকরণে ব্যাবলনীয়রা সাহিত্য রচনা করে।
কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা হয় বিখ্যাত মহাকাব্য গিলগামেশ (Gilgamesh) । পৃথিবীর
প্রাচীনতম মানচিত্র পাওয়া যায় ব্যাবিলনের উত্তরের গাথুর শহরের ধ্বংসাবশেষে। এটি
ছিল ভ্রমণকারীদের পথ নির্দেশ করার জন্য সহজ ও সরল প্রকারের মানচিত্র।
অ্যাসেরীয় সভ্যতা
ব্যাবলন থেকে প্রায় দুইশত মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে আশুর নামে একটি
সমৃদ্ধ শহর গড়ে উঠে। অ্যাসিরীয় সম্রাট নিজেকে মনে করতেন সূর্যদেবতা শামসেরু
প্রতিনিধি। ইতিহাসে অ্যাসিরিয়ার পরিচয় সামরিক রষ্ট্রি হিসাবে। অ্যাসিরীয় প্রথম
বৃত্তকে ৩৬০০ তে ভাগ করে। পৃথিবীতক সর্বপ্রথম তারা
অক্ষাংশ (Latitudes) ও দ্রাঘিমাংশে (Longitudes) ভাগ করেছিল।
ক্যালডীয় সভ্যতা
ব্যাবিলন শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠায় ক্যালডীয় সভ্যতা ইতিহাসে নতুন
ব্যাবলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত। ক্যালডীয় সভ্যতার স্থপতি ছিলেন সম্রাট
নেবুচাদনেজার। ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান (The Hanging Garden of Babylon) নির্মানের
জন্য তিনি অমর হয়ে আছেন। সম্রাট নেবুচাঁদ নেজারের বাগান করতে খুব পচ্ছন্দ করতেন।
তাঁরই উৎসাহে সম্রাট নগর দেওয়ালের উপর তৈরি করলেন আশ্চর্য সুন্দর এক বাগান।
ইতিহাসে যা শূন্যউদ্যান নামে পরিচিত।
প্রাচীন
মিষরীয় সভ্যতা
মিশরীয় সভ্যতা
৫০০০-৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সময়ের মিশরকে প্রাক-রাজবংশীয় যুগ বলা
হয়। এ সময় মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। এগুলোকে বলা হত নোম। ৩২০০
খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেনেস নামের এক রাজা সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি নগর রাষ্ট্র
গড়ে তোলেন। দক্ষিণ মিশরের মেম্ফিস হয় এর রাজধানী। এভাবে মিশরে রাজবংশের সূচনা হয়।
ধর্ম
ফারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ বহুদেবতার পরিবর্তে একমাত্র সূর্যদেবতার আরাধনার
কথা প্রচার করেন। সূর্যদেবতার নাম দেওয়া হয় এটন। দেবতার নামের সাথে মিল রেখে তিনি
নিজের নাম রাখেন ইখনাটন। এভাবে সভ্যতার ইতহাসে সর্বপ্রথম ঈশ্বরের ধারণা দেন।
স্থাপত্য ও ভাস্কর্য
প্রাচীন মিষরের রাজাদের বলা হত ‘ফারাও’ (Pharaoh) । মিশরীয়রা মৃত্যুর পর
আরেকটি জীবনের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সে জীবনেও রাজা হবেন ফারাও। ফারাও
রাজাদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয় পিরামিড। পৃথিবীর সবচেয়ে কীর্তিস্তম্ভ
পিরামিড। মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুপুর পিরামিড। খুপুর পিরামিড গড়ে
উঠেছিল তের একর জায়গা জুড়ে। এর উচ্চতা ছিল প্রায় সাড়ে চারশত ফুট। মিশরীয়
ভাস্কর্যের সবচেয়ে বড় গৌরব ‘স্ফিংস’ তৈরিতে। বহুখন্ড পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হতো
এ ভাস্কর্য। স্ফিংসের দেহ সিংহের আকৃতির, আর মাথা ছিল ফারাওয়ের। ফারাওদের আভিজাত্য
