বেসিক কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি ২

Raisul Islam Hridoy 0

 


Read This Book Online

একটা ইবুক তৈরি করতে অনেক সময়,শ্রম ও ধৈর্য্যের প্রয়োজন হয়। আমরা প্রায় অনেক ইবুক বিনামূল্যে ডাউনলোড করার সুযোগ করে দিয়েছি। তাই আমাদের পরিশ্রমের কথা ভেবে এই নোটটি কিনে পড়ার অনুরোধ রইলো। আমাদের বিকাশ (পার্সোনাল) নাম্বারে পেমেন্ট করুন। ০১৯৭৪৫৮১৬১১ Raisul Islam Hridoy

এই বইটি আমাদের প্রিমিয়াম সংস্করণের আওতাভুক্ত তাই ফ্রি ডাউনলোড করা যাবেনা। আমরা মূলত আমাদের পেইড গ্রুপের স্টুডেন্টসদের জন্য এই নোটগুলো তৈরি করে থাকি। অনেককেই বিনামূল্যে ডাউনলোড করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নোটটি কাদের জন্য?

যারা বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন তাদের জন্য এই ডিজিটাল ইবুক। কেনার আগে সম্পূর্ণ বইটির অনলাইন লাইভ প্রিভিও দেখে নিন।

বইটির মূল্য মাত্র- ১০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিভাবে কিনবেন?

বইটি কিনার জন্য আমাদেরকে ইমেইলে জানাতে পারেন। raysulislamredoy@gmail.com.  আমাদের বিকাশ পার্সোনাল (০১৯৭৪৫৮১৬১১) নাম্বারে সেন্ডমানি করে দিন। আপনার মোবাইল নাম্বার, ট্রানজেকশান আইডি আমাদের মেইলে পাঠান। আমরা আপনার অর্ডার কনফার্ম করার ১০ মিটিরের মধ্যেই ইমেইলে ইবুক পেয়ে যাবেন।

যারা সবসময় আপডেট ইবুকগুলো পেতে চান তারা আমাদের প্রিমিয়াম মেম্বারশীপ কিনতে পারেন। ৬৯৯/- টাকায়। (অফার শেষ হয়ে গেলে ১৪৯৯/- টাকায় কিনতে হবে)

**আগস্ট মাস জুড়েই আমাদের প্রিমিয়াম ইবুকের উপর ছাড় চলবে। এই সুযোগে ইবুক প্যাকেজগুলো কিনে নিন। ইয়ারলি প্যাকেজঃ- ২ বছর পর্যন্ত আপডেট ইবুক প্যাকেজ ৫০০/-

                                ৫ বছর পর্যন্ত আপডেট ইবুক প্যাকেজ ৯৫০/-

তাছাড়াও লাইট প্যাকেজ ৩০০ টাকা (শুধু বেইসিক নোট) ও স্টুডেন্টস প্যাকেজ (বেসিক ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির জব) ৪০০ টাকায়।

***লাইফটাইম প্রিমিয়াম মেম্বারশীপ- ১৫০০/-


সিলেবাস অনুযায়ী বাছাই করা টপিকস


কম্পিউটারের ইতিহাস

কম্পিউটারের প্রকারভেদ

কম্পিউটারের অঙ্গসংগঠন

কম্পিউটার পেরিফেরালস

অপারেটিং সিস্টেমস

দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার

কম্পিউটারের নম্বর ব্যবস্থা

কম্পিউটার প্রোগ্রাম

ডেটাবেইস সিস্টেম

এমবেডেড কম্পিউটার

কম্পিউটার কি

ক্যালকুলেটর

মাইক্রোপ্রসেসর

মাইক্রোকম্পিউটারের জনক এ এইচ এডওয়ার্ড রবার্ট

বাংলাদেশে কম্পিউটার বিকাশের উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি

