🔬 কোষ বিজ্ঞান
৮ কোষ কাকে বলে?
অর্ধভেদ্য বা প্রভেদক ভেদ্য আবরণী দ্বারা বেষ্টিত, প্রোটোপ্লাজম দ্বারা নির্মিত, স্বপ্রজননশীল, জীবদেহের কার্যগত ও গঠনগত একক কে কোষ বলে।
কোষের প্রকারভেদ
সাধারণত কোষকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়—
- প্রোক্যারিওটিক কোষ
- ইউক্যারিওটিক কোষ
- মেসোক্যারিওটিক কোষ
প্রোক্যারিওটিক কোষ কাকে বলে?
সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিহীন এবং পর্দাবিহীন কোষ অঙ্গাণু দ্বারা গঠিত কোষকে প্রোক্যারিওটিক কোষ বলে।
উদাহরণ: নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া, মাইকোপ্লাজমা।
প্রোক্যারিওটিক কোষের বৈশিষ্ট্য:
- নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিওপ্লাজম ও নিউক্লিয়জালিকা বিহীন।
- DNA যুক্ত কোষীয় মধ্যাংশকে নিউক্লিয়য়েড বা জেনোপোর বলে।
- সাইটোপ্লাজমের কোনো পর্দাবৃত কোষঅঙ্গাণু থাকে না।
- রাইবোজোম 70s প্রকৃতির।
- কোষ প্রাচীর ও কোষ পর্দা উপস্থিত। ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের মুখ্য উপাদান পেপটাইডোগ্লাইক্যান।
ইউক্যারিওটিক কোষ কাকে বলে?
সুগঠিত নিউক্লিয়াস যুক্ত এবং পর্দাঘেরা কোষ অঙ্গাণু দ্বারা গঠিত কোষকে ইউক্যারিওটিক কোষ বলে।
ইউক্যারিওটিক কোষের বৈশিষ্ট্য:
- আদর্শ নিউক্লিয়াস থাকে।
- কোষ পর্দা ও কোষ প্রাচীর উভয়ই বর্তমান। তবে কোষপ্রাচীর কেবলমাত্র উদ্ভিদ কোষে থাকে।
- সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
- রাইবোজোম 80s প্রকৃতির।
- ক্রোমোজোম গঠিত হয় ও তা ক্ষারীয় প্রোটিন যুক্ত।
মেসোক্যারিওটিক কোষ কি?
সুগঠিত নিউক্লিয়াস যুক্ত এবং উভয় কোষের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কোষকে মেসোক্যারিওটিক কোষ বলে।
উদাহরণ: পিরিডিনিয়াম, জিমনোডিনিয়াম।
মেসোক্যারিওটিক কোষের বৈশিষ্ট্য:
- আদর্শ নিউক্লিয়াস থাকে।
- কোষ পর্দা থাকে কিন্তু কোষ প্রাচীর থাকে না। কোষ প্রাচীরের পরিবর্তে পেলিকল থাকে।
- সেন্ট্রোমিয়ার থাকে না।
- রাইবোজোম 80s প্রকৃতির হয়।
- ক্রোমোজোম গঠিত হয় ও তা আম্লিক প্রোটিন যুক্ত।
ইউক্যারিওটিক কোষের উপাদান ও তাদের কাজ
কোষপর্দা
প্রত্যেক সজীব কোষের প্রোটোপ্লাজমের বাইরে অবস্থিত সজীব, প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত প্রভেদক ভেদ্য পর্দাকে কোষপর্দা বলে।
কাজ: কোষের প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করা, কোষের আকৃতি প্রদান, অন্তঃকোষীয় ব্যাপন ও অভিস্রবণ।
কোষপ্রাচীর
উদ্ভিদকোষের কোষপর্দা বাইরে অবস্থিত দৃঢ়, স্থিতিস্থাপক ও মৃত স্তরটিকে কোষপ্রাচীর বলে। এটি সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিন দ্বারা গঠিত।
কাজ: কোষের আকৃতি প্রদান ও কোষের সজীব অংশকে রক্ষা করা।
নিউক্লিয়াস
নিউক্লিয়াস হল প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, প্রায় গোলাকার এবং দ্বি-একক পর্দাঘেরা অংশ।
- নিউক্লিয়পর্দা: নিউক্লিয়াসকে ঘিরে অবস্থিত সচ্ছিদ্র, প্রোটিন ও লিপিড নির্মিত দ্বি-একক পর্দা।
- নিউক্লিওলাস: নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত RNA ও প্রোটিন নির্মিত সবচেয়ে ঘন ও গোলাকার অংশ।
- নিউক্লিওপ্লাজম: নিউক্লিয়াসের অন্তর্গত অর্ধস্বচ্ছ, অর্ধতরল ধাএ যার মধ্যে ক্রোমাটিন সূত্রগুলি অবস্থিত।
- নিউক্লিয় জালিকা: ইন্টারফেজ দশা নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা নির্মিত পেঁচানো সূত্রাকার অংশ।
কাজ: কোষের বিপাক নিয়ন্ত্রণ, কোষ বিভাজন, বংশগতির বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় বহন করা।
সাইটোপ্লাজম
সাইটোপ্লাজম হল প্রোটোপ্লাজমের নিউক্লিয়াস বিহীন জেলির মতো অংশবিশেষ।
কাজ: কোষমধ্যস্থ অঙ্গাণু গুলিকে রক্ষা করে ও বিভিন্ন বিপাকক্রিয়ার প্রধান স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মাইটোকনড্রিয়া
সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত আকারে ছড়িয়ে থাকা দ্বি-একক পর্দা যুক্ত দন্ডাকার অঙ্গাণু গুলিকে মাইটোকনড্রিয়া বলে।
কাজ: শ্বসনের ক্রেবস চক্র নিয়ন্ত্রণ। মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
গলগী বডি
উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের নিউক্লিয়াসের কাছে একক পর্দা ঘেরা যেসব গোলাকার বা সূত্রাকার কোষ অঙ্গাণুগুলি সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।
কাজ: বিভিন্ন প্রকার উৎসেচক ও হরমোন ক্ষরণ, প্রোটিন-লিপিড সঞ্চয়, একত্রীকরণ ও বন্টন।


Thank You