শক্তির প্রতীক ছিল এ মূর্তি। ফারাও তুতেনখামেন খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩৩ – ১৩২৪ অব্দে
মিশরে রাজত্ব করেন। ১৯২২ সালে হাওয়ার্ড কার্টার তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করে
বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলেন।
লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন
মিশরীয়রা একটি লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। প্রথম দিকে ছবি এঁকে এঁকে মিশরীয়রা
মনের ভার প্রকাশ করতো। এক একটি ছবি ছিল এতে একটি অক্ষরের প্রতীক। অক্ষরভিত্তিক
মিশরীয় এ চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ (Hieroglyphics) । গ্রিক শব্দ
‘হায়ারোগ্লিফিক’ অর্থ পবিত্র লিপি। ‘প্যাপিরাস’ নামক এক ধরনের নল গাছের বাকল দিয়ে
তারা সাদা রঙের কাগজও তৈরি করত। চিত্রশিল্পীরা চিত্রে শৈল্পিক সৌন্দর্য ফুটে তোলার
জন্য দ্বিমাত্রিক পৃষ্টতল ব্যবহার করত।
বিজ্ঞান
মিশরীয়রা সর্বপ্রথম ১২ মাসে ১ বছর, ৩০ দিনে ১ মাস এই গণনারীতি চালু করেন।
যেহেতু ফারাও মৃত্যুর পর পরকালে রাজা হবেন সেহেতু তাঁর মৃতদেহকে পচন থেকে রক্ষার
জন্য মিশরীয়র বিজ্ঞানীরা মমি তৈরি করতে শেখেন।
সিন্ধু সভ্যতা
সিন্ধু নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল বলে এটি ‘সিন্ধু সভ্যতা’ নামে পরিচিত। প্রায়
৩৫০০ বছর পূর্বে দ্রাবিড় জাতি এ নগর সভ্যতা গড়ে তুলেছিল বলে মনে করা হয়।
পূর্ণবর্ধিত হরপ্পা (সময়কাল: ২৬০০-১৯০০ খ্রিস্টপূর্ব) ছিল একটি ব্রোঞ্জ যুগীর
সভ্যতা। হরপ্পা সভ্যতার শ্রেষ্ট দুটি শহর ছিল হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো। হরপ্পা নগরীটি
গড়ে উঠেছিল সিন্ধুর উপনদী রাভী’র তীরে। এটি অধুনা পাকিস্তান রাষ্ট্রের পাঞ্জাব
প্রদেশে অবস্থিত। আর সিন্ধুনদের তীরে গড়ে উঠেছিল মহেঞ্জোদারো (অর্থ-মৃতের ঢিবি)
নগরী। এই প্রাচীন সভ্যতা প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাব প্রদেশের
হরপ্পায়। ১৯২২ সালে রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লানকানা
জেলায় মহেঞ্জোদারো নগরীর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন। অপ্রত্যাশিতভাবে বেরিয়ে আসে
তাম্রযুগের নিদর্শন।
সিন্ধু সভ্যতায় এক অভিজাত ও নগরাঞ্চলীয় সংস্কৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়। দুটি
শহরেই পাকা নর্দমা ছিল। শহরে রাস্তার দুপাশে দোতলা তিনতলা বাড়ি ছিল। প্রতি বাড়িতে
ছিল চৌবাচ্চাসহ গোসলখানা, কূপ। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পায় হাড় ও পাথরের তৈরি সীলমোহর
পাওয়া গেছে। সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া সীল ও মাটির পাত্রের সাথে মেসোপটেমিয়ার দ্রব্যের
মিল আছে। সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ লোক কৃষিকাজ করত। এই সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ
অবদান হল পরিমাপ পদ্ধতি উদত্ভাবন করা। দ্রব্য ওজনের জন্য নগরবাসী বিভিন্ন পরিমাপের