অ্যাবাকাস

নেপিয়ারের অস্থি

স্লাইড রুল

প্যাস্কালেন

পাঞ্চকার্ড

কম্পিউটারের জনক স্যার চার্লস ব্যাবেজ

প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার লেডি এ্যাডা অগাস্টা ল্যাভলেস

এবিসি কম্পিউটার

সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার ইনিয়াক-১ (ENIAC-1)

আধুনিক কম্পিউটারের জনক জন ভন নিউম্যান

প্রথম সংরক্ষিত প্রোগ্রাম বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক কম্পিউটার এডস্যাক (EDSAC)

বানিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরি প্রথম ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার ইউনিভ্যাক-১

ট্রানজিস্টর

আইসি (IC)

টিএক্সও

এমপ্লিফায়ার

ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব

হেন্ডহেল্ড বা পামপিসি বা পামটপ

মেইনফ্রেম কম্পিউটার:

মাইক্রো কম্পিউটার:

কম্পিউটারের প্রকারভেদ/শ্রেণীবিভাগ:

অ্যানালগ কম্পিউটার:

হাইব্রিড কম্পিউটার:

ডিজিটাল কম্পিউটার

সুপার কম্পিউটার:

মিনি কম্পিউটার:

ডেস্কটপ

ল্যাপটপ কম্পিউটার

নেটবুক

কম্পিউটারের প্রজন্ম

বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যাবলী

ইনপুট ইউনিট

ইনপুট ডিভাইস

অপটিকাল মার্ক রিডার (ওএমআর):

অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিডার

OMR ও 0CR এর পার্থক্য:

ম্যাগনেট ইংক ক্যারেক্টার রিডার কি?

মাউসের কাজ

কী বোর্ড ও মাউসের পার্থক্য:

কিবোর্ডের কার্যপদ্ধতি:

স্ক্যানার:

জয়স্টিক

আউটপুট ইউনিট

মনিটর

মনিটরের কার্যপদ্ধতি

প্রিন্টারের কার্যপদ্ধতি:

ইনপুট-আউটপুট ইউনিট

পেন ড্রাইভ

ইন্টারফেস

স্মৃতি বা মেমোরি

প্রধান বা মুখ্য মেমোরি

সহায়ক বা গৌণ

ক্যাশ মেমোরি

RAM এবং 'রম

হার্ড ডিস্ক

কম্প্যাক্ট ডিস্ক

ফ্লপি ডিস্ক

ম্যাগনেটিক টেপ ডিস্ক

সিডি রম

ডিভিডি

EPROM এবং EEPROM এর বৈশিষ্ট্য

বিট এবং বাইট

মেমোরি ও অ্যাড্রেস

ভারচ্যুয়াল মেমোরি

স্টোরেজ ডিভাইস

কম্পিউটার বাস

কম্পিউটার পোর্ট

স্ক্যাজি (SCSI) ইন্টারফেস

Computer Software এর প্রোয়োগ

সফটওয়্যার উন্নয়নের ধাপ:

কম্পিউটার (সফটওয়্যার)-এর সোর্স কোড

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য

এম.এস.ওয়ার্ড (, এম.এস. এক্সেল (MS Excel)

বাংলা কী-বোর্ড

এম. এস. এক্সেল

বিশেষ পেস্ট

এম. এস. পাওয়ারপয়েন্ট

অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কাজ

টাস্ক ম্যানেজমেন্ট :

অপারেটিং সিস্টেমের শ্রেণীবিভাগ :

অপারেটিং সিস্টেমের সংগঠন

কন্ট্রোল প্রোগ্রাম কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত কাজ

সুপারভাইজার প্রোগ্রাম * কাজ

জব কন্ট্রোল প্রোগ্রাম:

সার্ভিস প্রোগ্রাম

ব্যাচ প্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম:

মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম

মাল্টি-টাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম

টাইম শেয়ারিং

বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম এবং চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম

এমএস ডস কি

উইন্ডোজ কি

উইন্ডোজ এনটি

উইন্ডোজ ৯৫

ইউনিক্স

কাস্টমাইজ প্রোগ্রাম কি?

