Download
বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলী
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহৃত পতাকার উপর ভিত্তি করে এই পতাকা নির্ধারণ করা হয়, তখন মধ্যের লাল বৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল, পরবর্তীতে পতাকাকে সহজ করতেই, মানচিত্রটি বাদ দেয়া হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাপানের জাতীয় পতাকার সাথে মিল রয়েছে, কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশের সবুজের স্থলে, জাপানীরা সাদা ব্যবহার করে। লাল বৃত্তটি একপাশে একটু চাপানো হয়েছে, পতাকা যখন উড়বে তখন যেন এটি পতাকার মাঝখানে দেখা যায়।
১৯৭০ সালের ৭ জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সামরিক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশ গ্রহণের কথা ছিল। এই লক্ষ্যে ছাত্রদের নিয়ে একটি জয়বাংলা বাহিনী, মতান্তরে 'ফেব্রুয়ারী ১৫ বাহিনী' গঠন করা হয়। ছাত্র নেতারা এই বাহিনীর একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এই লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরসার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (তৎকালীন ইকবাল হল) ১১৬ (বর্তমান ১১৭-১১৮) নং কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমেদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন। এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিবনারায়ন দাশ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন আহমেদ।
সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার উপর ভিত্তি করে সবার আলোচনার শেষে সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান (খসরু) তখন ঢাকা নিউ মার্কেটের এক বিহারী দর্জির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনেন; এরপর ইউসুফ সালাউদ্দিন আহমেদ ও হাসানুল হক ইনু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কায়েদে আজম হল (বর্তমানে তিতুমীর হল)এর ৩১২ নং কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে মানচিত্রের বই নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকেন পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ পরিশেষে তার নিপুন হাতে মানচিত্রটি লাল বৃত্তের মাঝে আঁকেন
১৯৭১ সালের ২রা মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরবটতলায় বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্র নেতা আ.স.ম. আব্দুর রব। তিনি সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের চিহ্ন চাঁদ তারা ব্যবহার না করার জন্য নতুন এই প্রতীক তৈরী করা হয়েছিল। সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যক্টবুক অনুযায়ী বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি বুঝাতে পতাকায় সবুজ রং ব্যবহার করা হয়েছিল।
শেখ মুজিবুর রহমান মার্চ ২৩ তারিখে তার বাসভবনে, স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার শিবনারায়ণ দাশের ডিজাইনকৃত পতাকার মাঝে মানচিত্রটি বাদ দিয়ে পতাকার মাপ, রঙ ও তার ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি প্রতিবেদন দিতে বলে পটূয়া কামরুল হাসানকে। কামরুল হাসান দ্বারা পরিমার্জিত রূপটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক উভয় পাশে ধানের শীষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান শাপলা ফুল। তার মাথায় পাট গাছের পরষ্পর সংযুক্ত তিনটি পাতা এবং উভয় পাশে দুটো করে মোট চারটি তারকা। চারটি তারকা সংবিধানের চারটি মূলনীতি নির্দেশ করে। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের রূপকার হলো কামরুল হাসান।
বাংলাদেশ সরকারের সীলমোহর
