বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য

Raisul Islam Hridoy 0

বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্যিকের অজানা তথ্য

সম্পূর্ণ বাংলা ব্যাকরণ নির্দেশিকা এবং বিখ্যাত বাংলা সাহিত্যকর্মের নেপথ্য ইতিহাস।

ব্যাকরণ কী?

"ব্যাকরণ" শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো—বিশেষভাবে বিশ্লেষণ ($\text{বি} + \text{আ} + \text{কৃ} + \text{অন}$)। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, "যে শাস্ত্র জানিলে বাঙ্গালা ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায়, তাহার নাম বাঙ্গালা ব্যাকরণ"

ব্যাকরণ ভাষার অনুগামী এবং ভাষাকে বর্ণনা করে। ভাষার বিশ্লেষণ এবং ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আবিষ্কার করাই ব্যাকরণের প্রধান কাজ। ব্যাকরণকে ভাষার সংবিধান বলা হয়।

ভাষার মৌলিক অংশ

প্রত্যেক ভাষারই প্রধানত চারটি অংশ থাকে। যথা—

  • ধ্বনি (Sound)
  • শব্দ (Word)
  • বাক্য (Sentence)
  • অর্থ (Meaning)

ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়সমূহ:

শাখা আলোচ্য বিষয়
ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology) ধ্বনি উচ্চারণের স্থান, সন্ধি বা ধ্বনিসংযোগ, ণ-ত্ব বিধি ও ষ-ত্ব বিধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস।
শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology) শব্দ, শব্দরূপ, শব্দদ্বৈত, প্রকৃতি-প্রত্যয়, পুরুষ, কারক-বিভক্তি, উপসর্গ, অনুসর্গ, সমাস, বচন, লিঙ্গ, পদ (বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, অব্যয়, ক্রিয়া যেমন ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ারকাল)।
বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) বাক্য ও বাক্যবিন্যাস (গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন), পদবিন্যাস (পদের স্থান বা ক্রম, পদের রূপ পরিবর্তন), ছেদচিহ্ন, বাগধারা, বাচ্য।
অর্থতত্ত্ব (Semantics) শব্দের অর্থবিচার, বাক্যের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ (যেমন-মুখ্যার্থ, গৌণার্থ, বিপরীতার্থ ইত্যাদি)। ব্যাকরণের উচ্চতর পর্যায়ে আলোচিত হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অভিধান (Lexicography), ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

বৈয়াকরণ ও ব্যাকরণ গ্রন্থ

পাণিনি ছিলেন একজন প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ। তাঁকে উপমহাদেশে শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ বলা হয়। সংস্কৃত ভাষায় রচিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম "অষ্টাধ্যায়ী"। তাঁর ব্যাকরণের ধারাগুলো ছিল—ঐন্দ্র, চান্দ্র, শাকটায়নী, হেমচন্দ্রীয় প্রভৃতি।

ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ রচয়িতা
ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
প্রমিত ভাষার বাংলা ব্যাকরণ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক পবিত্র সরকার

স্বরধ্বনি

যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বাতাস মুখের মধ্যে কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না, তাদেরকে স্বরধ্বনি বলে। যেমন— অ, আ, ই, উ ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনি মোট এগারোটি (১১টি)। মৌলিকতা অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

  1. মৌলিক স্বর: বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। যথা— অ, আ, ই, উ, এ্যা, এ, ও। ধ্বনিবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা মূল স্বরধ্বনির তালিকায় 'এ্যা' ধ্বনি প্রবর্তন ও প্রতিষ্ঠা করেন।
  2. যৌগিক স্বর: পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি একাক্ষর হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি / সন্ধিস্বর / দ্বি-স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মোট ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে। বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটি বর্ণ রয়েছে: ($\text{অ} + \text{ই}$) এবং ($\text{অ} + \text{উ}$)। অন্য যৌগিক স্বরের প্রতীক স্বরূপ কোনো পৃথক বর্ণ নেই।

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু রচনার পেছনের ইতিহাস ও রহস্য