বর্তমানে কোন অপারেটিং সিস্টেম বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে?

ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম

ম্যাক ওএস / 2

I/O বাউন্ড’ ও ‘প্রসেসর বাউন্ড’

কম্পিউটার সফটওয়্যার

অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার

প্যাকেজ সফটওয়্যার

কম্পোনেন্ট সফটওয়্যার

ফ্রিওয়্যার ও শেয়ারওয়্যার

হিউম্যানওয়্যার ও ডেটা/ইনফরমেশন

Computer Software এর প্রোয়োগ

সফটওয়্যার উন্নয়নের ধাপ:

কম্পিউটার (সফটওয়্যার)-এর সোর্স কোড

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য

এম.এস.ওয়ার্ড (, এম.এস. এক্সেল (MS Excel)

বাংলা কী-বোর্ড

এম. এস. এক্সেল

বিশেষ পেস্ট

এম. এস. পাওয়ারপয়েন্ট

সংখ্যা পদ্ধতি

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি

দশমিক থেকে বাইনারি এ রূপান্তর

ভগ্নাংশযুক্ত দশমিক থেকে বাইনারি এ রূপান্তর

আসকি

বিসিডি কোড

কোডিং

ইবিসিডিআইসি

ডিজিটাল লজিক

প্রোগ্রামিং

অ্যাসেম্বলি ভাষা বা সেকেন্ড জেনারেশন ভাষা

কম্পাইলার

ইন্টারপ্রেটার

অ্যাসেম্বলারের প্রধান কাজ

প্রোগ্রামের ভাষা নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কেন?

প্রোগ্রাম তৈরির ধাপসমূহ

ডিবাগিং

অ্যালগোরিদম

ফ্লোচার্টিং

জব কন্ট্রোল ভাষা

ই-কমার্স

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্ক

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব

ইন্টারনেট

নিত্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং প্রযুক্তি

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং

তথ্যপ্রযুক্তির বড় প্রতিষ্ঠান ও তাদের সেবা/তথ্যসমূহ

মোবাইল প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ

সাইবার অপরাধ

দৈনন্দিন জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি

রোবটিক্স

স্মার্টফোন

ক্লায়ন্ট-সার্ভার ম্যানেজমেন্ট

ক্লাউড কম্পিউটিং

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক পরিভাষা

নেটওয়ার্ক টপোলজি ও বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক টপোলজি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার সংগঠন

মেস বা পরস্পর সংযুক্ত নেটওয়ার্ক

হাইব্রিড নেটওয়ার্ক

LAN

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN)

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN )

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত তারবিহীন প্রযুক্তি ও অসুবিধা

ইন্টারনেটওয়ার্কিং প্রটোকল বা আইপি

আইপি অ্যাড্রেস'

কমিউনিকেশন সফটওয়্যার OSI মডেল

মডেম মডুলেশন এবং ডিমডুলেশন

এনালগ এবং ডিজিটাল সিগন্যালের মধ্যে পার্থক্য করুন

বিট সিনক্রোনাইজেশন কি? ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিগুলো কি কি?

Wimax প্রযুক্তি

ভিডিও কনফারেন্সিং

ব্যান্ড উইথ

ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন

ওয়েব অ্যাড্রেস ডোমেইন

ওয়েব সার্ভার’ ও ‘ওয়েব পেজ

এইচটিএমএল

IRC সম্বন্ধে লিখুন

ইন্ট্রানেট ও এক্সট্রানেট

টেলিমেডিসিন


 

 

 

১ম অংশ

 

কম্পিউটার কি

কম্পিউটার শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ। এর উৎপত্তি কম্পিউট (Computa) শব্দ থেকে। কম্পিউটার শব্দের অর্থ গণনাকারী । অর্থাৎ কম্পিউটার শব্দের আভিধানিক অর্থ গণনাকারী যন্ত্র ।