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল রঙ্গের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙ্গের বাংলাদেশের মানচিত্র। বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং নিচে লিখা সরকার। বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা। আর এই মনোগ্রামের ডিজাইন করেছেন এ এন এ সাহা।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন
জাতীয় সংসদ ভবন রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত। এ অসাধারণ স্থাপত্যের জন্য জাতি গর্বিত। পিরামিডের সময় থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত ব্যাপ্ত স্থাপত্যসমূহের যদি একটি বাছাই তালিকা করা হয় তবে তাঁর মাঝেও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন উপরের সারিতেই স্থান পাবে। বলা যায়, এটি আধুনিক যুগের স্থাপত্য রীতির সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন এবং এর মাধ্যমে সূচিত হয় আধুনিকোত্তর যুগের স্থাপত্য রীতির। এ অসাধারণ ভবনটি আমেরিকার স্থাপতি লুই আই কান-এর সৃষ্টিশীল ও কাব্যিক প্রকাশের নিদর্শন।
১৯০১ সালে এস্তোনিয়ার এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণকারী লুই কান তাঁর পিতা-মাতার সাথে আমেরিকায় অভিবাসিত হন। পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে স্থাপত্যে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ফিলাডেলফিয়ায় তিনি তাঁর কর্ম জীবন শুরু করেন। একই সাথে তিনি ইউনিভার্সিটিতেও শিক্ষকতা করতেন। ফিলাডেলফিয়ার রিচার্ড মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি নকশার মাধ্যমে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কর্মের মধ্যে ফিলিপস এক্সটার অ্যাকাডেমি লাইব্রেরি, ব্রায়েন ময়ার ডরমিটরি, ইয়েল আর্ট গ্যালারি, শালক্ ইনস্টিটিউট, কিম্বল আর্ট মিউজিয়াম, ভারতে আহমেদাবাদ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, নেপালে ফ্যামিলি প্লানিং সেন্টার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর সবচেয়ে বড় ও সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্স। লুই আই কান-এর মৃত্যুর পর তাঁর সহকারী হেনরী উইলকট কমপ্লেক্সটির পরিবর্তিত নকশা সম্পাদন করেন। হেনরী এম. প্যামব্যাম এর কাঠামোটি ডিজাইন করেন। ভবনটি সৃষ্টিশীলতা ও কারিগরি মিশেলের এক বিস্ময়।
১৯৫৯ সালে প্রথম ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সটির পরিকল্পনা গৃহীত হয়। তৎকালীন সামরিক সরকার পাকিস্তানের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় রাজধানী শেরে বাংলা নগরে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংসদ ভবন র্নিমাণের পরিকল্পনা থেকে বর্তমান সংসদ ভবনটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তখনকার খ্যাতনামা স্থাপতি লুই কান ভবন কমপ্লেক্সটির নকশা প্রণয়নের জন্য প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হন। তাঁকে সরাসরি কাজে নিযুক্ত না করে ভবনের প্রাথমিক নকশা প্রদানের জন্য বলা হয় এবং ১৯৬২ সালের মার্চ মাসে তিনি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পান। ১৯৬১ সালে বর্তমান মানিক মিয়া এভিনিউ-এর উত্তর পার্শ্বে ২০৮ একর জমি দ্বিতীয় রাজধানী প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয় এবং ১৯৬২ সালে মূল নকশা প্রস্ত্তত হয়। ১৯৬৪ সালে ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুমিত ব্যয় ধরে কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সমস্ত সুবিধাদিসহ ৩২ মিলিয়ন ডলারের পরিবর্তিত ব্যয়ে কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে। কমপ্লেক্সটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে মূল সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য, মিনিস্টার ও সেক্রেটারিদের হোস্টেল, অথিতি ভবন ও কমিউনিটি বিল্ডিং। রাস্তা, হাটার পথ, বাগান ও লেক দ্বারা এ সমস্ত কিছুই আকষর্ণীয় করে তোলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোট, মসজিদ ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনের ক্ষেত্রে মূল মাস্টারপ্ল্যানে পরিবর্তন সাধিত হয়। এ ভবনগুলি যতটা কম আকর্ষণীয় করা যায় সেদিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এগুলি প্রধান সংসদ ভবন এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মিত ভবনগুলির মধ্যে প্রেসিডেন্টের বাসভবন (বর্তমানে গণভবন ও প্রধান মন্ত্রীর সরকারি বাসভবন) ছিল একটি। ১৯৬৪ সালে সংসদ ভবনের নকশা সম্পন্ন হয় এবং এর পরপরই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্মাণাধীন প্রধান অবকাঠামোটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ভবনের মূল নকশায় কোনো রকম পরিবর্তন না এনে নির্মাণ সম্পন্ন করার কৃতিত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর বিশালত্বের মাঝে নিহিত। মার্বেল পাথর সংযুক্ত বিপুল কংক্রিটের বহির্দেয়ালের মাঝে মাঝে রয়েছে নিখুঁত জ্যামিতিক আকৃতির প্রবশদ্বার। বৃত্তাকার ও আয়তাকার কংক্রিটের সমাহার ভবনটিকে দিয়েছে এক বিশেষ স্থাপত্যিক সৌকর্য যা এর মহান উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভবনের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে হলো সংসদের প্রধান হল, যেখানে সংসদ সদস্যগণ পার্লামেন্টে বসেন। সমকেন্দ্রিক নকশার মূল হলরুমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অংশগুলি গড়ে উঠেছে। ছাদ দিয়ে প্রবেশ করা আলোর মালা সাত তলা উঁচু গোলাকার মূল হলরুমটি এমনভাবে বেষ্টিত ঠিক যেন দেবীর মঞ্চকে ঘিরে উম্মুক্ত গোলাকার পথ। মূল ভবনের চারবাহু বরাবর চার কোণে অন্যান্য কাজের জন্য রয়েছে চারটি একই ধরনের অফিস ব্লক। যোগাযোগের জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্রকার সিড়ির ব্যবস্থা। বর্গাকার নকশার হলেও এটি নিপুণ ভাবে অষ্টভুজের মধ্য স্থাপিত হয়েছে। নয়তলা বিশিষ্ট হলেও অনুভূমিক যোগাযোগ রয়েছে মাত্র তিনটি তলায়। মাটির উপরে কাঠামোটির উচ্চতা ৪৯.৬৮ মিটার।
মূল ভবন কমপ্লেক্সটির নয়টি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত। এর মধ্য আটটি ৩৩.৫৩ মিটার এবং কেন্দ্রীয় অষ্টভুজাকার ব্লকটি ৪৭.২৪ মিটার উঁচু। কেন্দ্রীয় ব্লকটি ৩৫৪ আসন ধারণক্ষম অ্যাসেম্বলি কক্ষ নিয়ে গঠিত। সমগ্র কমপ্লেক্সটির আয়তন (floor area) হলো মূল ভবনে ৭৪,৪৫৯.২০ বর্গমিটার, দক্ষিণ প্লাজায় ২০,৭১৭.৩৮ বর্গমিটার এবং উত্তর প্লাজায় ৬,০৩৮.৭০ বর্গমিটার। দক্ষিণ প্লাজার মূল প্রবেশ পথটি একটি প্রশস্ত সিঁড়ির আকারে ধীরে ধীরে ৬.২৫ মিটার উচ্চতায় উঠে গেছে। এর বেসমেন্টে রয়েছে পার্কিং এলাকা, তত্ত্বাবধায়ক এজেন্সির অফিস ও মূল ভবনের সুবিধাদি প্রদানের জন্য স্থাপিত বিভিন্ন ব্যবস্থা। একটি কৃত্রিম লেক ভবনের চার পাশের প্রাচীর ঘিরে আছে এবং এটি উত্তর ও দক্ষিণ প্লাজাকেও সংযুক্ত করেছে। সমস্ত ভবনটাকে মনে হয় যেন পানির উপরে ভেসে উঠেছে। র্পালামেন্ট ভবনে প্রবেশের জন্য রয়েছে দক্ষিণের গ্র্যান্ড প্লাজা ও উত্তরে সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত বাগান ও ইউক্যালিপটাসের সারি শোভিত প্রেসিডেন্সিয়াল স্কয়ার। উত্তর প্রবেশ পথের দিকে রয়েছে একটি এ্যাম্পি থিয়েটার যেখানে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর প্লাজা পেরিয়ে ক্রিসেন্ট লেকের পাশে রয়েছে একটি রাস্তা।