বাটখারা ব্যবহার করক। দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য তারা বিভিন্ন স্কেল ব্যবহার করত। সিন্ধু
সভ্যতার পতন শুরু হয় আনুমানিক ১৫০০ খিস্টপূর্বাব্দে। কিভাবে সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংস
হয় সে বিষয়ে পন্ডিতগণ সঠিক কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। হয়তো বাহিরের কোন শত্রুর
আক্রমণ অথবা প্রচন্ড কোন ভূমিকম্প বা ভয়াবহ কোন বন্যার ফলে এ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে
যায়।
ফিনিশীয় সভ্যতা
লেবানন পর্বত এবং ভূমধ্যসাগরের মাঝামাঝি এক ফালি সরু ভূমিতে ফিনিশীয়
রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। কৃষিকাজ করার মত এখানে উর্বর জমি ছিলনা। তাদের আয়ের একমাত্র
উৎস ছিল বাণিজ্য।
ফিনিশীয়দের অবদান
মৃতের সৎকারের জন্য চিলঘর ব্যবহার করে জোরোস্ট্রিয় বা জরথুস্ত্র
ধর্মাবলম্বীরা। পারস্যের ইতিহাসে কাইরাস ও দারিয়ুস ছিলেন সবচেয়ে সফল শাসক। ৩০০
খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার অধিকার করে নেন সমগ্র পারস্য
সাম্রাজ্যকে।
সাংস্কৃতিক উন্নতি
সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হল বর্ণমালা (Alphabet) এর
উদ্ভাবন। তারা ২২ টি ব্যঞ্জনবর্ণের (Consonants) উদ্ভাবন করে। আধুনিক বর্ণমালার
সূচনা হয় এখান থেকে। ফিনিশীয়দের উদ্ভাবিত বর্ণমালার সাথে পরবর্তীতে গ্রিকরা
স্বরবর্ণ (Vowels) যোগ করে বর্ণমালাকে সম্পূর্ণ করে।
কারিগরি দক্ষতা
ফিনিশীয়রা মাটির পাত্র তৈরি করতে পারত। দক্ষতার সাথে কাপড় তৈরি ও রং করতে
পারত।
পারস্য সভ্যতা
আজকের ইরান প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ
থেকে ৬০০ অব্দের মধ্য এখানে আর্যরা এক উন্নত সভ্যতা গড়ে তোলে। এ সভ্যতার
অধিবাসীরা সামরিক শক্তিতে খ্যাতিমান ছিল। সভ্যতার ইতিহাসে দুইটি ক্ষেত্রে
পারসীয়দের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি সুষ্ঠ ও দক্ষ শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা
এবং দ্বিতীয়টি ধর্মীয় ক্ষেত্রে নতুন ধারণা নিয়ে আসা। জরথুষ্ট্র নামে পারস্যে কে
ধর্মগুরু ও দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে। জরথুষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্ম
‘জরথুস্ট্রবাদ’ নামে পরিচিত। মৃতের সৎকারের জন্য চিলঘর ব্যবহার করে জোরোস্ট্রিয়
বা জরথুষ্ট্র ধর্মাবলম্বীরা। পারস্যের ইতিহাসে কাইরাস ও দারিয়ুস ছিলেন সবচেয়ে সফল
শাসক। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার অধিকার করে নেন সমগ্র পারস্য
সাম্রাজ্যকে।
হিব্রু সভ্যতা
প্যালেস্টাইনের জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে হিব্রু সভ্যতার
বিকাশ ঘটেছিল। হিব্রু কোন জাতির নাম নয়। ‘হিব্রু’ একটি সেমাটিক ভাষা। এ
ভাষায় কথা বলা লোকেরাই হিব্রু নামে পরিচিত। হিব্রদের আদিবাস ছিল আরব মরুভূমিতে।
বর্তমান ইসরাইল অধিবাসীরা হিব্রুদের বংশধর। হিব্রুরা তাদের অবদানের পুরোটাই রেখেছে
ধর্মীয় ক্ষেত্রে। হিব্রুরা সর্বপ্রথম একেশ্বরবাদের কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করে।