 

তবে বর্তমানে কম্পিউটার শুধু গণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অনেক জটিল ও বৈচিত্রপূর্ণ কাজও করতে পারে। কম্পিউটার একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র যা মানুষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে পারে। তবে এর কোন বুদ্ধি বিবেচনা নেই।

কম্পিউটার বিবর্তনের ইতিহাসঃ এর সূত্রপাত হয়েছিল বিংশ শতাব্দীতে একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসাবে আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রচলনের অনেক আগেই। এই বিষয়ে প্রথম ধারণা পাওয়া গেছিল প্রায় কয়েকশত বছর আগে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন যন্ত্রের আবিস্কার, গাণিতিক মতবাদগুলির প্রয়োগ ইত্যাদির ফলে এটি বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসাবে প্রচলিত হয় এবং এর মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী এক বিরাট শিল্পের ভিত্তি তৈরী হয়।

গোড়ার কথা

অ্যাবাকাস-কেই গণনা সম্পাদনের সর্বপ্রাচীন যন্ত্র মনে করা হয় যা আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ২৭০০-২৩০০ অব্দে সুমেরীয় বা মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় প্রথম ব্যবহার করা হয়। সুমেরীয় সভ্যতায় ব্যবহার করা অ্যাবাকাস-এর মধ্যে অনেকগুলি কলাম বা স্তম্ভ ক্রমান্বয়ে সাজানো থাকতো যার মাধ্যমে সুমেরীয়রা বিভিন্ন স্ংখ্যার মান প্রকাশ করতো। বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায় গাণিতিক হিসাবের প্রয়োজনে অ্যাবাকাস-এর ব্যবহার প্রচলিত ছিল। এমনকি, পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় আজও হিসাব-নিকাশের জন্য অ্যাবাকাস যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

প্রথম ডিফারেন্সিয়াল গীয়ার-এর প্রয়োগ হয়েছিল দক্ষিণ-নির্দেশী রথ নামক একটি যানে আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ১১১০ সালে, প্রাচীন চীনদেশে। এই গীয়ার পরবর্তীকালে অ্যানালগ কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়েছিল। চীনদেশে গাণিতিক হিসাবের প্রয়োজনে অ্যাবাকাস-এর এক অপেক্ষাকৃত আধুনিক সংস্করণ তৈরী করা হয় খ্রীষ্টপূর্ব ২০০ অব্দ নাগাদ।

৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ভারতবর্ষের ব্যাকরণবিদ পাণিনি সংস্কৃত ব্যাকরণেরী অষ্টাধ্যায়ী নামক একটি বই লেখেন যার মধ্যে অত্যন্ত নিয়মানুগ ও প্রণালীবদ্ধ উপায়ে ব্যাকরণের ৩৯৫৯টি নিয়ম নথিবদ্ধ করা হয়। এই বইয়ে কিছু বিশেষ ধারণার যেমন মেটারুল (নিয়ম নথিভুক্তকরণের রীতি), রূপান্তর, রিকারশন বা পুনরাবৃত্তি ইত্যাদির প্রয়োগ পাওয়া যায়। এই ধারণাগুলি আধুনিক কম্পিউটার-এর ভিত্তিস্বরুপ।

১৯০১ সালে অ্যান্টিকিথেরা নামক গ্রীক দ্বীপের কাছে সমুদ্রগর্ভে একটি রোমান জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে ১০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের একটি অত্যাধুনিক গণনাযন্ত্র পাওয়া যায় যা অ্যান্টিকিথেরা যন্ত্র নামে পরিচিত হয়। এক্স-রে স্ক্যানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এটির পরীক্ষা করেন ও সিদ্ধান্তে আসেন যে এর দ্বারা প্রাচীনকালে রোমানরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন গণনার কাজ করতো। এটির কার্যপদ্ধতি আধুনিক অ্যানালগ কম্পিউটারের সাথে তুলনীয়।