ভবনের কোথাও কোনো কলাম নেই। শূন্য স্থানের অংশ হিসেবে ফাঁপা কলাম রয়েছে ঠিকই কিন্তু তা শুধুই কাঠামো নকশায় ভারসাম্য রক্ষার্থে ব্যবহূত হয়েছে। এটি অনেকটাই বিশাল কংক্রিটকে খোদাই করে পরিণত করা হয়েছে একটি অসাধারণ কার্যকর ভাস্কর্যে। নির্মাণ মসলা হিসেবে কংক্রিট ব্যবহূত হয়েছে এবং ভেতরে ও বাইরের অংশে ব্যবহূত হয়েছে ঢালাই কংক্রিট। যে দক্ষতার সাথে আলোকে প্রয়োগ করা হয়েছে তাই হলো কান-এর নকশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ছাদ দিয়ে প্রবেশকৃত আলো বিভিন্ন জায়গাকে যেভাবে আলোকিত করেছে তাতে মনে হয় আলোকচ্ছটা ঝরে পড়ছে স্বর্গ থেকে।
জাতীয় সংসদ ভবনের নকশায় সূর্যের আলো এবং বৃষ্টির প্রতিরোধকে বিবেচনা করা হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে। অন্যদিকে বাতাসের বাধাহীন চলাচলকে সম্ভব করেছে বহিস্থ ফাসাদের বিশাল জ্যামিতিক ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র, সম্পূর্ণ বৃত্ত ও বৃত্তাংশ এবং সমতল খিলানসমূহ। ভবন কাঠামোটি একটি অসাধারণ সৌধ হিসেবে দৃষ্টিগোচর হয়। এখানে বাইরের দিকে গতাণুগতিকভাবে জানালা স্থাপন পদ্ধতিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং মূল দেওয়ালে ফাঁক সৃষ্টি করে বিশাল স্থাপত্যের অসুবিধাকে দূর করা হয়েছে। স্থাপত্যিক শৈলীতে ভবনটি ঢাকার আধুনিক ভবনসমূহ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।
এ ভবনের প্রধান সমালোচনার বিষয় এর অত্যধিক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। ৫৮,৩২৭.৫৯ বর্গমিটার (পার্লামেন্ট ভবন ৩.৪৪ একর; উত্তর প্লাজা ১.৪৬ একর; দক্ষিণ প্লাজা ৪.৯৮ একর এবং আবাসিক ভবন, হোস্টেল, বাগান, রাস্তা, লেক ইত্যাদি) এলাকার এ ভবন কমপ্লেক্সটির সর্বমোট নির্মাণ ব্যয় ১২৮ কোটি টাকা। ভবন কমপ্লেক্সে ৫০টি সোপান, ৩৪০টি শৌচাগার, ১৬৩৫টি দরজা, ৩৩৫টি জানালা, ৩০০টি পার্টিশন দেওয়াল, ৩,৩৩০.৫৭ বর্গমিটার কাঁচের শাটার, ৫,৪৩৪.৮৩ বর্গমিটার কাঠের শাটার, ৩,৭৩৮ ঘন মিটার কাঠের প্যানেল রয়েছে। ভবনের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। ভবনের সর্বোচ্চ তলাটি বা লেবেল ১০ ব্যবহার্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতির জন্য ব্যবহত হয়।
১৯৮২ সালের প্রথম দিকে ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয় এবং একই বছর ২৮ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট জাস্টিস আব্দুস সাত্তার এটির উদ্বোধন করেন। ১৯৮২ সালের ১৫ ফের্রুয়ারি এ ভবনে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পৃথিবীর প্রায় সকল স্থাপত্য বিষয়ক পত্র-পত্রিকায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন আলোচিত হয়েছে এবং এটি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। পুরস্কার প্রদানের সময় প্রকাশিত সম্মাননা পত্রে বিধৃত উক্তি এ প্রকল্পের একটি প্রকৃষ্ট মূল্যায়ন করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অসাধারণ সামর্থতায় স্থাপত্যিক গুরুত্বসহ অবয়ব ও সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ এ ভবনটি জুরি র্বোড কর্তৃক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এ বলে যে, এ গরিব দেশটির নিকট শেরে বাংলা নগরে স্থাপিত এর প্রয়োজন কতটুকু। তারপরও ভবনটির নকশা এবং নির্মাণ পরিকল্পনা ... প্রকাশ করে যে কালক্রমে এটি ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে এটি দাড়িয়ে আছে এবং বিভিন্ন কল্যাণকর উপায়ে দেশটিকে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে চলেছে। স্থাপত্যকে ছাড়িয়েও ভবনটি এর বিভিন্ন পার্ক এবং জলাশয়ের মধ্য দিয়ে আশপাশের এলাকাকে সম্পৃক্ত করেছে ... স্থপতি ঢাকার স্থানীয় নির্মাণ শৈলীকে নতুন করে রূপদান করেছেন। এর ফল হলো এমন একটি ভবন যা নমুনা, সুষমা ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে সর্বজনীন হয়েও আর কোথাও এর বিকাশ সম্ভব ছিল না।
