লেকচার শীট: উদ্ভিদের জীবনচক্র ও বৃদ্ধি
বীজের অঙ্কুরোদগম (Seed Germination)
অঙ্কুরোদগম কী? বীজ থেকে নতুন চারা গাছ বা শিশু উদ্ভিদ জন্মানোর প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে। এটি উদ্ভিদের প্রজননের খুব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সুপ্ত অবস্থায় থাকা বীজ (যা ঘুমন্ত থাকে) যখন উপযুক্ত পরিবেশ পায়, তখন তার ভিতরের ভ্রূণ (embryo) বেড়ে উঠে একটা নতুন গাছের শুরু হয়।
[Image of stages of seed germination from embryo to seedling]অঙ্কুরোদগমের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান (শর্তসমূহ):
- পানি (জল) – সবচেয়ে জরুরি।
- অক্সিজেন (বায়ু থেকে)।
- উপযুক্ত তাপমাত্রা (সাধারণত ২০–৩০° সেলসিয়াস)।
- কখনো কখনো আলো (কিছু বীজের জন্য দরকার, কিছুর জন্য না)।
(মাটি সবসময় লাগে না; পানিতে বা ভেজা কাগজেও অঙ্কুরোদগম হতে পারে।)
অঙ্কুরোদগমের প্রধান ধাপসমূহ:
- জল শোষণ বা ইমবিবিশন (Imbibition): বীজ পানি শুষে নেয়। বীজ ফুলে ওঠে, বীজের খোসা নরম হয় এবং ফেটে যায়। এই সময় বীজের ভিতরের খাদ্য ভেঙে শক্তি তৈরি হতে শুরু করে।
- এনজাইম সক্রিয় হওয়া ও শ্বসন: পানি পেয়ে বীজের ভিতরের এনজাইমগুলো সক্রিয় হয়। বীজ নিজের সঞ্চিত খাদ্য থেকে শক্তি পায়।
- ভ্রূণের বৃদ্ধি ও অঙ্গ গঠন:
- প্রথমে মূলাঙ্কুর (radicle) বের হয় → এটি প্রথম শিকড় হয়ে মাটিতে ঢোকে।
- তারপর অঙ্কুরাঙ্কুর (plumule) বের হয় → এটি উপরের দিকে বেড়ে কাণ্ড ও পাতা হয়।
- চারা গাছ হওয়া: অঙ্কুর মাটির উপরে উঠে আসে, সবুজ পাতা বের হয় এবং সালোকসংশ্লেষণ শুরু করে।
দুই ধরনের অঙ্কুরোদগম:
- উপরিভাগীয় (Epigeal): বীজপত্র মাটির উপরে উঠে আসে (যেমন: আম, সরিষা, রেড়ী)।
- অধোভাগীয় (Hypogeal): বীজপত্র মাটির নিচে থেকে যায় (যেমন: ছোলা, ধান, গম)।
১. ফুলের বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ
[Image of parts of a flower diagram labeling sepal, petal, stamen, and pistil]| ফুলের সংশ্লিষ্ট অংশের নাম | ফুলের বিভিন্ন অংশের কাজ |
|---|---|
| বৃতি (sepals) | ফুলের অন্যান্য অংশকে রক্ষা করে। |
| ডিম্বাশয় (ovary) | ডিম্বক ধারণ করে যা পরে বীজে পরিণত হয়। |
| দল বা পাপড়ি (petals) | ফুলকে সুন্দর দেখায় এবং পতঙ্গকে আকর্ষণ করে। |
| পুংকেশর (stamen) | পরাগরেণু উৎপন্ন করে। |
• বৃতি → ছাতার মতো রক্ষা করে।
• পাপড়ি → সাজুগুজু করে পোকা ডাকে।
• পুংকেশর → বাবা (পুরুষ অংশ)।
• স্ত্রীকেশর → মা (স্ত্রী অংশ)।
২. উদ্ভিদের বৃদ্ধি
প্রশ্ন: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য কী কী উপাদান প্রয়োজন?
উত্তর: উদ্ভিদের ভালোভাবে বৃদ্ধির জন্য ৫টি প্রধান উপাদান প্রয়োজন—
- সূর্যের আলো
- বায়ু (কার্বন ডাই অক্সাইড)
- পানি
- উপযুক্ত তাপমাত্রা
- মাটি থেকে খনিজ লবণ (পুষ্টি)
৪. সপুষ্পক উদ্ভিদের জীবনচক্র
জীবনচক্র কী? সপুষ্পক উদ্ভিদের (যেমন: ফুল ফোটে এমন গাছ) জীবনের পুরো যাত্রা একটা চক্রাকার (গোলাকার) পথে চলে। এটাকে জীবনচক্র বলে। একটা বীজ থেকে শুরু করে আবার নতুন বীজ তৈরি হওয়া পর্যন্ত এই চক্র চলতে থাকে।
জীবনচক্রের প্রধান ধাপসমূহ:
- বীজ (Seed): সুপ্ত অবস্থায় থাকে, এখান থেকেই শুরু।
- অঙ্কুরোদগম (Germination): বীজ থেকে চারা বের হয়।
- চারাগাছ (Seedling): ছোট গাছ হয়ে ধীরে ধীরে বড় হয়।
- পূর্ণাঙ্গ গাছ (Mature plant): পাতা ও ডালপালাসহ বড় গাছ।
- ফুল (Flower): প্রজননের জন্য গাছে ফুল ফোটে।
- ফল (Fruit): পরাগায়ন ও নিষেকের পর ফুল থেকে ফল হয়।
- নতুন বীজ (New seed): ফলের ভিতরে নতুন বীজ তৈরি হয় এবং চক্রটি আবার শুরু হয়।
জীবনচক্রের ধাপসমূহ (টেবিল):
| ক্রমিক | ধাপের নাম | কী হয়? (সহজ ব্যাখ্যা) |
|---|---|---|
| ১ | বীজ | গাছের জীবনের শুরু। সুপ্ত অবস্থায় থাকে। |
| ২ | অঙ্কুরোদগম | পানি, তাপ ও বায়ু পেয়ে শিকড় ও অঙ্কুর বের হয়। |
| ৩ | চারাগাছ | ছোট গাছ। শিকড় পানি শোষণ করে ও পাতা বের হয়। |
| ৪ | পূর্ণাঙ্গ গাছ | বড় গাছ। সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। |
| ৫ | ফুল | গাছে ফুল ফোটে। পরাগায়নের জন্য প্রস্তুত হয়। |
| ৬ | ফল | ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। এতে বীজ থাকে। |
| ৭ | নতুন বীজ | ফল পাকলে বীজ ছড়িয়ে পড়ে। নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি। |
৫. প্রাণীর জীবনচক্র
প্রাণীর জীবনচক্র কী? উদ্ভিদের মতোই প্রাণীর জীবনও একটা চক্রাকার পথে চলে। জন্ম → বৃদ্ধি → প্রজনন → নতুন জীবনের শুরু—এই ধারাবাহিকতাকে প্রাণীর জীবনচক্র বলে।
মুরগির জীবনচক্রের উদাহরণ:
- ডিম: মুরগি ডিম পাড়ে।
- ভ্রূণ ও পরিস্ফুটন: ডিমের ভিতরে বাচ্চা বড় হয়।
- ছানা: ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
- পূর্ণাঙ্গ মুরগি: ছানা বড় হয়ে পূর্ণ মুরগিতে পরিণত হয় এবং পুনরায় ডিম পাড়ে।



Thank You