মধ্যযুগের ইসলাম দুনিয়াও বিজ্ঞানচর্চায় উন্নত ছিল। মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক আবু রায়হান আল বিরুনি যান্ত্রিক গীয়ারযুক্ত জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত যন্ত্র - অ্যাস্ট্রোলেব নিয়ে গবেষণা করেন ও আরবীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী জাবির ইবন আফলা টর্কেটাম নামক যন্ত্র তৈরী করেন। ব্রিটিশ বিজ্ঞান লেখক সাইমন সিং-এর মতে মুসলিম গণিতজ্ঞরা ক্রিপ্টোগ্রাফি বা সাংকেতিক-লিপির মতো বিষয়েও এগিয়ে ছিলেন। উদাহরণ হিসাবে প্রখ্যাত আরব পণ্ডিত আল-কিন্দির কথা বলা যায়। বাগদাদের বানু মুসা ভাতৃত্রয়, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাদি নিয়ে কাজ করেন ও ইসমাইল আল-জাজারি অটোমাটা বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রবিদ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে সাফল্য পান। আল-জাজারির বিখ্যাত কিছু আবিস্কার যেমন হাতি-ঘড়ি, দুর্গ-ঘড়ি ইত্যাদির কার্যনীতি প্রোগ্রামযোগ্য অ্যানালগ কম্পিউটারের মতো ছিল ও আজও বিস্ময়ের উদ্রেক করে।

১৭ শতকের প্রথম দিকে জন নেপিয়ার কর্তৃক লগারিদম পদ্ধতি আবিষ্কারের পর তৎকালীন বিজ্ঞানীদের অনেকের মধ্যে বিভিন্নরকম গণনাযন্ত্র বানানোর আগ্রহ দেখা দেয়। উইলহেল্ম শিকার্ড ১৬২৩ সালে একটি গণনাযন্ত্রের নকশা করেন কিন্তু আগুন লেগে নির্মাণের প্রোটোটাইপটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা সম্পূর্ণতা পায় না। ১৬৪০ সাল নাগাদ ফরাসী গণিতবিদ ব্লায়েস পাস্কাল একটি যান্ত্রিক যোগফল গণনাকারী যন্ত্র বানাতে সক্ষম হন যার ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার হয় গ্রিক গণিতবিদ হিরোন অফ আলেকজান্দ্রিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি নকশা। ১৬৭২ সালে গটফ্রিড উইলহেল্ম লিবিনিজ স্টেপড্ রেকনার(ডিজিটাল সংখ্যা গণকযন্ত্র) আবিষ্কার করেন যা ১৬৯৪ সালে সম্পন্ন হয়।

১৮৩৭ খ্রীষ্টাব্দে চার্লস ব্যাবেজ একটি বিশ্লেষণধর্মী বা অ্যানালিটিকাল ইঞ্জিন-এর খসড়া তৈরী করেন যার মূল সুবিধাগুলি ছিল - এক্সপ্যান্ডেবেল মেমরি (বিস্তারযোগ্য যান্ত্রিক স্মৃতিশক্তি), গাণিতিক হিসাব করার ক্ষমতা, যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, লুপ ও কন্ডিশনাল ব্রাঞ্চিং(যা আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষাগুলিতে পাওয়া যায়) ইত্যাদি। এই যন্ত্রটিকে বিজ্ঞানীরা বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার বলে স্বীকার করে থাকেন এবং ট্যুরিংসমতুল্য বলেও মনে করা হয়।

কম্পিউটারের উদ্ভাবন

১৯২০ সালের আগে পর্যন্ত, কম্পিউটার বলতে কেরাণী জাতীয় কর্মচারীদের (সাধারণত মহিলা) বোঝান হত। এই কর্মচারীদের কাজ ছিল বাণিজ্যিক অফিস, সরকারী কার্যালয়, গবেষণাকেন্দ্র, সামরিক বাহিনীর জন্য, ক্যালেন্ডার প্রস্তুতি বা জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদির প্রয়োজনে বিভিন্ন ছোটবড় গণনাকার্য সম্পন্ন করা।