বাংলাদেশের-ভৌগলিক-অবস্থান-এবং-সীমানা
বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়
বাংলাদেশ বনাম ভারতঃ বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ২৫,৬০২ বর্গ কি. মি. সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ ছিল। নেদারল্যান্ড এ অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মামলা হয়। ৭ জুলাই। ২০১৪ মামলাটির রায় হয়। রায়ে বাংলাদেশের লাভ হয় ১৯,৪৬৭ বর্গ কি. মি.।
বাংলাদেশ বনাম মিয়ানমার : ২০১২ সালে ১৪ মার্চ জার্মানিতে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এ বাংলাদেশ মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয়।
সীমান্তবর্তী জেলা
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২ টি। ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলা ৩০ টি।
চট্টগ্রাম , রাঙ্গামাটি , খাগড়াছড়ি, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। , জয়পুরহাট, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর
মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা তিনটি। যথাঃ রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার।
সীমান্তবর্তী স্থান
জেলা | সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থান |
কুড়িগ্রাম | রৌমারি, বড়াইবাড়ি, কলাবাড়ি, ইতালামারি, ভূরুঙ্গামারী, ভন্দরচর |
লালমনিরহাট | পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, বুড়িমারী |
নীলফামারী | চিলাহাটি |
দিনাজপুর | হিলি, বিরল, ফুলবাড়ী, বিরামপুর |
রাজশাহী | পবা, গোদারবাড়ি |
চাঁপাইনবাবগঞ্জ | সোনা মসজিদ, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট |
কুষ্টিয়া | ভেড়ামারা |
মেহেরপুর | মুজিবনগর, গাংনী |
যশোর | বেনাপোল, শর্শা |
ময়মনসিংহ | হালুয়াঘাট, কড়ইতলী |
শেরপুর | নালিতাবাড়ী |
সিলেট | পাদুয়া, জকিগঞ্জ, তামাবিল,সোনারহাট |
মৌলভীবাজার | ডোমাবাড়ি |
কুমিল্লা | চৌদ্দগ্রাম, বিবির বাজার |
ফেনী | বিলোনিয়া, ফুলগাজী |
ছিটমহল
অখণ্ড ভারত বিভক্ত করে ভারত এবং পাকিস্তাননামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লগ্নে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে রেডক্লিফের মানচিত্র বিভাজন থেকেই উদ্ভব ছিটমহলের। এক দেশের ভূখণ্ডে থেকে যায় অন্য দেশের অংশ। এতে এক অসহনীয় মানবিক সমস্যার উদ্ভব হয়। ১৬২ টি ছিটমহল ছিল দুই প্রতিবেশী দেশে। এর মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। আর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ছিল ভারতের অভ্যন্তরে। এসব ছিটমহলে বসবাসকারী জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫১ হাজার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ছিটমহলে বসবাসরত লোকসংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহলের লোকসংখ্যা ছিল ১৪ হাজার।২৪ হাজার ২৬৮ একর ভূমি নিয়ে দুই দেশের ছিটমহল ছিল। তার মধ্যে ভারতের জমির পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ১৫৮ একর। বাংলাদেশের ছিটমহলের জমির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ১১০ একর। ভারতীয় ছিটমহলগুলোর অধিকাংশই ছিল বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এসবের মধ্যে লালমনিরহাটে ৫৯ টি, পঞ্চগড়ে ৩৬ টি, কুড়িগ্রামে ১২ টি ও নীলফামারিতে ৪ টি ভারতীয় ছিটমহল ছিল। অপরদিকে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের অবস্থান ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এর মধ্যে ৪৭টি কুচবিহার ও ৪ টি জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত ছিল।
বাংলাদেশের সর্ব স্থান
অবস্থান | স্থান | উপজেলা | জেলা |
উত্তর | বাংলাবান্ধা | তেতুলিয়া | পঞ্চগড় |