  1. ভ্রান্তি বিলাস — অনুবাদ গ্রন্থ — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (শেক্সপীয়রের ‘Comedy of Errors’ অবলম্বনে রচিত)।
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য — মাইকেল মধুসূধন দত্ত (যে কাব্যে প্রথম ‘অমিত্রাক্ষর রীতি (Blank Verse)’ প্রয়োগ করা হয়)।
  3. বীরাঙ্গনা — পত্রকাব্য — মাইকেল মধুসূধন দত্ত (যে কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ পূর্ণতা লাভ করে এবং ওভিদের ‘Heroides’ কাব্য অবলম্বনে রচিত)।
  4. নীল দর্পণ — নাটক — দীনবন্ধু মিত্র (যে নাটক দেখতে এসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জুতো ছুঁড়ে মেরেছিলেন)।
  5. ছায়াময়ী কাব্য — হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (যে কাব্য দান্তের ‘Divine Comedy’ গ্রন্থের অবলম্বনে রচিত)।
  6. বসন্তকুমারী — নাটক — মীর মশাররফ হোসেন (নাটকটি নবাব আবদুল লতিফকে উৎসর্গ করেন)।
  7. হিন্দুমেলার উপহার — কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (হেমচন্দ্রের “ভারত সঙ্গীত” কাব্য অবলম্বনে ১২ বছর বয়সে রচিত প্রথম স্বাক্ষরিত কবিতা)।
  8. ভানুসিংহের পদাবলী — কাব্য — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (বালক কবি চ্যাটারস্টনের গল্প শুনে বৈষ্ণব পদাবলীর ব্রজবুলির ঢঙ্গে রচিত)।
  9. সোনার তরী — কাব্য — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (যে রচনা কবির জীবনের বিশেষ প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়)।
  10. চিত্রা — কাব্য — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (যে রচনা শিল্প, সৌন্দর্য ও তত্ত্ব দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে)।
  11. গীতাঞ্জলি — কাব্য — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত গ্রন্থ, W. B. Yeats-এর সহযোগিতায় ‘The Song Offerings’ নামে লিখিত যার অনুবাদ পাণ্ডুলিপিটি তিনি লন্ডনের টিউব ট্রেনে হারিয়ে ফেলেছিলেন)।
  12. শিশুতীর্থ (The Child) — কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (যে কবিতাটি ইংরেজিতে রচনার পর বাংলায় অনুবাদ করেন)।
  13. শেষ লেখা — কাব্য — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (যে কাব্যের নামকরণ করে যেতে পারেন নি)।
  14. বসন্ত — নাটক — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন)।
  15. কালের যাত্রা — নাটক — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন)।
  16. তাসের ঘর — নাটক — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন)।
  17. চার অধ্যায় — উপন্যাস — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কারাগারের বন্দিদের উৎসর্গ করেন)।
  18. পথের দাবী — উপন্যাস — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (যে উপন্যাস রাজরোষে বাজেয়াপ্ত হয়)।
  19. শ্রীকান্ত — উপন্যাস — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (যে উপন্যাস ইংরেজি ও ইতালীয় ভাষায় অনূদিত হয়)।
  20. গৃহদাহ — উপন্যাস — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (টমাস হার্ডির ‘A Pair of Blue Eyes’ অবলম্বনে রচিত)।
  1. শুভদা — উপন্যাস — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (যে উপন্যাস তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়)।
  2. নারীর মূল্য — প্রবন্ধ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (দিদি অনীলা দেবীর নামে প্রকাশ করেন)।
  3. অনল প্রবাহ — কাব্য — ইসমাইল হোসেন সিরাজী (যে বই ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয় ও তিনি কারারুদ্ধ হন)।
  4. অগ্নিবীণা, চন্দ্রবিন্দু (সঙ্গীত গ্রন্থ), ফনীমনসা, বিষের বাঁশি, ভাঙ্গার গান, যুগবাণী (প্রবন্ধ) — কাজী নজরুল ইসলাম (যে গ্রন্থগুলো ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়)।
  5. প্রলয় শিখা — কাব্য — কাজী নজরুল ইসলাম (যে রচনার জন্য ছয় মাস কারারুদ্ধ হন)।
  6. আনন্দময়ীর আগমনে, বিদ্রোহীর কৈফিয়ত — কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম (যে রচনার জন্য এক বছর কারারুদ্ধ হন)।
  7. রাজবন্দীর জবানবন্দী — কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম (যে রচনা আদালতে প্রদত্ত হয়)।
  8. বিদ্রোহী — কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম (যে কবিতার জন্য তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত হন)।
  9. বিদ্যাপতি, সাপুড়ে — কাহিনী — কাজী নজরুল ইসলাম (যা চলচ্চিত্রের জন্য রচনা করেন)।
  10. খুকি ও কাঠবিড়ালু, লিচুচোর — কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম (যে দুটি কবিতাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়)।
  11. সঞ্চিতা — কাব্যগ্রন্থ — কাজী নজরুল ইসলাম (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন)।
  12. রবিহারা — কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম (রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুশোকে রচনা করেন)।
  13. কান্ডারী হুশিয়ার — কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম (যে কবিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর অনুরোধে রচনা করেন)।
  14. ছায়ানট — কাব্যগ্রন্থ — কাজী নজরুল ইসলাম (অন্তরঙ্গ সুহৃদ মুজাফফর আহমদকে উৎসর্গ করেন)।
  15. অগ্নিবীণা — কাব্যগ্রন্থ — কাজী নজরুল ইসলাম (স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম পুরুষ অরবিন্দ ঘোষের ভাই বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন)।
  16. বনলতা সেন — কবিতা — জীবনানন্দ দাশ (যে কবিতা এডগার অ্যালান পোর ‘To Helen’ কবিতা অবলম্বনে রচিত)।
  17. নকশী কাঁথার মাঠ — কাব্য — জসীমউদ্দীন (যে কাব্য বহু ভাষায় অনূদিত হয়, ইংরেজি অনুবাদক G. M. Milford)।
  18. দ্বিখণ্ডিত — উপন্যাস — তসলিমা নাসরিন (যে বই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়)।

সম্পূর্ণ পোস্টটি পিডিএফ (PDF) আকারে ডাউনলোড করুন

📥 Download PDF File

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

New Posts

আমার তৈরি করা সকল নোট একসাথে ডাউনলোড করুন

  চাকরী প্রস্তুতির নোট - ডাউনলোড ...