১৯৩০ এর দশকে কম্পিউটিং মেশিন কথাটি এক ধরনের যন্ত্রকে বোঝাতে শুরু করে যা সেইসব গণনাকারী কর্মচারীদের কাজ যান্ত্রিকভাবে করতে পারতো। তৎকালীন চার্চ-ট্যুরিং থীসিস অনুযায়ী, কোন গাণিতিক সমাধানপদ্ধতিকে তখনই এফেক্টিভলি ক্যালকুলেবেল (effectively calculable) অর্থাৎ গণনাযোগ্য বলা যায় যা কোন পূর্বার্জিত জ্ঞান ছাড়াই শুধুমাত্র কাগজ-কলমে অণুসরন করে সমাধান করা সম্ভব। কম্পিউটিং মেশিন-এর ধারণা এই তত্ত্বের অনুরুপ ছিল। এই যন্ত্রগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা হত - অ্যানালগ (যাতে মূলতঃ তুলনার সাহায্যে কোন গণনা বা পাঠ নেওয়া হয়) ও ডিজিটাল (যাতে গণনা বা পাঠ নেওয়া, প্রকাশ করা এবং তথ্য বাঁচিয়ে রাখা সবই হয় সংখ্যার সাহায্যে)।

১৯৪০ এর দশকে কম্পিউটিং মেশিন কথাটিকে সরিয়ে কম্পিউটার শব্দটি জায়গা করে নেয়। এই যন্ত্রগুলি যান্ত্রিক উপায়ে মানে শুধু নির্দেশ মেনে বিভিন্ন গণনাকার্য সম্পন্ন করতো যা ১৯৩৬-এ প্রকাশিত ট্যুরিং মেশিন (জনক অ্যালান টুরিং) মতো কার্যপদ্ধতি বিশিষ্ট ছিল।

কম্পিউটার আবিষ্কারের পথিকৃত

ক্যালকুলেটর (Calculator)

প্রাচীন রোমে গণনার জন্য ব্যবহার করা হত নুড়ি। রোমান ভাষায় নুড়িকে বলা হত ক্যালকুলি (Calculi)। ক্যালকুলি শব্দ থেকেই ইংরেজী ক্যালকুলেটর (Calculator) শব্দের উৎপত্তি। ১৬৭১ সালে জার্মান গণিতবিদ গটফ্রাইড ভন লিবজিন (Gottfried Von Leibnitz) সিলিন্ডার আকৃতিবিশিষ্ট গিয়ার ব্যবহার করে একটি যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। এটি বিশ্বের প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর । “Stepped Reckoner” নামে পরিচিত এই হিসাবযন্ত্রটির সাহায্যে পৌনঃপুনিক যোগ, গুণ এবং ভাগ করা যেত। ১৮২০ সালে ফ্রান্সের টমাস দ্য কলমার লিবজিনের যন্ত্রের অনুরূপ ‘টমাস এরিথোমিটার’ নামক যন্ত্র তৈরি করেন। এটি ছিল সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক হস্তচালিত ক্যালকুলেটর ।

মাইক্রোপ্রসেসর

যুক্তরাষ্ট্রের ইনটেল কর্পোরেশন ড. টেড হফ (Dr. Ted Hoff) এর তত্ত্বাবধানে ১৯৭১ সালে প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি করে যার নাম ইনটেল-৪০০৪। এটি ছিল বাণিজ্যিকভাবে প্রাপ্ত বিশ্বের প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর। ইনটেল-৪০০৪ ছিল মাত্র ৪ বিটের। মাইক্রোপ্রসেসর হল একক ভিএলএসআই (VLSI-Very Large Scale Integration) সিলিকন চিপ (Chip)।

কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউকে ভিএলএসআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একীভূত করে মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি করা হয়। মাইক্রোপ্রসেসর মাইক্রো কম্পিউটার বা মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক পদ্ধতির মস্তিষ্ক’ বা ‘ব্রেইন’ স্বরূপ। মাইক্রোপ্রসেসরের প্রকৃতি ও ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কম্পিউটারের ক্ষমতা এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য।

মাইক্রোপ্রসেসর এর প্রধান প্রধান কাজগুলো:

মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে মাইক্রো কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কাজ সমাধান করা হয়। নিচে এ ধরনের কয়েকটি কাজের নাম দেয়া হল :

১. কম্পিউটারের সব অংশের নিয়ন্ত্রণ ও সময় নির্ধারণ সংকেত প্রদান করা;

২. মেমোরি ও ইনপুট/আউটপুট ডিভাইসের মধ্যে ডেটার আদান-প্রদান করা;

৩. মেমোরি থেকে ডেটা ও ইনস্ট্রাকশন নেয়া;

৪. ইনস্ট্রাকশন ডিকোড করা;

৫. গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ বা সিদ্ধান্তমূলক কাজ করা;

৬. কম্পিউটারের মেমোরিতে সংরক্ষিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা ও

৭. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সাথে সমন্বয় সাধন ইত্যাদি।

এসব প্রক্রিয়ার জন্য মাইক্রোপ্রসেসর চিপের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় লজিক সার্কিট থাকে। মাইক্রোপ্রসেসরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকে প্রোগ্রামের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের মেমোরি অংশে সংরক্ষণ করা হয়।

মাইক্রোকম্পিউটারের জনক এ এইচ এডওয়ার্ড রবার্ট ১৯৭৫ সালে তড়িৎ প্রকৌশলী হেনরি এডওয়ার্ড রবার্ট কর্তৃক ডিজাইন। Altair-880 কে প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক কম্পিউটার বা। মাইক্রোকম্পিউটার হিসাবে গণ্য করা হয়। এজন্য হেনরি এডওয়ার্ড রবার্টকে মাইক্রোকম্পিউটারের জনক বলা হয়। এতে ইনটেল-৮০৮০ মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছিল।

কম্পিউটার সফটওয়্যার নির্মাতাদের মধ্যে বর্তমানে যে কোম্পানীটি সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে তার নাম হল মাইক্রোসফট। ১৯৭৭ সালে বিল গেটস এবং তার বন্ধু পল অ্যালেন মিলে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। আশির দশকের শুরুতে আই. বি. এম (IBM) এককব্যবহারকারীর কাজের জন্য কম্পিউটার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে মাইক্রোসফট এর MS-DOS ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮১ সালে আই. বি. এম থেকে বের হয় পিসি (PC) নামক কম্পিউটার যা কম্পিউটার জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

অ্যাবাকাসঃ
ইতিহাস ঘেটে যতটুকু জানা যায়, প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে চীনাদের তৈরি অ্যাবাকাস নামক গণনাকারী যন্ত্রটিই প্রথম গণনাকারী যন্ত্র । যাকে কম্পিউটারের পূর্বপুরুষ বলা হয়। তখন থেকে আজ অবধি অনেক পর্যায় অতিক্রম করে বর্তমান আধুনিক কম্পিউটার । আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে জাপানে অ্যাবাকাসকে বলা হয় সারোবান রাশিয়ায় বলা হয় স্কোসিয়া। গ্রিক, রোমান এবং মিশরীয়রা অ্যাবাকাস ব্যবহার করলেও তাঁদের হিসাব পদ্ধতিতে শূন্যকে সূচনা করার কোন পদ্ধতি ছিল না। ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম শূন্যকে একটি চিহ্ন প্রদান করে হিসাব পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এ সময় দশভিত্তিক হিসাব পদ্ধতি শুরু হলেও অংকগুলোর কোন স্থানিক মান ছিল না। ৫০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ভারতবর্ষে দশভিত্তিক হিসাব প্রণালীতে অংক গুলোর স্থানিক মান দেওয়া হয়।