সর্বদক্ষিন | ছাড়াদ্বীপ | টেকনাফ | কক্সবাজার |
সর্বপূর্ব | আখানইঠং | থানচি | বান্দরবান |
সর্বপশ্চিম | মনাকশা | শিবগঞ্জ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
বাংলাদেশের-জলবায়ু-এবং-ভূ-প্রকৃতি
জলবায়ু
বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থিত হলেও মহাদেশীয়-অক্ষাংশীয় অবস্থানের দিক থেকে এটি উত্তর অক্ষে অবস্থিত। অক্ষাংশীয় মানানুসারে এদেশের অবস্থান ২০ডি. ৩৪মি. উত্তর অক্ষরেখা হতে ২৬ডি. ৩৮মি. উত্তর অক্ষরেখার এবং দ্রাঘিমাংশীয় মানানুসারে ৮৮ডি. ০১মি. পূর্ব দ্রঘিমারেখা হতে ৯২ডি. ৪১মি. পূর্ব দ্রঘিমারেখার মধ্যবর্তী স্থানে। কর্কটক্রান্তি রেখা এদেশের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে আর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমী স্রোত এদেশের দক্ষিণ-প্রান্তবর্তী বঙ্গোপসাগর দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বিরাজ করে। নভেম্বর হতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতকাল। সূর্যের অবস্থান দক্ষিণ গোলার্ধে।
· সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সে.
· সর্বনিম্ন তাপমাত্র ১১° সে.
· গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সে.
মার্চ হতে মে মাস বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। সূর্যের অবস্থান উত্তর গোলার্ধে।
· সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮° সে.
· সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সে.
· গড় হিসেবে উষ্ণতম মাস এপ্রিল
· জুন- অক্টোবর বর্ষাকাল
· গড় তাপমাত্রা ২৭° সে.
· গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সে.মি.
· সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত ১১৯ এবং
· সর্বোচ্চ ৩৪০ সে.মি.
· ভূ প্রকৃতি
· ভূ প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : পাহাড়িয়া অঞ্চল, সোপান অঞ্চল ও প্লাবন ভূমি অঞ্চল।
· পাহাড়িয়া অঞ্চল : বাংলাদেশের মোট ভূমি প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারী যুগের পাহাড় সমূহ গঠিত। এই অঞ্চল বাংলাদেশের তিনটি ভূ প্রাকৃতিক অঞ্চলসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম। বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকার গড় উচ্চতা ২০৫০ ফুট। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : দক্ষিন – পূর্ব এবং উত্তর ও উত্তর- পূর্ব।
· সোপান অঞ্চল : বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ ভূমি গঠিত। আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের সময়কালকে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়। এই সময়ে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়।
· প্লাবন সমভূমি অঞ্চল: বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। এ অঞ্চলের আয়তন ১২৪২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
পাহাড় পর্বত
পাহাড় | অবস্থান |
গারো | ময়মনসিংহ |
লালমাই | কুমিল্লা |
চন্দ্রনাথ | সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম |
কুলাউড়া | মৌলভীবাজার |
চিম্বুক | বান্দরবান |
জৈয়ন্তিকা | সিলেট |
সমুদ্র সৈকত
সমুদ্র সৈকত | অবস্থান | তথ্য |
কক্সবাজার | কক্সবাজার | এর দৈর্ঘ্য ১২০ কি. মি.। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। |
কুয়াকাটা | পটুয়াখালী | বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। |
পতেঙ্গা |
|
|
দ্বীপ
জেলা | দ্বীপ | তথ্য |
নোয়াখালী | নিঝুম দ্বীপ | মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরে হাতিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। আয়তন ৯১ বর্গ কি. মি.। |