অবশ্য অনেককাল পূর্বে মিশরের ফারাও ইখনাটন এক দেবতার আরাধনাার আহবান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু তা তেমন জনপ্রিয় হতে পারেনি। হিব্রুদের নবী হযরত মুসা (আ:), হযরত দাউদ (আ:)
এবং হযরত সুলায়মান (আ:) মানুষের প্রচলিত ধর্মীয় চেতনায় নতুন আলোড়ন তোলেন।
প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা
তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা বেড়ে উঠতে থাকে। প্রথমটি হোয়াংহো (অন্য
নাম পীত বা হলুদ) নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াংজেকিয়াং নদীর তীরে তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনে
গড়ে উঠেছিল।
দর্শন
চীনের প্রাচীনতম দার্শনিক ছিলেন লাওৎসে। তাঁর মতবাদের নাম ঠিল তাওবাদ।
চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন কনফুসিয়াস (৫৫১-৪৭৯ খ্রি.পূ.)।
কনফুসিযাসের প্রধান অনুসারী ছিলেন মেনসিয়াস।
সুন সু (Sun Tzu) ছিলেন প্রাচীন চীনের একজন সমরনায়ক,
যুদ্ধকৌশলী ও দার্শনিক। তাকে ‘আর্ট অব ওয়ার’ বা ‘রণকৌশল’ নামক যুদ্ধবিদ্যার
প্রাচীন চৈনিক বইটির রচঢিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চীনের মহাপ্রাচীর
চীনের প্রাচীর মনুষ্য নির্মিত সর্ববৃহৎ স্থাপনা। এটি চীনের উত্তর সীমান্তে
অবস্থিত। মিনগ শাসনামলে পরিমাপকৃত পরিখা, প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকসহ প্রাচীরের দৈর্ঘ্য
৮৮৫০ কি.মি. (৫৫০০ মাইল)। শুধুমাত্র প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ৬২৫৯ কিমি (৩৮৮৯ মাইল)।
মহাপ্রাচীরের নির্মানকাল-
- প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্যকাল(৭৭০ – ২২১ খ্রিস্টপূর্ব)
- কিন শাসনামলে (২২১ – ২০৭ খ্রিস্টাব্দ)
- হান শাসনামলে (২০৬ খ্রিস্টপূর্ব – ২২০ খ্রিস্টাব্দ)
- মিনগ শাসনামলে (১৩৬৮ – ১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ)
- কুইং শাসনামলে (১৬৪৪ – ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ)
ইজিয়ান সভ্যতা
গ্রিস ও এশিয়া মাইনরকে পৃথক করেছে ইজিয়ান সাগর। এই ইজিয়ান সাগর জুড়ে ছিল
ছোট বড় অনেক দ্বীপ। ইজিয়ান সাগরের দ্বীপমালা ও এশিয়া মাইনরের দইপকূলে একটি উন্ন
নগর সভ্যতা গড়ে উঠে। ইতিহাসে এ সভ্যতা ইজিয়ান সভ্যতা নামে পরিচিত। গ্রিসে সভ্যতা
গড়ে তোলার প্রস্তুতিপর্ব ছিল এ সভ্যতা। ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইজিয়ান সভ্যতার পতন
ঘটে।
গ্রিক সভ্যতা
‘গ্রিক’ ও ‘গ্রিস’ শব্দ দুটি
যথাক্রমে জাতি ও দেশ। গ্রিসের ভৌগলিক পরিবেশ ছিল একটু ভিন্ন ধরনের। এ অঞ্চলে
অনেকগুলো পাহাড় দাঁড়িয়ে ছিল দেয়ালের মত। ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেশ কয়েকটি অঞ্চলে
ভাগ হয়ে যায় দেশটি। এ ছোট দেশগুলোর নাম হয় নগর রাষ্ট্র। এদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়
ছিল স্পার্টা ও এথেন্স।
স্পার্টা ছিল একটি সামরিক নগর রাষ্ট্র। রাষ্ট্রনেতারা ছিল স্বৈরাচারী। পক্ষান্তরে