নেপিয়ারের অস্থি (Napier's bones)

স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার ১৬১৪ সালে লগারিদম (Logarithm) এর উদ্ভাবন করেন। এই আবিস্কার গুণ, ভাগ, বর্গ, বর্গমূল, ঘনমূল নিরূপনের কাজ অনেক সহজ করে দেয়। লগারিদমভিত্তিক হিসাবকার্যের জন্য নেপিয়ার যে সংখ্যাচিহ্নিত দন্ডগুলো ব্যবহার করেছিলেন সেগুলো নেপিয়ারের অস্থি বা দন্ড (Napier's bones or rods) নামে পরিচিত।

স্লাইড রুল (Slide rule)
নেপিয়ারের লগারিদমের সারণী ব্যবহার করে উইলিয়াম অটরেড (William Oughtena। ১৬৩০ সালে প্রথম বৃত্তাকার সাইড রুল আবিস্কার করেন।

পাঞ্চকার্ড (Punched Card):
১৮০১ সালে বস্ত্রশিল্পে নকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য পাঞ্চকার্ডের ব্যবহার শুরু হয় । ফ্রান্সের জোসেফ মরী জেকাড (Joseph Marie lacquard )পাকার্ড ব্যবহার শুরু করেন।

কম্পিউটারের জনক স্যার চার্লস ব্যাবেজ
আধুনিক কম্পিউটারের মৌলিক রূপরেখা তৈরি করেন ব্রিটিশ গণিত বিশারদ চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)। ১৮৩৩ সালে তিনি পূর্ব প্রজন্মের সব যন্ত্রগণকের জন্য স্মৃতিভান্ডারের। প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ‘অ্যানালিটিকেল’ নামক একটি যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন। বিভিন্ন কারণে তাঁর এ প্রচেষ্টা বাস্তব রূপদানে সমর্থ না হলেও তার এ পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করেই আজকের আধুনিক কম্পিউটার আবিস্কৃত হয়েছে।

এ কারণে চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের আদি পিতা বা কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে।

প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার লেডি এ্যাডা অগাস্টা ল্যাভলেস
অ্যানালিটিকেল ইঞ্জিনে সাধারণ এসেম্বলি ভাষায় (Assembly Language) প্রোগ্রাম করার ব্যবস্থা ছিল এবং সফটওয়্যার দরকার হতো। বিখ্যাত ব্রিটিশ কবি লর্ড বায়রণের কন্যা এ্যাডা অগাস্টা ল্যাভলেস পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার। প্রোগ্রামিং ভাষা এ্যাডা তাঁরই নামানুসারে নামকরণ করা হয়।

এবিসি কম্পিউটার Atanassoff Berry Computer
১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেইট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এটানাসফ ( Jhon Atalassoff) এবং তার ছাত্র ক্লিফোর্ড বেরি (Cliffod Berry) ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে বাইনারী গণিতভিত্তিক একটি ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার তৈরি করে। আবিষ্কারিকের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় AtanaSSoff Beny Computer, সক্ষেপে বলা হয় এবিসি (ABC)।

সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার ইনিয়াক-১ (ENIAC-1)
১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জন মউসলি এবং তার এক ছাত্র প্রেসপার একার্ট ENIAC(Electronic Numerical Integrator and Calculator) IGT তৈরি করেন প্রথম প্রজন্মের ডিজিটাল কম্পিউটার। ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরীয় গণিতবিদ জন ভন নিউম্যান সংরক্ষিত প্রোগ্রাম’ (Internal Stored Program) ধারণাটি উদ্ভাবন করেন। তিনিই প্রথম কম্পিউটারের তথ্য ও নির্দেশ সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

New Posts

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী লেকচার শীট আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী লেকচার শীট ডাউনলোড করুন খুব সহজেই নিচের বাটনে ক্ল...