ভোলা | ভোলা দ্বীপ | মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা। বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। আয়তন ১৪৪১ কি .মি.। |
ভোলা | মনপুরা | আয়তন ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার |
সাতক্ষীরা | দক্ষিন তালপট্টি দ্বীপ | বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণ এই দ্বীপ টি হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। আয়তন ৮ বর্গকিলোমিটার। |
কক্সবাজার | সেন্টমার্টিন দ্বীপ | বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একমাত্র সামুদ্রিক প্রবাল দ্বীপ। |
কক্সবাজার | ছেঁড়া দ্বীপ | সেন্টমার্টিন দ্বীপ এর দক্ষিনাংশ ছেঁড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। |
কক্সবাজার | কুতুবদিয়া | রাত্রে নৌ চলাচলের সুবিধার জন্য ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বাতিঘর আছে |
কক্সবাজার | মহেশখালী | বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ |
কক্সবাজার | সোনাদিয়া দ্বীপ | আয়তন ৯ বর্গকিলোমিটার |
চট্টগ্রাম | সন্দ্বীপ | আয়তন ৭৬২ বর্গকিলোমিটার। |
চর বিল
জেলা | চর |
ভোলা | চর মানিক, চর জব্বার, চর নিউটন, চর কুকুড়ি মুকুড়ি, চর নিজাম, চর জংলী, চর মনপুরা, চর জহির উদ্দীন, চর ফয়েজ উদ্দীন |
ফেনী | মুহুরির চর |
নোয়াখালী | চর শ্রীজনি, চর শাহাবানী |
লক্ষীপুর | চর আলেকজান্ডার, চর গজারিয়া |
চট্টগ্রাম | উড়িয়া চর |
রাজশাহী | নির্মল চর |
বিল
বিল | অবস্থান |
চলনবিল | পাবনা ও নাটোর |
তামাবিল | সিলেট |
ভবদহ বিল | যশোর |
বগা | রুমা, বান্দরবান |
বিল ডাকাতিয়া | খুলনা |
আড়িয়ল বিল | শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ |
বাইক্কা বিল | শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার |
হাওড়
হাওড় | অবস্থান |
হাকালুকি | মৌলভীবাজার, সিলেট |
টাঙ্গুয়ার | সুনামগঞ্জ |
হাইল | মৌলভীবাজার |
বুরবুক | জৈন্তাপুর, সিলেট |
জলপ্রপাত, ঝর্ণা
বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত জলপ্রপাত মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। এর উৎপত্তি বড়লেখা থানার পাথুরিয়া পাহাড় হতে। এই জলপ্রপাতের পানি ২৫০ ফুট উপর হতে নিচে পতিত হয়।
ঝর্ণা
ঝর্ণা | অবস্থান |
শীতল পানির ঝর্ণা | হিমছড়ি , কক্সবাজার |
উষ্ণ পানির ঝর্ণা | সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম |
শৈলপ্রপাত | মিলানছড়ি, বান্দরবান |
শুভলং | রাঙ্গামাটি |
বাংলাদেশের নদ নদী
নদ ও নদীঃ নদ এবং নদীর পার্থক্য হলো ব্যাকরণগত। যে সকল নদীর নাম নারীবাচক তাদেরকে বলা হয় নদী। যে সকল নদীর নাম পুরুষবাচক তাদেরকে বলা হয় নদ।
দীর্ঘতম নদী এবং বৃহত্তম নদী
যে নদী সবচেয়ে বেশিপথ অতিক্রম করে সে দীর্ঘতম নদী। বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী মেঘনা এবং পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ। বৃহত্তম নদী নির্বাচিত হয় যে নদী প্রতি মিনিটে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয় তা দেখে। পৃথিবীর বৃহত্তম নদী আমাজন এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী মেঘনা।
প্রধান নদী
যে সকল নদী অন্য কোনো নদী থেকে সৃষ্টি না হয়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হয় তাকে বলে প্রধান নদী। নদীর প্রশস্ত মোহনাকে খাড়ি বলে। দুটি নদী মিলিত হওয়াকে সঙ্গম বলে।
বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট
নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এট ফরিদপুরে অবস্থিত।
যৌথ নদী কমিশন
১৯৭২ সালে গঠিত হয় ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন। কার্যবিধি অনুসারে যৌথ নদী কমিশনের কার্যক্রম সমূহ হচ্ছে বন্য



Thank You