প্রতিবেশী এথেন্স ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এথেন্সে রাষ্ট্র পরিচালনায় তখন দুইটি
সংসদ ছিল। গোত্র প্রধানদের নিয়ে গড়া সংসদকে বলা হত ‘এরিওপেগাস’ এবং সাধারণ
নাগরিকদের সমিতিকে বলা হত ‘একলেসিয়া’। এথেন্সে চুড়ান্তভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
করেন পেরিক্লিস। পেরিক্লিস এথেন্সের ক্ষমতায় আসেন ৪৬০ খ্রিস্টাব্দে। স্পার্টা ও
এথেন্স উভয় দেশ একে অন্যের শত্রু ছিল। এথেন্স তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে একটি
জোট গঠন করে। এর নাম হয় ‘ডেলিয়ান লীগ’ । অন্যদিকে স্পার্টা তাঁর বন্ধু
রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে গঠন করে আরেকটি জোট। এ জোটের নাম হয় ‘পেলোপনেসীয় লীগ’। এক সময়
এই দুই জোটের মধ্য যুদ্ধ বেধে যায়। ইতিহাসে এ যুদ্ধ ‘পেলোপনেসীয় যুদ্ধ’ নামে
পরিচিত। ৪৬০ থেকে ৪০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মোট তিনবার যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে
চূড়ান্ত পতন ঘটে এথেন্সের। ৩৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এথেন্স চলে আসে স্পার্টার অধীনে।
এরপর নগররাষ্ট্র থিবস দখল করে নেয় এথেন্স। ৩৩৮ খিস্টপূর্বাব্দে ম্যাসিডনের রাজা
ফিলিপস থিবস অধিকার করে নেয়। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৫ অব্দে দ্বিতীয় ফিলিপসের মৃত্যু হলে
আলেকজান্ডার ম্যাসিডনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে ব্যাবিলনে
তাঁর মৃত্যু হয়।
ভৌগলিক অবস্থান
প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ভূমধ্যসাগরকে কেন্দ্র করে। ভৌগোলিক ও
সাংস্কৃতিক কারণে গ্রিক সভ্যতার সাথে দুইটি সংস্কৃতির নাম জুড়িয়ে আছে। একটি
‘হেলেনিক’ (Hellenic) এবং অন্যটি ‘হেলেনিস্টিক’ (Hellenistic)। গ্রিসকে হেলেনীয়
সভ্যতার দেশ বলা হয়। গ্রিসের প্রধান শহর এথেন্সে শুরু থেকেই যে সংস্কৃতি গড়ে
উঠেছিল, তাকে বলা হয় হেলেনিক সংস্কৃতি। গ্রিস উপদ্বীপ ছিল এ সংস্কৃতির মূল
কেন্দ্র। খিস্টপূর্ব ৩৩৭ অব্দ পর্যন্ত হেলেনিক সভ্যতা টিকে ছিল। এ সময় মিশরের
আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক সংস্কৃতি ও অগ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে এক নতুন
সংস্কৃতির জন্ম হয়। ইতিহাসে এ সংস্কৃতির পরিচয় হয় হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি নামে।
ধর্ম
গ্রিকরা বহুদেবতায় বিশ্বাসী ছিল। গ্রিকদের প্রধান দেবতা ছিলেন জিউস। দেবতা
এপোলো ও দেবী এথেনাও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিকবাসী বিশ্বাস করত দেবতাদের বাস
উত্তর গ্রিসে অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায়।
|
গ্রিক দেবী বা দেবতার নাম |
পরিচিতি |
|
আফ্রোডায়িট (Aphrodite) |
ভালবাসা, রোমাঞ্চ এবং সৌন্দর্যের দেবী |
|
অ্যাপোলো (Apollo) |
সূর্য, আলো, চিকিৎসাবিদ্যা এবং সঙ্গীতের দেবতা |
|
এরিস (Ares) |
যুদ্ধদেবতা |
|
আরটেমিস (Artemis) |
শিকার, বন, উর্বরতা এবং চাঁদের দেবী |
|
এথেনা (Athena) |
প্রজ্ঞার দেবী (জিউসের কন্যা) |
|
ডিমিটার (Demeter) |
কৃষি বিষয়ক দেবী |
|
হারমেস (Hermes) |
ব্যবসা বিষয়ক দেবতা (রোমান নাম মারকারি) |
|
হেরা (Hera) |
বিবাহ বন্ধন অটুট রাখার দেবী। (জিউসের স্ত্রী) |
|
জিউস (Zeus) |
দেবতাদের রাজা |
ট্রয়ের যুদ্ধ: গ্রিক পুরাণের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা
অংশ হল ট্রয়ের যুদ্ধ। ট্রয়ের যুদ্ধের শুরুটা হয়েছিলো তিনজন গ্রিক দেবীর মধ্যে
ঝগড়ার কারণে। দেবী তিনজন হলেন এথেনা, হেরা এবং আফ্রেদিতি। ইনাদের মধ্যে আবার ঝগড়া
লাগিয়েছিলেন আরেক দেবী ‘এরিস’। ঝগড়া বাঁধানোর কারণটাও যুক্তিযুক্ত – এরিস হলেন ঝগড়া
আর বিশৃংখলার দেবী। তিনি একটা সোনালী আপেল দিয়েছিলেন এই তিন দেবীকে, যাকে মাছে
মধ্যে ‘বিশৃঙ্খলার আপেল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং যার গায়ে খোদাই করা ছিল এই
বাক্যটি ‘শ্রেষ্ট সুন্দরীর জন্য’। ফলে তিনজন দেবীর রূপ বিচারের সাহস পেলেন না।
বাধ্য হয়ে জিউস সুন্দরীতমা নির্বাচনের ভার দিলেন ট্রয় নগরীর রাজপুত্র প্যারিসকে,
যিনি ছিলেন আপদমস্তক একজন মানুষ। প্যারিস আফ্রোদিতিকে সবচেয়ে সুন্দরী বললেন এবং
বিনিময়ে উপহার হিসেবে আফ্রোদিতির কাছ থেকে পেলেন জগদের শ্রেষ্ট সুন্দরীর ভালোবাসা।
সে সময় সবচেয়ে সুন্দরী মানবী ছিলেন হেলেন, যিনি ছিলেন গ্রিসের স্পার্টার রাজা
মেনেলাসের স্ত্রী। যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলো যখন প্যারিস হেলেনকে নিয়ে ট্রয়ে পালিয়ে
আসেন। মেনেলাস তার ভাই ‘মাইসিনে’ রাজ্যের রাজা আগামেমননকে আহ্বান করলেন যুদ্ধে
যাওয়ার জন্য, হেলেনকে ফিরিয়ে আনার জন্য। আগামেমনন তার অ্যাশিয়ান্স দল নিয়ে রওনা
দিলেন ট্রয়ের উদ্দেশ্যে। প্রায় দশ বছর ধরে আগামেমমননের সৈন্যবাহিনী চারদিক দিয়ে
ট্রয় নগরীকে ঘিরে রাখলো। রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে মারা গেলেন অ্যাশিয়ান্স বীর
অ্যাকিলিস, অ্যাজাক্স েএবং ট্রোজান বীর প্যারিস ও তার ভাই হেক্টর। একসময় গ্রিক
যোদ্ধারা ‘ট্রোজান হর্স’ নামক একটা চাতুরীর আশ্রয় নিলো ট্রয় নগরীতে ঢোকার জন্য।
ট্রোজানরা সাধারণ কাঠের ঘোড়া ভেবে ‘ট্রোজান হর্স’ কে ঢুকতে দিয়েই করে বসলো সবচেয়ে
বড় ভুল।
এই কাহিনী এতোটাই মনোমুগ্ধকর এবং রোমাঞ্চকর যে, গ্রিক সাহিত্য কিংবা রোমান
সাহিত্যের একটা উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে ট্রয়ের যুদ্ধ। বিশেষ করে মহাকবি
হোমারের দুটো মহাকাব্য-ইলিয়াড, ওডিসির মাধ্যমে এই রোমান্টিক ট্র্যাজেডি অমর হয়ে
আছে। প্রাচীনকালে গ্রিসবাসীরা বিশ্বাস করতেন, ট্রয়ের যুদ্ধে একটা ঐতিহাসিক সত্য
কাহিনী। তারা ভাবতেন, ঘটনাটি ঘটেছিলো খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০ বা ১২০০ অব্দে। অনেকে ভাবতের
, ট্রয় নগরী বা ট্রয়ের যুদ্ধ- উভয়ই বিষয়ই নিছক গল্পগাঁথা। কিন্তু ট্রোজান যুদ্ধের
কাহিনী জনপ্রিয় হয়ে উঠে যখন ১৮৬৮ সালে হেইনরিখ শ্লিম্যান এবং ফ্রাঙ্ক ক্যালভার্ট
নামক দুজন প্রত্নতাত্ত্বিক তুরস্কের হিসার্লিক অঞ্চলে ট্রয় নগরী খুঁজে পান।



Thank You